কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা ছবি তৈরির প্রযুক্তি নয়। লেখালেখি, ডিজাইন, হিসাব, গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে সফটওয়্যার তৈরির মতো কাজেও এআই ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে একটি প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে এআই কি একদিন মানুষের চাকরির জায়গা দখল করবে?
সম্প্রতি লন্ডনে ক্যানভার এআই ভিশন অনুষ্ঠানে এক বিক্ষোভকারীর বক্তব্য এই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি এআইয়ের সম্ভাব্য প্রভাব, মানুষের কাজ ও সৃজনশীলতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ‘পুল দ্য প্লাগ’ নামের একটি সংগঠন পরে জানায়, তারা ওই অনুষ্ঠানে প্রতিবাদ করেছিল। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এআই নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়।
তবে এআই মানুষের সব কাজ নিয়ে নেবে এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো নেই। বরং গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে এআই পুরো চাকরি বাদ দেওয়ার বদলে চাকরির ভেতরের কিছু কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২৫ সালের গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় চারজন কর্মীর মধ্যে একজন এমন পেশায় রয়েছেন, যেখানে জেনারেটিভ এআইয়ের কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তবে গবেষণাটির মূল পর্যবেক্ষণ হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষের কাজ পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার চেয়ে কাজের ধরন বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
বিশেষ করে অফিসের নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলোতে এআইয়ের প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তথ্য প্রবেশ, নথি তৈরি, সাধারণ হিসাব, লেখার খসড়া কিংবা কিছু ধরনের গ্রাহকসেবার কাজ এআই দিয়ে দ্রুত করা সম্ভব। ফলে একজন কর্মীকে একই কাজের জন্য আগের তুলনায় কম সময় দিতে হতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই পরিমাণ কাজ করতে কম কর্মীও প্রয়োজন হতে পারে।
তবে এর পাশাপাশি নতুন ধরনের কাজও তৈরি হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম-এর চাকরির ভবিষ্যৎ প্রতিবেদন ২০২৫ অনুযায়ী, প্রযুক্তি ও অন্যান্য বড় পরিবর্তনের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ১৭ কোটি নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে, বিপরীতে ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি স্থানচ্যুত হতে পারে। অর্থাৎ চাকরির বাজারে পরিবর্তন আসবে, কিন্তু সেটি শুধু চাকরি হারানোর গল্প নয়।
এআইয়ের কারণে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন সম্ভবত হবে দক্ষতার চাহিদায়। ২০২৬ সালের আইএলও-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সঙ্গে ডিজিটাল ও এআই-সংক্রান্ত দক্ষতার পাশাপাশি সমস্যা সমাধান, মানিয়ে নেওয়া, সৃজনশীলতা ও সামাজিক দক্ষতার গুরুত্বও বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে প্রশ্নটি হয়তো শুধু ‘এআই কি মানুষের কাজ কেড়ে নেবে?’ এখানে আটকে থাকবে না। বরং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, মানুষ এআইয়ের সঙ্গে কাজ করার জন্য কতটা প্রস্তুত।
লন্ডনের ওই বিক্ষোভ দেখিয়ে দিয়েছে, এআই নিয়ে শুধু প্রযুক্তিগত উত্তেজনাই নেই; কর্মসংস্থান, সৃজনশীলতা, পরিবেশ ও প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। অন্যদিকে গবেষণাগুলো বলছে, পরিবর্তনটি জটিল কিছু কাজ কমতে পারে, কিছু কাজের ধরন বদলাতে পারে, আবার নতুন কাজও তৈরি হতে পারে। তাই এআইকে ঘিরে ভবিষ্যৎ কর্মজগতের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা সম্ভবত ‘মানুষ বনাম মেশিন’ নয়, বরং মানুষের কাজের ধরন বদলে যাওয়া।
সংবাদ শিরোনাম
এআই কি সত্যিই মানুষের কাজ কেড়ে নিচ্ছে?
-
আইটি ডেস্ক: - আপডেট সময় ১১:৫৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 63
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ
























