ঢাকা ০১:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দৌলতখানে গ্রামীণ সড়কের কোর নেটওয়ার্ক ও তথ্য যাচাই বিষয়ক কর্মশালা Logo মানিকগঞ্জে বাইচ প্রতিযোগিতায় মায়ের দোয়া নৌকা চ্যাম্পিয়ন Logo কুমিল্লায় অবৈধ ভাবে ইউনানী ঔষধ উৎপাদন কারখানা গড়ে উঠার অভিযোগ Logo কালীগঞ্জে চাকরিজীবী ছয় ভাইরাভাইয়ের ছয় বিঘার ফলবাগান Logo ফেসবুকে কর্নেল অলিকে হত্যার হুমকি, কিশোরগঞ্জে জাহানের গ্রেফতার দাবি Logo মাদক না ছাড়লে বাড়িতে টাঙানো হবে ‘এখানে সুলভ মূল্যে মাদক বিক্রি হয়’ ব্যানার Logo সুনামগঞ্জে আনারস চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের সাথে মতবিনিময় Logo রায়পুরায় ম্যারাথন প্রতিযোগিতা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা Logo শ্রীমঙ্গলে ক্রিকেট একাডেমি ও খেলোয়াড়দের জন্য নবনির্মিত ড্রেসিং রুম উদ্বোধন Logo টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে কেমন হচ্ছে পাঠদান

টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে কেমন হচ্ছে পাঠদান

স্কুলে যাওয়ার পরও নিয়মিত ক্লাস হলো না। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই অনেক ছাত্রীকে ফিরতে হলো বাড়িতে। কোনো শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা, কোনোটি আবার বন্ধ। এমনকি দশম শ্রেণির একটি কক্ষে পাওয়া গেল মাত্র চার শিক্ষার্থী। এ চিত্র গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা থাকলেও এ সময় বেশ কিছু ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের গেট দিয়ে বের হয়ে বাড়ির পথে যেতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, শিক্ষক দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের কারণে ওইদিন অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। নিয়মিত ক্লাসও হয়নি। ফলে দুপুর ১টার আগেই তাদের ছুটি দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসার পরও যদি নিয়মিত পাঠদান না হয় এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই বাড়ি ফিরতে হয়, তাহলে তাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে কি নাÑএমন প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকরাও। বিশেষ করে সরকারি বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময় ও নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ‘ছুটি কে দিলেন’Ñজানেন না প্রধান শিক্ষক নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলকিস আক্তার বলেন, তিনি শিক্ষক দিবসের একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন। দুপুর ১২টার পর বিদ্যালয়ে এসে পৌঁছান। শিক্ষার্থীরা কেন বিদ্যালয় থেকে চলে যাচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের আগাম ছুটি কে দিয়েছেনÑএ প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি অন্য শিক্ষকদের কাছে জানতে বলেন। ফলে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন, তা স্পষ্ট হয়নি। সাংবাদিক প্রবেশ নিয়েও দুই ধরনের বক্তব্য বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি জানতে সাংবাদিকরা সেখানে গেলে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে আপত্তি জানান প্রধান শিক্ষক। তিনি বিদ্যালয়ের গার্ডকে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং বিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে দাবি করেন। সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কে দিয়েছেন জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশনার কথা বলেন। পরে ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিদ্যালয়ে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। এরপর প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে সাংবাদিকদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে না দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম তালুকদারও এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। ফলে সাংবাদিক প্রবেশের বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা যায়। নিয়মিত পাঠদান নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম কোনো কোনো দিন দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। আবার কখনো বিকাল পর্যন্ত পাঠদান চলে। ফলে সরকারি বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকছেন কি না, নির্ধারিত সময়ে শ্রেণি কার্যক্রম চলছে কি না এবং বিশেষ কোনো আয়োজনের কারণে আগাম ছুটি দেওয়া হলে তার অনুমোদন নেওয়া হচ্ছে কি নাÑএসব বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, যে সময়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, সে সময় যদি তাদের বাড়ি ফিরে যেতে হয়, তাহলে সরকারি বিদ্যালয়ে তাদের জন্য নির্ধারিত শিক্ষা কার্যক্রম কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে? তদন্তের আশ্বাস শিক্ষা কর্মকর্তার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম তালুকদার বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পাঠদান, আগাম ছুটি দেওয়ার কারণ ও সিদ্ধান্ত এবং সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ওপর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশাও বেশি। তাই অভিযোগগুলো সত্য হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতখানে গ্রামীণ সড়কের কোর নেটওয়ার্ক ও তথ্য যাচাই বিষয়ক কর্মশালা

টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে কেমন হচ্ছে পাঠদান

আপডেট সময় ০১:১৩:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

স্কুলে যাওয়ার পরও নিয়মিত ক্লাস হলো না। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই অনেক ছাত্রীকে ফিরতে হলো বাড়িতে। কোনো শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা, কোনোটি আবার বন্ধ। এমনকি দশম শ্রেণির একটি কক্ষে পাওয়া গেল মাত্র চার শিক্ষার্থী। এ চিত্র গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা থাকলেও এ সময় বেশ কিছু ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের গেট দিয়ে বের হয়ে বাড়ির পথে যেতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, শিক্ষক দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের কারণে ওইদিন অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। নিয়মিত ক্লাসও হয়নি। ফলে দুপুর ১টার আগেই তাদের ছুটি দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসার পরও যদি নিয়মিত পাঠদান না হয় এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই বাড়ি ফিরতে হয়, তাহলে তাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে কি নাÑএমন প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকরাও। বিশেষ করে সরকারি বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময় ও নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ‘ছুটি কে দিলেন’Ñজানেন না প্রধান শিক্ষক নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলকিস আক্তার বলেন, তিনি শিক্ষক দিবসের একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন। দুপুর ১২টার পর বিদ্যালয়ে এসে পৌঁছান। শিক্ষার্থীরা কেন বিদ্যালয় থেকে চলে যাচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের আগাম ছুটি কে দিয়েছেনÑএ প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি অন্য শিক্ষকদের কাছে জানতে বলেন। ফলে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন, তা স্পষ্ট হয়নি। সাংবাদিক প্রবেশ নিয়েও দুই ধরনের বক্তব্য বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি জানতে সাংবাদিকরা সেখানে গেলে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে আপত্তি জানান প্রধান শিক্ষক। তিনি বিদ্যালয়ের গার্ডকে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং বিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে দাবি করেন। সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কে দিয়েছেন জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশনার কথা বলেন। পরে ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিদ্যালয়ে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। এরপর প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে সাংবাদিকদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে না দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম তালুকদারও এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। ফলে সাংবাদিক প্রবেশের বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা যায়। নিয়মিত পাঠদান নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম কোনো কোনো দিন দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। আবার কখনো বিকাল পর্যন্ত পাঠদান চলে। ফলে সরকারি বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকছেন কি না, নির্ধারিত সময়ে শ্রেণি কার্যক্রম চলছে কি না এবং বিশেষ কোনো আয়োজনের কারণে আগাম ছুটি দেওয়া হলে তার অনুমোদন নেওয়া হচ্ছে কি নাÑএসব বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, যে সময়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, সে সময় যদি তাদের বাড়ি ফিরে যেতে হয়, তাহলে সরকারি বিদ্যালয়ে তাদের জন্য নির্ধারিত শিক্ষা কার্যক্রম কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে? তদন্তের আশ্বাস শিক্ষা কর্মকর্তার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম তালুকদার বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পাঠদান, আগাম ছুটি দেওয়ার কারণ ও সিদ্ধান্ত এবং সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ওপর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশাও বেশি। তাই অভিযোগগুলো সত্য হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।