ঢাকা ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য : ব্রিটিশ হাইকমিশনার Logo ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তর পরিদর্শন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের Logo ১৯ কার্গো এলএনজি আসছে ঘাটতির আশংকা নেই Logo দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo বিএনপি সরকারের উদ্যোগ : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া Logo ফোন নীরবে যে ৪ কাজ করে Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধ ঘর থেকেই শুরু হোক Logo মনের জটিল জট খোলার মতো ১০টি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা

ই-ইউর ব্যাটারি বিষয়ক নতুন নিয়ম

  • আইটি ডেস্ক:
  • আপডেট সময় ০৯:৩৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • 158

পরিবেশ ও ক্রেতাস্বার্থ রক্ষায় বরাবরই কাজ করে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ই-বর্জ কমাতে ২০২৪-এর শেষে ইইউ জারি করে ডিরেক্টিভ ২০২২/২৩৮০। যার ফলে প্রতিটি বহনযোগ্য ডিভাইসে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট এবং ইউএসবি পাওয়ার ডেলিভারি (ইউএসবি-পিডি) চার্জিং স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহারে বাধ্য হয় প্রতিটি প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। নিয়মটি শুধু ইইউ অধিভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য হলেও এর সুফল ভোগ করছে বিশ্বের সব দেশ।
নতুন সব স্মার্টফোন ও ল্যাপটপে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ইউএসবি-সি চার্জিং সিস্টেম। স্মার্টফোনে অ্যাপ স্টোর মনোপলি বন্ধ করা এবং আন্ত ডিভাইস ব্যবহারযোগ্য ফিচার বাধ্যতামূলক করার পেছনেও ইইউ-এর অবদান রয়েছে।
২১ এপ্রিল ইইউ জারি করেছে নতুন কিছু নিয়ম। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে স্মার্টফোন বাজারজাত করতে হলে সেগুলোর ব্যাটারি কোনো বিশেষায়িত যন্ত্র ছাড়াই বদল করার উপায় রাখতে হবে।
এর পাশাপাশি কোম্পানিগুলোকে ১০ বছর পর্যন্ত ডিভাইসগুলো মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করতে হবে এবং ব্যবহারকারীকে নিজের ডিভাইস মেরামতে কোনো বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। ডিভাইস মেরামতের ম্যানুয়ালও সহজলভ্য করতে হবে নির্মাতাদের। স্মার্টফোনের ব্যাটারির ডিজাইন হতে হবে দীর্ঘস্থায়ী। ৮০০ বার চার্জ দেওয়ার পরেও ব্যাটারির অবশিষ্ট ধারণক্ষমতা হতে হবে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ।
এই নিয়মগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ডিভাইসগুলোকে আরো টেকসই, সহজে মেরামতযোগ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী করা। এ ছাড়াও ব্যবহারকারীদের জন্য দ্রুত মেরামতসেবা নিশ্চিত করতে হবে, ডিভাইস রিপেয়ার বা পার্টস সরবরাহে ৫ থেকে ১০ কর্মদিবসের বেশি ব্যয় করা যাবে না।
নতুন নিয়মের কথা ইন্টারনেটে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এটিকে সহজে বদলযোগ্য ব্যাটারি ফেরার ইঙ্গিত মনে করছেন অনেকে। তবে টেক রাডারের ডেভিড নিলড মনে করছেন, এই আইনের কারণে স্মার্টফোনে ফিক্সড ব্যাটারি যুগের অবসান হবে না।
হয়তো নির্মাতারা ফোনের বক্সের মধ্যে ফোন খোলার টুলস সরবরাহ করতে বাধ্য হবে। শুধু স্মার্টফোনে এই নিয়ম সীমাবদ্ধ নয়। যেসব ডিভাইসের ব্যাটারির ওজন ৫ কেজির কম, কোনো বাহন বা কারখানার কাজে ব্যবহৃত নয়, সেসব ব্যাটারির জন্যই এই আইন প্রযোজ্য। অর্থাৎ ক্যামেরা, ট্যাবলেট, মিউজিক প্লেয়ার, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে পাওয়ার ব্যাংকের ব্যাটারিও সহজে পরিবর্তন করার উপায় থাকতে হবে। গেমিং কনসোল এবং কন্ট্রোলারের জন্যও এই নীতিমালা প্রযোজ্য, নিনটেন্ডে এর মধ্যেই সুইচ ২ কনসোলের নতুন ব্যাটারি ডিজাইনে ব্যস্ত সময় পার করছে।
৮০০ চার্জ সাইকল পর্যন্ত ব্যাটারির ৮০ শতাংশ ধারণক্ষমতা ধরে রাখার নিয়ম বেশ কয়েকটি নির্মাতার জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যাপলের ব্যাটারিগুলো এক হাজার চার্জ সাইকল পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও, অনেক মাঝারি ও সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোনের ব্যাটারি ৩০০-৫০০ সাইকলের মধ্যেই ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ধারণক্ষমতা হারায়। এই নিয়ম বলবৎ হলে উচ্চমূল্যে ব্যাটারি ব্যবহারে বাধ্য হবে নির্মাতারা, ফলে কমদামি ফোনেরও দাম অনেকাংশে বাড়বে।
সূত্র : টেকরাডার

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ই-ইউর ব্যাটারি বিষয়ক নতুন নিয়ম

আপডেট সময় ০৯:৩৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পরিবেশ ও ক্রেতাস্বার্থ রক্ষায় বরাবরই কাজ করে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ই-বর্জ কমাতে ২০২৪-এর শেষে ইইউ জারি করে ডিরেক্টিভ ২০২২/২৩৮০। যার ফলে প্রতিটি বহনযোগ্য ডিভাইসে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট এবং ইউএসবি পাওয়ার ডেলিভারি (ইউএসবি-পিডি) চার্জিং স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহারে বাধ্য হয় প্রতিটি প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। নিয়মটি শুধু ইইউ অধিভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য হলেও এর সুফল ভোগ করছে বিশ্বের সব দেশ।
নতুন সব স্মার্টফোন ও ল্যাপটপে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ইউএসবি-সি চার্জিং সিস্টেম। স্মার্টফোনে অ্যাপ স্টোর মনোপলি বন্ধ করা এবং আন্ত ডিভাইস ব্যবহারযোগ্য ফিচার বাধ্যতামূলক করার পেছনেও ইইউ-এর অবদান রয়েছে।
২১ এপ্রিল ইইউ জারি করেছে নতুন কিছু নিয়ম। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে স্মার্টফোন বাজারজাত করতে হলে সেগুলোর ব্যাটারি কোনো বিশেষায়িত যন্ত্র ছাড়াই বদল করার উপায় রাখতে হবে।
এর পাশাপাশি কোম্পানিগুলোকে ১০ বছর পর্যন্ত ডিভাইসগুলো মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করতে হবে এবং ব্যবহারকারীকে নিজের ডিভাইস মেরামতে কোনো বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। ডিভাইস মেরামতের ম্যানুয়ালও সহজলভ্য করতে হবে নির্মাতাদের। স্মার্টফোনের ব্যাটারির ডিজাইন হতে হবে দীর্ঘস্থায়ী। ৮০০ বার চার্জ দেওয়ার পরেও ব্যাটারির অবশিষ্ট ধারণক্ষমতা হতে হবে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ।
এই নিয়মগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ডিভাইসগুলোকে আরো টেকসই, সহজে মেরামতযোগ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী করা। এ ছাড়াও ব্যবহারকারীদের জন্য দ্রুত মেরামতসেবা নিশ্চিত করতে হবে, ডিভাইস রিপেয়ার বা পার্টস সরবরাহে ৫ থেকে ১০ কর্মদিবসের বেশি ব্যয় করা যাবে না।
নতুন নিয়মের কথা ইন্টারনেটে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এটিকে সহজে বদলযোগ্য ব্যাটারি ফেরার ইঙ্গিত মনে করছেন অনেকে। তবে টেক রাডারের ডেভিড নিলড মনে করছেন, এই আইনের কারণে স্মার্টফোনে ফিক্সড ব্যাটারি যুগের অবসান হবে না।
হয়তো নির্মাতারা ফোনের বক্সের মধ্যে ফোন খোলার টুলস সরবরাহ করতে বাধ্য হবে। শুধু স্মার্টফোনে এই নিয়ম সীমাবদ্ধ নয়। যেসব ডিভাইসের ব্যাটারির ওজন ৫ কেজির কম, কোনো বাহন বা কারখানার কাজে ব্যবহৃত নয়, সেসব ব্যাটারির জন্যই এই আইন প্রযোজ্য। অর্থাৎ ক্যামেরা, ট্যাবলেট, মিউজিক প্লেয়ার, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে পাওয়ার ব্যাংকের ব্যাটারিও সহজে পরিবর্তন করার উপায় থাকতে হবে। গেমিং কনসোল এবং কন্ট্রোলারের জন্যও এই নীতিমালা প্রযোজ্য, নিনটেন্ডে এর মধ্যেই সুইচ ২ কনসোলের নতুন ব্যাটারি ডিজাইনে ব্যস্ত সময় পার করছে।
৮০০ চার্জ সাইকল পর্যন্ত ব্যাটারির ৮০ শতাংশ ধারণক্ষমতা ধরে রাখার নিয়ম বেশ কয়েকটি নির্মাতার জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যাপলের ব্যাটারিগুলো এক হাজার চার্জ সাইকল পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও, অনেক মাঝারি ও সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোনের ব্যাটারি ৩০০-৫০০ সাইকলের মধ্যেই ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ধারণক্ষমতা হারায়। এই নিয়ম বলবৎ হলে উচ্চমূল্যে ব্যাটারি ব্যবহারে বাধ্য হবে নির্মাতারা, ফলে কমদামি ফোনেরও দাম অনেকাংশে বাড়বে।
সূত্র : টেকরাডার