ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি, মিলানে সেনা মোতায়েন Logo ‘মা ভালো’: ১৭ বছরের সেবাযত্ন অচেতন পুত্রবধূকে জাগিয়ে তুললেন চীনা নারী Logo বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিকে স্পিকারের আমন্ত্রণ Logo ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্ট মার্টিন Logo আমরা যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ডা. শফিকুর রহমান এমপি Logo অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের জন্মদিন আজ Logo সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত প্রবারণা পূর্ণিমা Logo জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম Logo টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্ব আরোপ রাষ্ট্রপতির Logo বাংলাদেশে পলাতক অপরাধীকে কোন অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাশিয়াতে গিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নগরকান্দার রাজুর মৃত্যুর খবর

রাশিয়াতে গিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নগরকান্দার রাজুর মৃত্যুর খবর শোনা যাচ্ছে। রাজু মাতুব্বরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পরিবারে চলছে শোকের মাতম ফরিদপুরের নগরকান্দার যুবক রাজু মাতুব্বর(২৮)। রাশিয়ায় মেকানিক্যাল শ্রমিকের চাকরি করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন ছিল তার। সেই আশায় গত ৮ মে দেশ ছাড়েন রাজু। কিন্তু চাকরির পরিবর্তে তাকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাজু মাতুব্বর ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের মাঝিকান্দা গ্রামের নান্নু মাতুব্বরের ছেলে বলে জানাগেছে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। আড়াই বছরের ছেলে ও এক বছরের মেয়েকে নিয়ে দিশাহারা স্ত্রী শারমিন আক্তার। ছেলের ছবি হাতে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বাবা নান্নু মাতুব্বর ও মা রাজিয়া বেগম। রাজুর পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী কফাইবালিয়া গ্রামের প্রিন্স মাতুব্বর ও তার ছোট ভাই রানা মাতুব্বরের মাধ্যমে সাড়ে ১৪ লাখ টাকায় রাজু মাতুব্বরকে রাশিয়ায় পাঠানোর চুক্তি হয়। এর মধ্যে সাড়ে চার লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করা হয়। বাকি ১০ লাখ টাকা রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি পাননি রাজু। পরিবারের দাবি, তাকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রিন্স ও তার ভাই রানাকে দায়ী করছেন স্বজনরা। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাজু মাতুব্বরের বাবা নান্নু মাতুব্বর বলেন, ভালো চাকরির আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর খবর পাই। এখন ছেলের মৃত্যুর খবর শুনছি। ছেলের প্রকৃত অবস্থা জানতে চাই। একই সঙ্গে এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি জানান। শনিবার ফেসবুকে রাতুল নামের এক যুবকের প্রকাশ করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে রাজু মারা গেছেন বলে দাবি করেন রাতুল। পাশাপাশি ভিডিওটি বেশি বেশি শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি। এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনলেও এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি নান্নু মাতুব্বর ও রাজিয়া বেগম। রাজুর দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে অপেক্ষায় আছেন স্ত্রী শারমিন আক্তার। পরিবারের সদস্যরা এখন শুধু জানতে চান, রাজু কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন নাকি মারা গেছেন। রাজু মাতুব্বরের ছোট ভাই রাজন মাতুব্বর জানান, ভিডিওটি দেখার পর পরিবারের সদস্যরা রাতুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন রাতুলও রাজুর মৃত্যুর কথা জানান। তবে কীভাবে, কখন বা কোথায় রাজু মারা গেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি তারা। এদিকে রাজুর মৃত্যুর খবরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি জীবিত আছেন, নাকি মারা গেছেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। রাজুর স্ত্রী শারমিন আক্তার দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বাবার সঙ্গে কী ঘটেছে, তা বোঝার বয়স হয়নি সন্তানদের। স্বামীর প্রকৃত অবস্থা জানতে চান শারমিন। তিনি স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানানোর পাশাপাশি এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।
রাজুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার বাড়িতে ভিড় করছেন প্রতিবেশী ও স্বজনরা। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মৃত্যুর খবর সত্য হলে রাজুর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তারা। এর আগে রোববার জাগো বিডি নিউজ ২৪ এ সংবাদটি প্রকাশিত হয়। তবে রাজুর পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রিন্স মাতুব্বরের ছোট ভাই রানা মাতুব্বর দাবি করে বলেন, রাশিয়ায় যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে রাজুকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। রাজু নিজেই রাশিয়ায় অবস্থানরত প্রিন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে যান। তাকে প্রতারণা করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ সঠিক নয়। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রিন্স মাতুব্বরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মোহাম্মদ আল – ফাহাদ জানান, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। রাজুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি, মিলানে সেনা মোতায়েন

রাশিয়াতে গিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নগরকান্দার রাজুর মৃত্যুর খবর

আপডেট সময় ০৭:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়াতে গিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নগরকান্দার রাজুর মৃত্যুর খবর শোনা যাচ্ছে। রাজু মাতুব্বরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পরিবারে চলছে শোকের মাতম ফরিদপুরের নগরকান্দার যুবক রাজু মাতুব্বর(২৮)। রাশিয়ায় মেকানিক্যাল শ্রমিকের চাকরি করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন ছিল তার। সেই আশায় গত ৮ মে দেশ ছাড়েন রাজু। কিন্তু চাকরির পরিবর্তে তাকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাজু মাতুব্বর ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের মাঝিকান্দা গ্রামের নান্নু মাতুব্বরের ছেলে বলে জানাগেছে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। আড়াই বছরের ছেলে ও এক বছরের মেয়েকে নিয়ে দিশাহারা স্ত্রী শারমিন আক্তার। ছেলের ছবি হাতে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বাবা নান্নু মাতুব্বর ও মা রাজিয়া বেগম। রাজুর পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী কফাইবালিয়া গ্রামের প্রিন্স মাতুব্বর ও তার ছোট ভাই রানা মাতুব্বরের মাধ্যমে সাড়ে ১৪ লাখ টাকায় রাজু মাতুব্বরকে রাশিয়ায় পাঠানোর চুক্তি হয়। এর মধ্যে সাড়ে চার লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করা হয়। বাকি ১০ লাখ টাকা রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি পাননি রাজু। পরিবারের দাবি, তাকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রিন্স ও তার ভাই রানাকে দায়ী করছেন স্বজনরা। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাজু মাতুব্বরের বাবা নান্নু মাতুব্বর বলেন, ভালো চাকরির আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর খবর পাই। এখন ছেলের মৃত্যুর খবর শুনছি। ছেলের প্রকৃত অবস্থা জানতে চাই। একই সঙ্গে এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি জানান। শনিবার ফেসবুকে রাতুল নামের এক যুবকের প্রকাশ করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে রাজু মারা গেছেন বলে দাবি করেন রাতুল। পাশাপাশি ভিডিওটি বেশি বেশি শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি। এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনলেও এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি নান্নু মাতুব্বর ও রাজিয়া বেগম। রাজুর দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে অপেক্ষায় আছেন স্ত্রী শারমিন আক্তার। পরিবারের সদস্যরা এখন শুধু জানতে চান, রাজু কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন নাকি মারা গেছেন। রাজু মাতুব্বরের ছোট ভাই রাজন মাতুব্বর জানান, ভিডিওটি দেখার পর পরিবারের সদস্যরা রাতুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন রাতুলও রাজুর মৃত্যুর কথা জানান। তবে কীভাবে, কখন বা কোথায় রাজু মারা গেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি তারা। এদিকে রাজুর মৃত্যুর খবরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি জীবিত আছেন, নাকি মারা গেছেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। রাজুর স্ত্রী শারমিন আক্তার দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বাবার সঙ্গে কী ঘটেছে, তা বোঝার বয়স হয়নি সন্তানদের। স্বামীর প্রকৃত অবস্থা জানতে চান শারমিন। তিনি স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানানোর পাশাপাশি এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।
রাজুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার বাড়িতে ভিড় করছেন প্রতিবেশী ও স্বজনরা। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মৃত্যুর খবর সত্য হলে রাজুর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তারা। এর আগে রোববার জাগো বিডি নিউজ ২৪ এ সংবাদটি প্রকাশিত হয়। তবে রাজুর পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রিন্স মাতুব্বরের ছোট ভাই রানা মাতুব্বর দাবি করে বলেন, রাশিয়ায় যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে রাজুকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। রাজু নিজেই রাশিয়ায় অবস্থানরত প্রিন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে যান। তাকে প্রতারণা করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ সঠিক নয়। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রিন্স মাতুব্বরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মোহাম্মদ আল – ফাহাদ জানান, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। রাজুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।