ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের চারা ব্যাপক চাহিদা Logo জামালপুরে প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ বঞ্চিত ৫১ জন আমরণ অনশনে Logo খাল খনন নামে ৩০ লাখ টাকার বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ Logo অফিস বন্ধ করে সদস্যদের তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন সমিতির সভাপতি Logo টুঙ্গিপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান গাঁজা সেবনে ১ মাস, ইয়াবা সেবনে ৩ মাসের কারাদন্ড Logo গাইবান্ধায় প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে মানববন্ধন Logo কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ফ্রেন্ডশিপের ভেড়া বিতরণ Logo তাড়াশে অতিরিক্ত টাকা দিলেই মিলছে গুদামজাত সার Logo ধনবাড়ীতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান Logo ৯ প্রতারক গ্রেফতার, উদ্ধার নগদ টাকা-২০ সিম-১১ মোবাইল

অফিস বন্ধ করে সদস্যদের তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন সমিতির সভাপতি

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ও কালীগঞ্জের জাঙ্গালিয়া ইউনয়ন সহ আশপাশের মোট সাতটি ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার সদস্যের সমিতি শুভেচ্ছা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড। শতকরা ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার প্রলোভন দেখানোর কারণে সদস্যরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সমিতিতে রাখেন। প্রায় দশ কোটি টাকা মূলধনের এই সমিতির সভাপতি গত ১৭ সেপ্টেম্বর অফিস বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে গেছেন সকল সদস্যরা। সোমবার(২৮ সেপ্টেম্বর) রাওনাট বাজারে সমিতির অফিসে গিয়ে এই তথ্য জানা যায়। সরেজমিন প্রকাশ, তিন তলা বিশিষ্ঠ শুভেচ্ছা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নীচে দোকানপাট ও উপর তলাতে অফিস সহ সবই তালাবদ্ধ। এই সমিতিকে ২০১০ সালে ১০৯৮ নম্বর রেজিষ্ট্রেশন দেয় সমবায় অফিস। এর পর থেকে সমিতিটি আশপাশের সাতটি ইউনিয়নের শত শত মানুষকে সদস্য করে। সদস্যদেরকে শতকরা ১৫ ভাগ মুনাফা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মূলধন বৃদ্ধি করে। বর্তমানে এই সমিতির মূলধন দশ কোটি টাকার মত বলে জানিয়েছেন সদস্যরা। এই সমিতির বর্তমান সভাপতি আবুল হাসেম(৪৬) কাপাসিয়া থানার দড়িমেরুন গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আবুল হাসেম অফিস বন্ধ করে তালা মেরে পালিয়ে যায়। সেই থেকে অফিসটি বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন সমিতির সদস্যরা অফিসে এসে ভীড় করলেও এখন আর ভীড় নেই। তাদের কেউ কেউ থানা ও আদালতে মামলা করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, আবুল হাসেম ভারতের বারাসাত এলাকায় জনৈক অশিত নামে এক বন্ধুর বাড়িতে চলে গেছেন। কোটি কোটি টাকা নিয়ে তিনি পালিয়েছেন। বর্তমানে সমিতির সদস্যরা টাকার জন্য পাগলের মত ঘুরছেন। তার এই পলায়নের পেছনে স্থানীয় স্থানীয় কিছু লোক ও সমিতির একাধিক কর্মকর্তা জড়িত বলে অভিযোগ তাদের। সমিতির সদস্য স্থানীয় বরুন গ্রামের সালমা বেগম ও সুবর্ণা আক্তার জানান, তারা দুই জনে এক লাখ ৮ হাজার টাকা রেখেছিলেন। সভাপতি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। একই ধরণের অভিযোগ চাপাত মাঝিবাড়ি গ্রামের নিখিল দাসের। নিখিল জানান, তিনি দুই লাখ ১০ হাজার টাকা রেখেছিলেন। ফুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল হকের মেয়ে নাম না বলে জানান, তিনি ছয় লাখ টাকা রেখে এখন পাগলপ্রায়। একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গাজীপুর জেলা সমবায় অফিসের অধীন সমিতিগুলোতে পরিদর্শন, নির্বাচন সহ নানা বিষয়ে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। নতুন সমিতির রেজিষ্ট্রেশন করতে দেড় লাখ টাকা দিয়েও রেজিষ্ট্রেশন না পাওয়ার লিখিত অভিযোগও তদন্তাধীন আছে। এসব বিষয়ে কেউ কোন বক্তব্যও দেয়নি। তিন কোটি টাকা নিয়ে সভাপতি উধাও বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা সমবায় অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, এই সমিতির সভাপতি আবুল হাসেম তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তার ও তার স্ত্রীর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি কিভাবে অফিস খোলা যায়। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ সদস্যরা থানা-পুলিশ করছেন। আমরাও তদন্ত করছি। সমিতির সদস্য সংখ্যা গত বছর ছিল ৪৯৬ জন তবে এবার কত সেটা বলতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা সমবায় অফিসার আরিফা সুলতানা শিপা গণমাধ্যমকে বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ওই সমিতির কতজন সদস্য সেটাও জানা নেই তার। ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের য়ুগ্ম নিবন্ধক মো: আব্দুল ওয়াহেদ জানান, এ রকম ঘটনা ঘটার পর যদি জেলা সমবায় অফিসার কিছু জানেন না বলে বলে থাকেন তবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুরো বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি বলে জানান তিনি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের চারা ব্যাপক চাহিদা

অফিস বন্ধ করে সদস্যদের তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন সমিতির সভাপতি

আপডেট সময় ০২:৩৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ও কালীগঞ্জের জাঙ্গালিয়া ইউনয়ন সহ আশপাশের মোট সাতটি ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার সদস্যের সমিতি শুভেচ্ছা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড। শতকরা ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার প্রলোভন দেখানোর কারণে সদস্যরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সমিতিতে রাখেন। প্রায় দশ কোটি টাকা মূলধনের এই সমিতির সভাপতি গত ১৭ সেপ্টেম্বর অফিস বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে গেছেন সকল সদস্যরা। সোমবার(২৮ সেপ্টেম্বর) রাওনাট বাজারে সমিতির অফিসে গিয়ে এই তথ্য জানা যায়। সরেজমিন প্রকাশ, তিন তলা বিশিষ্ঠ শুভেচ্ছা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নীচে দোকানপাট ও উপর তলাতে অফিস সহ সবই তালাবদ্ধ। এই সমিতিকে ২০১০ সালে ১০৯৮ নম্বর রেজিষ্ট্রেশন দেয় সমবায় অফিস। এর পর থেকে সমিতিটি আশপাশের সাতটি ইউনিয়নের শত শত মানুষকে সদস্য করে। সদস্যদেরকে শতকরা ১৫ ভাগ মুনাফা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মূলধন বৃদ্ধি করে। বর্তমানে এই সমিতির মূলধন দশ কোটি টাকার মত বলে জানিয়েছেন সদস্যরা। এই সমিতির বর্তমান সভাপতি আবুল হাসেম(৪৬) কাপাসিয়া থানার দড়িমেরুন গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আবুল হাসেম অফিস বন্ধ করে তালা মেরে পালিয়ে যায়। সেই থেকে অফিসটি বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন সমিতির সদস্যরা অফিসে এসে ভীড় করলেও এখন আর ভীড় নেই। তাদের কেউ কেউ থানা ও আদালতে মামলা করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, আবুল হাসেম ভারতের বারাসাত এলাকায় জনৈক অশিত নামে এক বন্ধুর বাড়িতে চলে গেছেন। কোটি কোটি টাকা নিয়ে তিনি পালিয়েছেন। বর্তমানে সমিতির সদস্যরা টাকার জন্য পাগলের মত ঘুরছেন। তার এই পলায়নের পেছনে স্থানীয় স্থানীয় কিছু লোক ও সমিতির একাধিক কর্মকর্তা জড়িত বলে অভিযোগ তাদের। সমিতির সদস্য স্থানীয় বরুন গ্রামের সালমা বেগম ও সুবর্ণা আক্তার জানান, তারা দুই জনে এক লাখ ৮ হাজার টাকা রেখেছিলেন। সভাপতি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। একই ধরণের অভিযোগ চাপাত মাঝিবাড়ি গ্রামের নিখিল দাসের। নিখিল জানান, তিনি দুই লাখ ১০ হাজার টাকা রেখেছিলেন। ফুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল হকের মেয়ে নাম না বলে জানান, তিনি ছয় লাখ টাকা রেখে এখন পাগলপ্রায়। একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গাজীপুর জেলা সমবায় অফিসের অধীন সমিতিগুলোতে পরিদর্শন, নির্বাচন সহ নানা বিষয়ে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। নতুন সমিতির রেজিষ্ট্রেশন করতে দেড় লাখ টাকা দিয়েও রেজিষ্ট্রেশন না পাওয়ার লিখিত অভিযোগও তদন্তাধীন আছে। এসব বিষয়ে কেউ কোন বক্তব্যও দেয়নি। তিন কোটি টাকা নিয়ে সভাপতি উধাও বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা সমবায় অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, এই সমিতির সভাপতি আবুল হাসেম তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তার ও তার স্ত্রীর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি কিভাবে অফিস খোলা যায়। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ সদস্যরা থানা-পুলিশ করছেন। আমরাও তদন্ত করছি। সমিতির সদস্য সংখ্যা গত বছর ছিল ৪৯৬ জন তবে এবার কত সেটা বলতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা সমবায় অফিসার আরিফা সুলতানা শিপা গণমাধ্যমকে বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ওই সমিতির কতজন সদস্য সেটাও জানা নেই তার। ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের য়ুগ্ম নিবন্ধক মো: আব্দুল ওয়াহেদ জানান, এ রকম ঘটনা ঘটার পর যদি জেলা সমবায় অফিসার কিছু জানেন না বলে বলে থাকেন তবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুরো বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি বলে জানান তিনি।