ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য : ব্রিটিশ হাইকমিশনার Logo ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তর পরিদর্শন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের Logo ১৯ কার্গো এলএনজি আসছে ঘাটতির আশংকা নেই Logo দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo বিএনপি সরকারের উদ্যোগ : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া Logo ফোন নীরবে যে ৪ কাজ করে Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধ ঘর থেকেই শুরু হোক Logo মনের জটিল জট খোলার মতো ১০টি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা

কাজুবাদাম চাষে সফলতা পেয়েছে রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র

পার্বত্যঞ্চলে কৃষকদের বাতিঘর হিসেবে সু-পরিচিত রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কৃষি বিজ্ঞানীরা এবার কাজুবাদাম চাষে সফলতা অর্জন করেছেন। গবেষণা কেন্দ্রের ২ একর এলাকায় কাজু বাদামের চাষ করা হয়েছে। এবার গাছগুলোতে বেশ ফল এসেছে।
গতকাল সোমবার সকালে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারিভাবে লাগানো কাজুবাদাম গাছগুলোতে ফল ধরেছে। এ যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড়ের বুকে সবুজ ক্ষেতে কাজুবাদামের সমাহার।
এ বিষয়ে রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান বাসসকে বলেন, ২০১৯ সালে ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া এবং বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কাজুবাদামের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ২ একর জমিতে রোপণ করা হয়।
রোপণের ৩ বছর পর ২০২২ সালে প্রথম ফল ধরে। বর্তমানে গাছগুলোর বয়স ৭ বছরের বেশি। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে বেশি করে ফল ধরছে প্রতিটি কাজুবাদাম গাছে।
তিনি আরও বলেন, কাজুবাদাম বিশ্বের বাদাম জাতীয় ফসলের মধ্যে প্রথমস্থান দখল করে আছে। এর প্রতিটি গাছে ২০ থেকে ৩০ কেজি ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি ফলের ওজন গড়ে ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতিটি কাজুবাদাম নাটের ওজন ৫ থেকে ১০ গ্রাম হয়ে থাকে।
কাজুবাদামে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আমিষ, চর্বি, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি। কাজুবাদামে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পলিফেনল ও ক্যারিটনয়েড আছে। যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ও মস্তিস্কের শক্তি বৃদ্ধি করে।
এতে খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। ব্লাড প্রেসার ও ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে কাজুবাদামের ভূমিকা অপরিসীম।
রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানিরা বলেন, বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় ৫ লাখ হেক্টর জমি অনাবাদী রয়েছে।
এর মধ্যে যদি ১ লাখ হেক্টর জমিতে কাজুবাদাম চাষ করা যায় তাহলে ১ লাখ টন কাজুবাদাম উৎপাদন করা সম্ভব। দেশে ভালো মানের কাজুবাদাম উৎপাদন করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা যেমন সাশ্রয় হবে তেমনি কাজুবাদাম রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে।
এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং বিশেষ করে নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারবে। পাহাড়ে সম্ভাবনাময় কাজু বাদাম চাষের বিস্তৃতি বাড়াতে এখন প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কাজুবাদাম চাষে সফলতা পেয়েছে রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র

আপডেট সময় ০৯:৩৪:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

পার্বত্যঞ্চলে কৃষকদের বাতিঘর হিসেবে সু-পরিচিত রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কৃষি বিজ্ঞানীরা এবার কাজুবাদাম চাষে সফলতা অর্জন করেছেন। গবেষণা কেন্দ্রের ২ একর এলাকায় কাজু বাদামের চাষ করা হয়েছে। এবার গাছগুলোতে বেশ ফল এসেছে।
গতকাল সোমবার সকালে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারিভাবে লাগানো কাজুবাদাম গাছগুলোতে ফল ধরেছে। এ যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড়ের বুকে সবুজ ক্ষেতে কাজুবাদামের সমাহার।
এ বিষয়ে রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান বাসসকে বলেন, ২০১৯ সালে ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া এবং বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কাজুবাদামের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করে রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ২ একর জমিতে রোপণ করা হয়।
রোপণের ৩ বছর পর ২০২২ সালে প্রথম ফল ধরে। বর্তমানে গাছগুলোর বয়স ৭ বছরের বেশি। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে বেশি করে ফল ধরছে প্রতিটি কাজুবাদাম গাছে।
তিনি আরও বলেন, কাজুবাদাম বিশ্বের বাদাম জাতীয় ফসলের মধ্যে প্রথমস্থান দখল করে আছে। এর প্রতিটি গাছে ২০ থেকে ৩০ কেজি ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি ফলের ওজন গড়ে ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতিটি কাজুবাদাম নাটের ওজন ৫ থেকে ১০ গ্রাম হয়ে থাকে।
কাজুবাদামে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আমিষ, চর্বি, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি। কাজুবাদামে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পলিফেনল ও ক্যারিটনয়েড আছে। যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ও মস্তিস্কের শক্তি বৃদ্ধি করে।
এতে খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। ব্লাড প্রেসার ও ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে কাজুবাদামের ভূমিকা অপরিসীম।
রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানিরা বলেন, বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় ৫ লাখ হেক্টর জমি অনাবাদী রয়েছে।
এর মধ্যে যদি ১ লাখ হেক্টর জমিতে কাজুবাদাম চাষ করা যায় তাহলে ১ লাখ টন কাজুবাদাম উৎপাদন করা সম্ভব। দেশে ভালো মানের কাজুবাদাম উৎপাদন করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা যেমন সাশ্রয় হবে তেমনি কাজুবাদাম রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে।
এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং বিশেষ করে নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারবে। পাহাড়ে সম্ভাবনাময় কাজু বাদাম চাষের বিস্তৃতি বাড়াতে এখন প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ।