একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে দুটি আইফোন চালানোর সুবিধা আনছে অ্যাপল। আইওএস ২৭-এর আইফোন হ্যান্ডঅফ ফিচারের মাধ্যমে সমর্থিত ক্যারিয়ারের গ্রাহকরা একই নম্বর থেকে দুই ডিভাইসে কল ও মেসেজের সুবিধা পেতে পারেন। ফলে বারবার সিম বা ই-সিম বদলানোর ঝামেলা কমবে। তবে ফিচারটি ব্যবহার করতে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত ও ক্যারিয়ার সাপোর্ট প্রয়োজন।
কী এই আইফোন হ্যান্ডঅফ?
ধরুন, আপনার কাছে দুটি আইফোন রয়েছে। একটি নিয়মিত ব্যবহার করেন, অন্যটি রাখেন অফিস, ভ্রমণ বা ব্যাকআপ হিসেবে। এতদিন একই নম্বর দুই ফোনে ব্যবহার করতে আলাদা ব্যবস্থা প্রয়োজন হতো। আইফোন হ্যান্ডঅফ সেই প্রক্রিয়াকে সহজ করার লক্ষ্যেই তৈরি। ফিচারটি সক্রিয় থাকলে দুটি আইফোন একই মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী যে ফোনটি ব্যবহার করছেন, সেটি থেকেই ওই নম্বরের কল ও মেসেজের সুবিধা নেওয়া সম্ভব হবে।
কীভাবে কাজ করবে?
এই সুবিধা ব্যবহার করতে দুটি আইফোনেই আইওএস ২৭ বা পরবর্তী সংস্করণ থাকতে হবে। পাশাপাশি দুই ডিভাইসকে একই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে হবে। আইক্লাউড, ফেসটাইম এবং আইমেসেজে একই অ্যাপল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করাও প্রয়োজন। সেটআপের সময় একটি ফোনকে প্রাইমেরি এবং অন্যটিকে সেকেন্ডারি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। মূল মোবাইল সংযোগ সাধারণত প্রাইমেরি আইফোনে থাকে। তবে ক্যারিয়ার এই সুবিধা সমর্থন করলে দুই ফোনেই নিজস্ব ই-সিম ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে।
কীভাবে সেটআপ করবেন?
প্রথমে দুটি আইফোন পাশাপাশি রেখে প্রয়োজনীয় ফোনটি আনলক করতে হবে। এরপর যেতে হবে- সেটিংস > সেলুলার > সেট আপ সেলুলার/অ্যাড ই- সিম।
ডিভাইস ও ক্যারিয়ার অনুযায়ী এখানে আইফোন হ্যান্ডঅফ-সংক্রান্ত অপশন দেখা যেতে পারে। এরপর ইউজ নাম্বার অন দিজ আইফোন অ্যান্ড অ্যানাদার নির্বাচন করে স্ক্রিনে দেখানো নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। সেটআপ শেষ হলে কোন ফোনটি প্রাইমেরি এবং কোনটি সেকেন্ডারি হবে, সেটিও নির্ধারণ করা যাবে। ফিচার সক্রিয় হওয়ার পর ফোনে এর একটি নোটিফিকেশনও দেখা যেতে পারে।
সব সিমে কি কাজ করবে?
এখানেই রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আইফোন হ্যান্ডঅফ শুধু অ্যাপলের সফটওয়্যার ফিচার নয়; এর জন্য মোবাইল অপারেটরের সহযোগিতাও দরকার। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে টি-মোবাইল এবং জার্মানিতে টেলিকম এই সুবিধার জন্য সমর্থন দিয়েছে। টি-মোবাইল-এর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাসিক চার্জও রয়েছে। তাই বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশে এই ফিচার ব্যবহার করা যাবে কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের সমর্থনের ওপর নির্ভর করবে।
কারা বেশি উপকার পাবেন?
দুটি আইফোন ব্যবহার করেন এমন মানুষের জন্য ফিচারটি বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। যেমন, কেউ নতুন আইফোন কেনার পর পুরোনো ফোনটি ভ্রমণ বা ব্যাকআপ হিসেবে রাখতে পারেন। আবার অফিসের কাজের জন্য একটি এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আরেকটি আইফোন রাখা ব্যক্তিরাও একই নম্বর দুই ডিভাইসে ব্যবহারের সুবিধা পেতে পারেন।
রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতাও
তবে আইফোন হ্যান্ডঅফ চালু করলেই দুই ফোনের সব সুবিধা হুবহু এক হয়ে যাবে এমন নয়। যেমন, অ্যাপল ওয়াচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য আইফোনে চলে যাবে না। একইভাবে ওয়ালেটের কিছু আইডি ও পাস দুই ডিভাইসেই একসঙ্গে পাওয়া নাও যেতে পারে। অর্থাৎ, অ্যাপলের নতুন এই ফিচার দুটি আইফোনের মধ্যে একই মোবাইল নম্বর ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সহজ করতে পারে। কিন্তু এর বাস্তব সুবিধা পেতে আইওস সংস্করণ, অ্যাপল অ্যাকাউন্ট, ওয়াই-ফাই এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে ক্যারিয়ার সাপোর্ট সবকিছুই মিলতে হবে।
সংবাদ শিরোনাম
এক নম্বর দিয়েই চলবে ২টি আইফোন, কিন্তু কীভাবে?
-
আইটি ডেস্ক: - আপডেট সময় ০৮:৫৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 20
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ


























