ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুষ্টিমান হারিয়ে ফাঁপা হচ্ছে ফসল : বাড়ছে অণুপুষ্টির ঘাটতি Logo বিক্ষোভে টালমাটাল মোদীর গদি Logo ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তিতে বন্দরের দক্ষতা ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের Logo কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলা : ঢাকা-রিয়াদ রুটে ৫ ফ্লাইট বাতিল Logo দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরি হচ্ছে : নৌপরিবহনমন্ত্রী Logo বাংলাদেশে মারুবেনির বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও দ্বিতীয় কাফকো স্থাপন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা Logo ফ্রিজের যে ২ সেটিংস বদলেই বিদ্যুৎ বিল কমাতে পারবেন Logo সাইকেল চালালে কি শুক্রাণু কমে, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা Logo চাচ্চু শাকিব খানের সঙ্গে দীঘি, নতুন সিনেমা নাকি অন্য কিছু? Logo মৃত্যুর পর মানুষ যেভাবে অনুশোচনায় ভুগবে

চাহিদা বাড়ায় কোরবানির বাজারে ভালো লাভের আশা পশু ব্যবসায়ীদের

পবিত্র ঈদুল আজহা এগিয়ে আসায় দেশজুড়ে খামারি ও পশু ব্যবসায়ীরা নতুন আশা নিয়ে কোরবানির হাটে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও সুস্থ-সবল পশুর চাহিদা বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কারণে তারা এবার ভালো মুনাফার আশা করছেন।
ঢাকার উপকণ্ঠের বিশাল অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে শুরু করে নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গোয়ালঘর পর্যন্ত কয়েক মাস ধরেই কোরবানির পশু কেনাবেচার মৌসুমের প্রস্তুতি চলছে।
খামারিরা বলছেন, পশুখাদ্য, ওষুধ, শ্রম, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও পবিত্র ঈদুল আজহার কথা মাথায় রেখে তারা সুস্থ ও মানসম্মত পশু লালন-পালনে কোনোপ্রকার আপস করেননি।
ঢাকার হায়দার ডেইরি অ্যান্ড অ্যাগ্রোর মালিক শাদমান হায়দার আমানত এই মৌসুমে বিক্রির জন্য কমপক্ষে ৩০টি গরু প্রস্তুত করেছেন।
তিনি বাসস’কে বলেন, ‘এ বছর খরচ অনেক বেড়েছে। তবে ক্রেতারা মানসম্মত পশু চান বলে আমরা সঠিক যত্ন ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার পেছনে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছি। আশা করছি, খামারিরা এবার ন্যায্যমূল্য পাবেন।’
মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহাকে ঘিরে প্রতি বছর দেশজুড়ে বিপুল পরিমাণ গবাদিপশু বেচাকেনা হয়। এসময় লাখো পরিবার কোরবানির জন্য পশু কেনেন।
ব্যবসায়ী ও খামার উদ্যোক্তারা বলছেন, এ বছর বিশেষ করে ঢাকাসহ দেশের শহরাঞ্চলগুলোতে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি এতে বড় ভূমিকা রাখছে।
খামারিদের মতে, ২শ’ থেকে ৫শ’ কেজি ওজনের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ৫০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা বাজেটের ক্রেতারা বাজারে তাদের পছন্দমতো পশু কিনতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আমানত বলেন, ‘সুস্থ ও সচল পশু সৎ খামারির পরিচয় বহন করে। আর অস্বাভাবিক কম দামের পশুর বিষয়ে মানুষের সতর্ক থাকা উচিত। কারণ সেগুলো হয়তো ঠিকমতো পালন করা হয়নি।’
নোয়াখালীর আমানিয়া অ্যাগ্রোর মালিক সাইদুর রহমান সিফাতও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ নিয়ে একই উদ্বেগের কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘পশুখাদ্য থেকে পরিবহন- সবকিছুর খরচ বেড়েছে। তারপরও আমরা আশাবাদী। কারণ মানসম্মত পশুর চাহিদা এখনও বেশি।’
তার খামারে এ বছর কোরবানির হাটে তোলার জন্য ৫০ থেকে ৬০টি গরু ও ছাগল প্রস্তুত রয়েছে।
খামারিরা বলছেন, দেখতে ভালো ও সুস্থ মাঝারি আকারের গরুর দাম কোরবানির মৌসুমজুড়ে ভালোই থাকবে।
কারণ ক্রেতারা এখন অতিরিক্ত বড় ও দামি পশুর চেয়ে সাশ্রয়ী, মানসম্পন্ন ও সঠিকভাবে লালন করা পশুর দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।
আর্থিক চাপ থাকলেও নৈতিক খামার ব্যবস্থাপনা ও পশুর সুস্বাস্থ্যের কল্যাণে নিজেদের অঙ্গীকারে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন খামারিরা।
সিফাত বলেন, ‘কোরবানির মূল চেতনা হলো আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ। পরিবারগুলো যেন আস্থা ও স্বস্তির সঙ্গে কোরবানি দিতে পারে, সে জন্য খামারিরা সারা বছর পরিশ্রম করেন।’
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের পরিবেশ এখন ‘তুলনামূলক ইতিবাচক’। ঈদের মূল ব্যস্ততা শুরু হওয়ার আগেই ক্রেতারা খামারে যাচ্ছেন ও খোঁজখবর নিচ্ছেন, এমনকি আগাম বুকিংও দিচ্ছেন।
রাজধানীর আব্দুল মালেক অ্যাগ্রোর মালিক সম্রাট মির্জা জানান, তার খামারে এই মৌসুমে ৮০ থেকে ৮৫টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ যত্নে লালন করা কয়েকটি বড় আকারের গরুও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি বেশ ইতিবাচক মনে হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের ক্রেতার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।’
সম্রাট মির্জা আরও বলেন, ‘প্রতিটি খামারি সারাবছর এই মুহূর্তটির জন্য পরিশ্রম করেন। আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য, প্রতিটি পশু যেন কোরবানির জন্য কোনো না পরিবারের কাছে পৌঁছানো। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসবে, চাহিদা আরও বাড়বে বলে বিশ্বাস করি।’
অন্যদিকে ছায়াবীথি অ্যাগ্রোর কর্মকর্তা শারমিন জানান, ঈদের এত আগেই ক্রেতাদের উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রি ও খোঁজখবর নেওয়া দুটোই বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ নিজ প্রচেষ্টায় কোরবানির উপযুক্ত পশু খুঁজছেন। এতে একদিকে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে, সঙ্গে অনুপ্রেরণাও পাচ্ছি।’
তিনি বলেন, খামারের ছোট ও মাঝারি আকারের অনেক পশু ইতোমধ্যে আগাম বুক হয়ে গেছে। ঈদের আগের সপ্তাহে বাজার আরও সরগরম হবে বলে আশা রাখি। সেই বাড়তি চাহিদা মেটাতেও আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
এদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। এবার সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় ২২ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কোরবানির পশুর আনুমানিক চাহিদা ১ কোটি ১০ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। আর দেশজুড়ে সরবরাহযোগ্য পশুর সংখ্যা ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। সেই হিসেবে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।
মোট পশুর মধ্যে গরু ও মহিষ ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি; ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং অন্যান্য প্রজাতির ৫ হাজার ৬৫৫টি পশু রয়েছে ।
মন্ত্রী আরও জানান, ঈদ মৌসুমে সারা দেশে ৩ হাজার ৬শ’র বেশি পশুর হাট বসবে।
শুধু ঢাকাতেই ২৭টি পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় ১৬টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় ১১টি হাট থাকবে।
পাশপাশি পশুর স্বাস্থ্য ও জননিরপত্তা নিশ্চিতে হাটগুলোতে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকবে।
কোরবানির মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের আগ্রহ এবং সারাবছর অক্লান্ত পরিশ্রম করা খামারিদের লাভের প্রত্যাশায় জমে উঠতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক এই আয়োজন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুষ্টিমান হারিয়ে ফাঁপা হচ্ছে ফসল : বাড়ছে অণুপুষ্টির ঘাটতি

চাহিদা বাড়ায় কোরবানির বাজারে ভালো লাভের আশা পশু ব্যবসায়ীদের

আপডেট সময় ০৯:৩১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহা এগিয়ে আসায় দেশজুড়ে খামারি ও পশু ব্যবসায়ীরা নতুন আশা নিয়ে কোরবানির হাটে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও সুস্থ-সবল পশুর চাহিদা বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কারণে তারা এবার ভালো মুনাফার আশা করছেন।
ঢাকার উপকণ্ঠের বিশাল অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে শুরু করে নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গোয়ালঘর পর্যন্ত কয়েক মাস ধরেই কোরবানির পশু কেনাবেচার মৌসুমের প্রস্তুতি চলছে।
খামারিরা বলছেন, পশুখাদ্য, ওষুধ, শ্রম, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও পবিত্র ঈদুল আজহার কথা মাথায় রেখে তারা সুস্থ ও মানসম্মত পশু লালন-পালনে কোনোপ্রকার আপস করেননি।
ঢাকার হায়দার ডেইরি অ্যান্ড অ্যাগ্রোর মালিক শাদমান হায়দার আমানত এই মৌসুমে বিক্রির জন্য কমপক্ষে ৩০টি গরু প্রস্তুত করেছেন।
তিনি বাসস’কে বলেন, ‘এ বছর খরচ অনেক বেড়েছে। তবে ক্রেতারা মানসম্মত পশু চান বলে আমরা সঠিক যত্ন ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার পেছনে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছি। আশা করছি, খামারিরা এবার ন্যায্যমূল্য পাবেন।’
মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহাকে ঘিরে প্রতি বছর দেশজুড়ে বিপুল পরিমাণ গবাদিপশু বেচাকেনা হয়। এসময় লাখো পরিবার কোরবানির জন্য পশু কেনেন।
ব্যবসায়ী ও খামার উদ্যোক্তারা বলছেন, এ বছর বিশেষ করে ঢাকাসহ দেশের শহরাঞ্চলগুলোতে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি এতে বড় ভূমিকা রাখছে।
খামারিদের মতে, ২শ’ থেকে ৫শ’ কেজি ওজনের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ৫০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা বাজেটের ক্রেতারা বাজারে তাদের পছন্দমতো পশু কিনতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আমানত বলেন, ‘সুস্থ ও সচল পশু সৎ খামারির পরিচয় বহন করে। আর অস্বাভাবিক কম দামের পশুর বিষয়ে মানুষের সতর্ক থাকা উচিত। কারণ সেগুলো হয়তো ঠিকমতো পালন করা হয়নি।’
নোয়াখালীর আমানিয়া অ্যাগ্রোর মালিক সাইদুর রহমান সিফাতও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ নিয়ে একই উদ্বেগের কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘পশুখাদ্য থেকে পরিবহন- সবকিছুর খরচ বেড়েছে। তারপরও আমরা আশাবাদী। কারণ মানসম্মত পশুর চাহিদা এখনও বেশি।’
তার খামারে এ বছর কোরবানির হাটে তোলার জন্য ৫০ থেকে ৬০টি গরু ও ছাগল প্রস্তুত রয়েছে।
খামারিরা বলছেন, দেখতে ভালো ও সুস্থ মাঝারি আকারের গরুর দাম কোরবানির মৌসুমজুড়ে ভালোই থাকবে।
কারণ ক্রেতারা এখন অতিরিক্ত বড় ও দামি পশুর চেয়ে সাশ্রয়ী, মানসম্পন্ন ও সঠিকভাবে লালন করা পশুর দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।
আর্থিক চাপ থাকলেও নৈতিক খামার ব্যবস্থাপনা ও পশুর সুস্বাস্থ্যের কল্যাণে নিজেদের অঙ্গীকারে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন খামারিরা।
সিফাত বলেন, ‘কোরবানির মূল চেতনা হলো আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ। পরিবারগুলো যেন আস্থা ও স্বস্তির সঙ্গে কোরবানি দিতে পারে, সে জন্য খামারিরা সারা বছর পরিশ্রম করেন।’
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের পরিবেশ এখন ‘তুলনামূলক ইতিবাচক’। ঈদের মূল ব্যস্ততা শুরু হওয়ার আগেই ক্রেতারা খামারে যাচ্ছেন ও খোঁজখবর নিচ্ছেন, এমনকি আগাম বুকিংও দিচ্ছেন।
রাজধানীর আব্দুল মালেক অ্যাগ্রোর মালিক সম্রাট মির্জা জানান, তার খামারে এই মৌসুমে ৮০ থেকে ৮৫টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ যত্নে লালন করা কয়েকটি বড় আকারের গরুও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি বেশ ইতিবাচক মনে হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের ক্রেতার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।’
সম্রাট মির্জা আরও বলেন, ‘প্রতিটি খামারি সারাবছর এই মুহূর্তটির জন্য পরিশ্রম করেন। আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য, প্রতিটি পশু যেন কোরবানির জন্য কোনো না পরিবারের কাছে পৌঁছানো। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসবে, চাহিদা আরও বাড়বে বলে বিশ্বাস করি।’
অন্যদিকে ছায়াবীথি অ্যাগ্রোর কর্মকর্তা শারমিন জানান, ঈদের এত আগেই ক্রেতাদের উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রি ও খোঁজখবর নেওয়া দুটোই বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ নিজ প্রচেষ্টায় কোরবানির উপযুক্ত পশু খুঁজছেন। এতে একদিকে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে, সঙ্গে অনুপ্রেরণাও পাচ্ছি।’
তিনি বলেন, খামারের ছোট ও মাঝারি আকারের অনেক পশু ইতোমধ্যে আগাম বুক হয়ে গেছে। ঈদের আগের সপ্তাহে বাজার আরও সরগরম হবে বলে আশা রাখি। সেই বাড়তি চাহিদা মেটাতেও আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
এদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। এবার সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় ২২ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কোরবানির পশুর আনুমানিক চাহিদা ১ কোটি ১০ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। আর দেশজুড়ে সরবরাহযোগ্য পশুর সংখ্যা ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। সেই হিসেবে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।
মোট পশুর মধ্যে গরু ও মহিষ ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি; ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং অন্যান্য প্রজাতির ৫ হাজার ৬৫৫টি পশু রয়েছে ।
মন্ত্রী আরও জানান, ঈদ মৌসুমে সারা দেশে ৩ হাজার ৬শ’র বেশি পশুর হাট বসবে।
শুধু ঢাকাতেই ২৭টি পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় ১৬টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় ১১টি হাট থাকবে।
পাশপাশি পশুর স্বাস্থ্য ও জননিরপত্তা নিশ্চিতে হাটগুলোতে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকবে।
কোরবানির মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের আগ্রহ এবং সারাবছর অক্লান্ত পরিশ্রম করা খামারিদের লাভের প্রত্যাশায় জমে উঠতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক এই আয়োজন।