ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা! Logo দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, পহরডাঙ্গা ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ঠাকুর আবুল আজম

ই-ইউর ব্যাটারি বিষয়ক নতুন নিয়ম

  • আইটি ডেস্ক:
  • আপডেট সময় ০৯:৩৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • 176

পরিবেশ ও ক্রেতাস্বার্থ রক্ষায় বরাবরই কাজ করে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ই-বর্জ কমাতে ২০২৪-এর শেষে ইইউ জারি করে ডিরেক্টিভ ২০২২/২৩৮০। যার ফলে প্রতিটি বহনযোগ্য ডিভাইসে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট এবং ইউএসবি পাওয়ার ডেলিভারি (ইউএসবি-পিডি) চার্জিং স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহারে বাধ্য হয় প্রতিটি প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। নিয়মটি শুধু ইইউ অধিভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য হলেও এর সুফল ভোগ করছে বিশ্বের সব দেশ।
নতুন সব স্মার্টফোন ও ল্যাপটপে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ইউএসবি-সি চার্জিং সিস্টেম। স্মার্টফোনে অ্যাপ স্টোর মনোপলি বন্ধ করা এবং আন্ত ডিভাইস ব্যবহারযোগ্য ফিচার বাধ্যতামূলক করার পেছনেও ইইউ-এর অবদান রয়েছে।
২১ এপ্রিল ইইউ জারি করেছে নতুন কিছু নিয়ম। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে স্মার্টফোন বাজারজাত করতে হলে সেগুলোর ব্যাটারি কোনো বিশেষায়িত যন্ত্র ছাড়াই বদল করার উপায় রাখতে হবে।
এর পাশাপাশি কোম্পানিগুলোকে ১০ বছর পর্যন্ত ডিভাইসগুলো মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করতে হবে এবং ব্যবহারকারীকে নিজের ডিভাইস মেরামতে কোনো বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। ডিভাইস মেরামতের ম্যানুয়ালও সহজলভ্য করতে হবে নির্মাতাদের। স্মার্টফোনের ব্যাটারির ডিজাইন হতে হবে দীর্ঘস্থায়ী। ৮০০ বার চার্জ দেওয়ার পরেও ব্যাটারির অবশিষ্ট ধারণক্ষমতা হতে হবে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ।
এই নিয়মগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ডিভাইসগুলোকে আরো টেকসই, সহজে মেরামতযোগ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী করা। এ ছাড়াও ব্যবহারকারীদের জন্য দ্রুত মেরামতসেবা নিশ্চিত করতে হবে, ডিভাইস রিপেয়ার বা পার্টস সরবরাহে ৫ থেকে ১০ কর্মদিবসের বেশি ব্যয় করা যাবে না।
নতুন নিয়মের কথা ইন্টারনেটে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এটিকে সহজে বদলযোগ্য ব্যাটারি ফেরার ইঙ্গিত মনে করছেন অনেকে। তবে টেক রাডারের ডেভিড নিলড মনে করছেন, এই আইনের কারণে স্মার্টফোনে ফিক্সড ব্যাটারি যুগের অবসান হবে না।
হয়তো নির্মাতারা ফোনের বক্সের মধ্যে ফোন খোলার টুলস সরবরাহ করতে বাধ্য হবে। শুধু স্মার্টফোনে এই নিয়ম সীমাবদ্ধ নয়। যেসব ডিভাইসের ব্যাটারির ওজন ৫ কেজির কম, কোনো বাহন বা কারখানার কাজে ব্যবহৃত নয়, সেসব ব্যাটারির জন্যই এই আইন প্রযোজ্য। অর্থাৎ ক্যামেরা, ট্যাবলেট, মিউজিক প্লেয়ার, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে পাওয়ার ব্যাংকের ব্যাটারিও সহজে পরিবর্তন করার উপায় থাকতে হবে। গেমিং কনসোল এবং কন্ট্রোলারের জন্যও এই নীতিমালা প্রযোজ্য, নিনটেন্ডে এর মধ্যেই সুইচ ২ কনসোলের নতুন ব্যাটারি ডিজাইনে ব্যস্ত সময় পার করছে।
৮০০ চার্জ সাইকল পর্যন্ত ব্যাটারির ৮০ শতাংশ ধারণক্ষমতা ধরে রাখার নিয়ম বেশ কয়েকটি নির্মাতার জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যাপলের ব্যাটারিগুলো এক হাজার চার্জ সাইকল পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও, অনেক মাঝারি ও সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোনের ব্যাটারি ৩০০-৫০০ সাইকলের মধ্যেই ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ধারণক্ষমতা হারায়। এই নিয়ম বলবৎ হলে উচ্চমূল্যে ব্যাটারি ব্যবহারে বাধ্য হবে নির্মাতারা, ফলে কমদামি ফোনেরও দাম অনেকাংশে বাড়বে।
সূত্র : টেকরাডার

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা

ই-ইউর ব্যাটারি বিষয়ক নতুন নিয়ম

আপডেট সময় ০৯:৩৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পরিবেশ ও ক্রেতাস্বার্থ রক্ষায় বরাবরই কাজ করে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ই-বর্জ কমাতে ২০২৪-এর শেষে ইইউ জারি করে ডিরেক্টিভ ২০২২/২৩৮০। যার ফলে প্রতিটি বহনযোগ্য ডিভাইসে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট এবং ইউএসবি পাওয়ার ডেলিভারি (ইউএসবি-পিডি) চার্জিং স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহারে বাধ্য হয় প্রতিটি প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। নিয়মটি শুধু ইইউ অধিভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য হলেও এর সুফল ভোগ করছে বিশ্বের সব দেশ।
নতুন সব স্মার্টফোন ও ল্যাপটপে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ইউএসবি-সি চার্জিং সিস্টেম। স্মার্টফোনে অ্যাপ স্টোর মনোপলি বন্ধ করা এবং আন্ত ডিভাইস ব্যবহারযোগ্য ফিচার বাধ্যতামূলক করার পেছনেও ইইউ-এর অবদান রয়েছে।
২১ এপ্রিল ইইউ জারি করেছে নতুন কিছু নিয়ম। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে স্মার্টফোন বাজারজাত করতে হলে সেগুলোর ব্যাটারি কোনো বিশেষায়িত যন্ত্র ছাড়াই বদল করার উপায় রাখতে হবে।
এর পাশাপাশি কোম্পানিগুলোকে ১০ বছর পর্যন্ত ডিভাইসগুলো মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করতে হবে এবং ব্যবহারকারীকে নিজের ডিভাইস মেরামতে কোনো বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। ডিভাইস মেরামতের ম্যানুয়ালও সহজলভ্য করতে হবে নির্মাতাদের। স্মার্টফোনের ব্যাটারির ডিজাইন হতে হবে দীর্ঘস্থায়ী। ৮০০ বার চার্জ দেওয়ার পরেও ব্যাটারির অবশিষ্ট ধারণক্ষমতা হতে হবে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ।
এই নিয়মগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ডিভাইসগুলোকে আরো টেকসই, সহজে মেরামতযোগ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী করা। এ ছাড়াও ব্যবহারকারীদের জন্য দ্রুত মেরামতসেবা নিশ্চিত করতে হবে, ডিভাইস রিপেয়ার বা পার্টস সরবরাহে ৫ থেকে ১০ কর্মদিবসের বেশি ব্যয় করা যাবে না।
নতুন নিয়মের কথা ইন্টারনেটে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এটিকে সহজে বদলযোগ্য ব্যাটারি ফেরার ইঙ্গিত মনে করছেন অনেকে। তবে টেক রাডারের ডেভিড নিলড মনে করছেন, এই আইনের কারণে স্মার্টফোনে ফিক্সড ব্যাটারি যুগের অবসান হবে না।
হয়তো নির্মাতারা ফোনের বক্সের মধ্যে ফোন খোলার টুলস সরবরাহ করতে বাধ্য হবে। শুধু স্মার্টফোনে এই নিয়ম সীমাবদ্ধ নয়। যেসব ডিভাইসের ব্যাটারির ওজন ৫ কেজির কম, কোনো বাহন বা কারখানার কাজে ব্যবহৃত নয়, সেসব ব্যাটারির জন্যই এই আইন প্রযোজ্য। অর্থাৎ ক্যামেরা, ট্যাবলেট, মিউজিক প্লেয়ার, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে পাওয়ার ব্যাংকের ব্যাটারিও সহজে পরিবর্তন করার উপায় থাকতে হবে। গেমিং কনসোল এবং কন্ট্রোলারের জন্যও এই নীতিমালা প্রযোজ্য, নিনটেন্ডে এর মধ্যেই সুইচ ২ কনসোলের নতুন ব্যাটারি ডিজাইনে ব্যস্ত সময় পার করছে।
৮০০ চার্জ সাইকল পর্যন্ত ব্যাটারির ৮০ শতাংশ ধারণক্ষমতা ধরে রাখার নিয়ম বেশ কয়েকটি নির্মাতার জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যাপলের ব্যাটারিগুলো এক হাজার চার্জ সাইকল পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও, অনেক মাঝারি ও সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোনের ব্যাটারি ৩০০-৫০০ সাইকলের মধ্যেই ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ধারণক্ষমতা হারায়। এই নিয়ম বলবৎ হলে উচ্চমূল্যে ব্যাটারি ব্যবহারে বাধ্য হবে নির্মাতারা, ফলে কমদামি ফোনেরও দাম অনেকাংশে বাড়বে।
সূত্র : টেকরাডার