পেশাগত দায়িত্বে অসাধারণ দক্ষতা, সাহসিকতা ও তদন্তে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা ২০২৫ অর্জন করেছেন পটুয়াখালীর বাউফলের কৃতি সন্তান এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম মেহেদী হাসান। চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, অস্ত্র উদ্ধার এবং টঙ্গীতে আলোচিত মুফতি মহিবুল্লাহ মিয়াজী অপহরণ মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ মর্যাদাপূর্ণ পদকের জন্য নির্বাচিত হন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপনে ২০২৫ সালের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। পদক প্রদানের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের কর্মদক্ষতা, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত ও উল্লেখযোগ্য কর্মকা- বিবেচনা করা হয়েছে। ২৬ শে অক্টোবর শনিবার ২০২৬ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হাত থেকে পিপিএম-সেবা পদক গ্রহণ করেন এসআই এস এম মেহেদী হাসান। পদক গ্রহণের এ মুহূর্তটি তার দীর্ঘদিনের পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতির পাশাপাশি বাউফলবাসীর জন্যও আনন্দ ও গর্বের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এসআই মেহেদী হাসানের উল্লেখযোগ্য তদন্ত সাফল্যের মধ্যে রয়েছে টঙ্গীর স্টেশন রোডে ব্যাগে পাওয়া আট টুকরা মরদেহ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ২০২৫ সালের আগস্টে টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকা থেকে দুটি ট্রাভেল ব্যাগে কালো পলিথিনে মোড়ানো মাথাবিহীন আট টুকরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী তদন্তে ভুক্তভোগীর পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য বেরিয়ে আসে। মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, আসামিদের দেওয়া তথ্য যাচাই এবং ঘটনাস্থলের আলামত উদ্ধারে পুলিশ সদস্যদের তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তদন্তের একপর্যায়ে গাছা এলাকা থেকে একজনকে আটক করে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর বনমালা রোডের একটি বাসার টয়লেটের ফলস ছাদ থেকে নিহতের মাথা ও পরিধেয় কাপড় উদ্ধার করা হয়। মুফতি মহিবুল্লাহ মামলার তদন্তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা টঙ্গীর টিঅ্যান্ডটি বাজার এলাকার মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ মিয়াজী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটিও সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রথমদিকে তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে এবং তাকে পঞ্চগড় থেকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে ঘটনাটির ভিন্ন চিত্র সামনে আসে। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে এসআই এস এম মেহেদী হাসান দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্যসহ অন্যান্য বিষয় বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। পরে আদালতে মুফতি মহিবুল্লাহর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। মামলাটির তদন্তে এসআই মেহেদী হাসানের ভূমিকার বিষয়টি সংবাদ প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। আগেও পেয়েছেন জিএমপির বিশেষ সম্মাননা দুটি আলোচিত মামলার রহস্য উদঘাটনে ভূমিকার জন্য এসআই মেহেদী হাসানকে এর আগে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকেও বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়। টঙ্গী পূর্ব থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান এবং তদন্ত কর্মকর্তা তাকে এ সম্মাননা প্রদান করেন বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রেও তার সাফল্য রয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ভূমিকা রাখেন। বাউফলবাসীর জন্য গর্বের এসআই এস এম মেহেদী হাসানের পিপিএম-সেবা পদক অর্জনের খবরে তার জন্মস্থান বাউফলে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, কঠিন ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে তার পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনে তার এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বাউফলের জন্যও গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতে আরও দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে জনসেবায় ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে এ পদক তাকে অনুপ্রাণিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বিপিএম-সেবা, পিপিএম এবং পিপিএম-সেবাÑএই চার ক্যাটাগরিতে মোট ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা ২১ সেপ্টেম্বরের সরকারি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
সংবাদ শিরোনাম
বাউফলের কৃতি সন্তান এসআই মেহেদী হাসানের পিপিএম-সেবা পদক অর্জন
-
বশির আলম (টঙ্গী) গাজীপুর - আপডেট সময় ০৭:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 16
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ
























