মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীর বেউথা ঘাটে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত ও ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। শনিবার আবহমান বাংলার এই লোকজ উৎসব ঘিরে পুরো মানিকগঞ্জ জুড়ে প্রবাহমান ছিল আনন্দের বন্যা। মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাইচে অংশ নিতে আগেরদিনই নৌকাগুলো বেউথা ঘাটে নোঙর করে ছিল। দিনভর কালীগঙ্গার বুকে ৪টি ভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ২২টি নৌকার তুমুল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় স্থান পায় ১০টি খেল্লা-গয়ইটা, ৫টি ঘাসি-ছিপা, ৪টি ছান্দি এবং ৩টি পানসি নৌকা। কেবল নৌকাই নয়, দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে বাইচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৮০ ও ১২৫ হাত দৈর্ঘ্যের দুটি কলাগাছের ভেলা। এছাড়া, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বাড়াতে আয়োজন করা হয়েছে ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগিতা। নৌকাবাইচ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক এডভোকেট আ তা ম জহীর আলম খান লোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য, খাদ্যমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজ্ আফরোজা খানম রিতা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত ও মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাসসহ স্থানীয় শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মানিকগঞ্জের বেউথা ঘাটে সকাল ১০টায় বাইচে অংশগ্রহণকারী নৌকাগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে টোকেন তুলে দেওয়ার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি ঘোষিত হয়। দুপুর ১২টায় শুরু হয় ঘাসি ও খেল্লা নৌকার রোমাঞ্চকর বাছাই পর্ব। তবে, ছান্দি ও পানসি ক্যাটাগরির নৌকাগুলো কোনো বাছাই পর্ব ছাড়াই সরাসরি মূল পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এবারের বাইচের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল কুড়িগ্রামের রৌমারীর তরুণদের বাইচের খেল্লা নৌকা ‘মায়ের দোয়া’। নৌকার পরিচালক মজিবুর রহমান জানান, ভারতের মূল্যবান শাল কাঠ দিয়ে বিগত এক বছর ধরে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে এই নৌকাটি। এটিই নৌকাটির জীবনের প্রথম বাইচ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাগুয়ারচর গ্রাম থেকে রওনা হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদসহ একাধিক নদী পেরিয়ে টানা তিন দিন ভেসে তারা বেউথা ঘাটে পৌঁছান। দীর্ঘ পথযাত্রার ক্লান্তি ভুলে মানিকগঞ্জের মাটিতে প্রথমবার অংশ নিয়ে তারা বেশ উৎফুল্ল। এছাড়াও, টাঙ্গাইলের নাগরপুর, পাবনার সাঁথিয়াসহ বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। বাইচ পরিচালনার সদস্য-সচিব মাসুদ পারভেজ জানান, প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করতে আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি নৌকার জন্য স্মারক পিতলের কাপ এবং ১টি করে ‘৮ সিএফটি ফ্রিজ’ নিশ্চিত করা হয়েছে। খেল্লা/গয়ইটা ও ঘাসি/ছিটা ক্যাটাগরি: উভয় ক্যাটাগরিতে ১ম পুরস্কার ১০০ সিসির মোটর বাইক, ২য় পুরস্কার ১৬ সিএফটি ফ্রিজ এবং ৩য় পুরস্কার ১১ সিএফটি ফ্রিজ। বাছাই পর্বেও জন্যও অতিরিক্ত ফ্রিজ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ছান্দি ও পানসি ক্যাটাগরি: ১ম পুরস্কার হিসেবে ২টি ইলেকট্রিক বাইক, ২টি ১৬ সিএফটি ফ্রিজ ও ২টি ১১ সিএফটি ফ্রিজ দেয়া হয়েছে। ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ ক্যাটাগরিতে সেরা নৌকা ও ব্যক্তি রূপদানকারীদের দেয়া হয়েছে টেলিভিশন, প্রেসার কুকার ও রাইস কুকার। কালীগঙ্গার দুই পাড়ে লাখো মানুষের উপস্থিতি, নৌকার বৈঠার তাল আর মাঝিদের ছন্দময় গানে মুখরিত হয়ে উঠেছিল মানিকগঞ্জের বেউথা ঘাট।
সংবাদ শিরোনাম
মানিকগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ
-
মোঃ তজুমুদ্দিন মানিকগঞ্জ - আপডেট সময় ০৮:২৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- 8
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ



















