ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য : ব্রিটিশ হাইকমিশনার Logo ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তর পরিদর্শন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের Logo ১৯ কার্গো এলএনজি আসছে ঘাটতির আশংকা নেই Logo দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo বিএনপি সরকারের উদ্যোগ : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া Logo ফোন নীরবে যে ৪ কাজ করে Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধ ঘর থেকেই শুরু হোক Logo মনের জটিল জট খোলার মতো ১০টি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা

স্মার্টফোন যেন গোয়েন্দা, সারাক্ষণ নজরদারিতে রাখছে আপনাকে

  • আইটি ডেস্ক:
  • আপডেট সময় ১২:০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • 92

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সম্পর্কিত বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে
সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নেওয়া, অফিস যাওয়ার পথে ম্যাপ দেখা, খাবার অর্ডার করা কিংবা অনলাইনে কেনাকাটা দিনের বেশিরভাগ সময়ই আমাদের সঙ্গী স্মার্টফোন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার এই নিত্যসঙ্গী ডিভাইসটিই অনেক সময় আপনার প্রতিটি পদক্ষেপের নীরব সাক্ষী হয়ে থাকে?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর অবস্থান, চলাফেরা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কার্যক্রম সম্পর্কিত বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীরা বুঝতেই পারেন না, তাদের অবস্থান ও আচরণ সংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন অ্যাপ ও সেবার মাধ্যমে সংরক্ষিত হচ্ছে।
কীভাবে ট্র্যাক করা হয়?
স্মার্টফোনে থাকা জিপিএস, মোবাইল নেটওয়ার্কের সেল টাওয়ার, ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং ব্লুটুথ সিগন্যাল ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। এমনকি কোনো রাইড-শেয়ারিং সেবা ব্যবহার করা বা লোকেশন শেয়ার করলেও সেই তথ্য বিভিন্ন সিস্টেমে সংরক্ষিত হতে পারে।
শুধু তাই নয়, অনেক অ্যাপ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লোকেশন তথ্য সংগ্রহ করে। এসব তথ্য কখনও বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য, কখনও ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
কেন উদ্বেগের কারণ?
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ব্যক্তি কোথায় যান, কখন বাসা থেকে বের হন, কোথায় নিয়মিত সময় কাটান এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তার দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
ফিটনেস অ্যাপ, নেভিগেশন সেবা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা লোকেশন ডাটা একত্রিত করলে একজন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বিস্তর তথ্য জানা সম্ভব। আর এসব তথ্য ভুল ব্যক্তির হাতে গেলে তা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সবসময় লোকেশন চালু রাখা কি নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজন ছাড়া সারাক্ষণ লোকেশন সার্ভিস চালু রাখা উচিত নয়। নেভিগেশন, জরুরি পরিস্থিতি বা বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে অবস্থান ভাগাভাগি করার প্রয়োজন হলে লোকেশন চালু রাখা যেতে পারে। কাজ শেষ হলে তা বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
কোন অ্যাপ আপনার অবস্থান জানছে, দেখবেন কীভাবে?
অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন দুই প্ল্যাটফর্মেই লোকেশন ব্যবহারের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করার সুবিধা রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা সেটিংস থেকে লোকেশন অপশনে গিয়ে কোন অ্যাপ লোকেশন ব্যবহার করছে তা দেখতে পারবেন। অন্যদিকে আইফোন ব্যবহারকারীরা প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি মেনুর লোকেশন সার্ভিস অংশে গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমতি পরিবর্তন করতে পারবেন। যেসব অ্যাপের লোকেশন প্রয়োজন নেই, সেগুলোর অনুমতি বাতিল করে দিলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা অনেকটাই বাড়ে।
পুরোনো লোকেশন হিস্টোরিও মুছে ফেলুন
অনেক ব্যবহারকারী জানেন না যে, তাদের ভ্রমণ ও অবস্থানের ইতিহাস বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত থাকতে পারে। গুগল অ্যাকাউন্টের লোকেশন হিস্টোরি অপশন থেকে পুরোনো অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য মুছে ফেলার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া গোপনীয়তা রক্ষায় এমন ব্রাউজার ব্যবহার করা যেতে পারে, যেগুলো ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ কম করে বা ট্র্যাকিং সীমিত রাখে।
এয়ারপ্লেন মোড কি যথেষ্ট?
অনেকে মনে করেন এয়ারপ্লেন মোড চালু করলেই ফোন সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সিগন্যাল বা তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ থেকে যেতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো অপ্রয়োজনীয় অনুমতি বন্ধ রাখা, নিয়মিত প্রাইভেসি সেটিংস পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজন ছাড়া লোকেশন শেয়ার না করা।
প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, স্মার্টফোন তত বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠছে। তবে সেই সুবিধার সঙ্গে বাড়ছে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার চ্যালেঞ্জও। তাই সচেতন ব্যবহারই হতে পারে ডিজিটাল গোপনীয়তা রক্ষার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্মার্টফোন যেন গোয়েন্দা, সারাক্ষণ নজরদারিতে রাখছে আপনাকে

আপডেট সময় ১২:০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সম্পর্কিত বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে
সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নেওয়া, অফিস যাওয়ার পথে ম্যাপ দেখা, খাবার অর্ডার করা কিংবা অনলাইনে কেনাকাটা দিনের বেশিরভাগ সময়ই আমাদের সঙ্গী স্মার্টফোন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার এই নিত্যসঙ্গী ডিভাইসটিই অনেক সময় আপনার প্রতিটি পদক্ষেপের নীরব সাক্ষী হয়ে থাকে?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর অবস্থান, চলাফেরা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কার্যক্রম সম্পর্কিত বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীরা বুঝতেই পারেন না, তাদের অবস্থান ও আচরণ সংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন অ্যাপ ও সেবার মাধ্যমে সংরক্ষিত হচ্ছে।
কীভাবে ট্র্যাক করা হয়?
স্মার্টফোনে থাকা জিপিএস, মোবাইল নেটওয়ার্কের সেল টাওয়ার, ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং ব্লুটুথ সিগন্যাল ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। এমনকি কোনো রাইড-শেয়ারিং সেবা ব্যবহার করা বা লোকেশন শেয়ার করলেও সেই তথ্য বিভিন্ন সিস্টেমে সংরক্ষিত হতে পারে।
শুধু তাই নয়, অনেক অ্যাপ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লোকেশন তথ্য সংগ্রহ করে। এসব তথ্য কখনও বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য, কখনও ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
কেন উদ্বেগের কারণ?
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ব্যক্তি কোথায় যান, কখন বাসা থেকে বের হন, কোথায় নিয়মিত সময় কাটান এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তার দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
ফিটনেস অ্যাপ, নেভিগেশন সেবা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা লোকেশন ডাটা একত্রিত করলে একজন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বিস্তর তথ্য জানা সম্ভব। আর এসব তথ্য ভুল ব্যক্তির হাতে গেলে তা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সবসময় লোকেশন চালু রাখা কি নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজন ছাড়া সারাক্ষণ লোকেশন সার্ভিস চালু রাখা উচিত নয়। নেভিগেশন, জরুরি পরিস্থিতি বা বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে অবস্থান ভাগাভাগি করার প্রয়োজন হলে লোকেশন চালু রাখা যেতে পারে। কাজ শেষ হলে তা বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
কোন অ্যাপ আপনার অবস্থান জানছে, দেখবেন কীভাবে?
অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন দুই প্ল্যাটফর্মেই লোকেশন ব্যবহারের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করার সুবিধা রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা সেটিংস থেকে লোকেশন অপশনে গিয়ে কোন অ্যাপ লোকেশন ব্যবহার করছে তা দেখতে পারবেন। অন্যদিকে আইফোন ব্যবহারকারীরা প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি মেনুর লোকেশন সার্ভিস অংশে গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমতি পরিবর্তন করতে পারবেন। যেসব অ্যাপের লোকেশন প্রয়োজন নেই, সেগুলোর অনুমতি বাতিল করে দিলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা অনেকটাই বাড়ে।
পুরোনো লোকেশন হিস্টোরিও মুছে ফেলুন
অনেক ব্যবহারকারী জানেন না যে, তাদের ভ্রমণ ও অবস্থানের ইতিহাস বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত থাকতে পারে। গুগল অ্যাকাউন্টের লোকেশন হিস্টোরি অপশন থেকে পুরোনো অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য মুছে ফেলার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া গোপনীয়তা রক্ষায় এমন ব্রাউজার ব্যবহার করা যেতে পারে, যেগুলো ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ কম করে বা ট্র্যাকিং সীমিত রাখে।
এয়ারপ্লেন মোড কি যথেষ্ট?
অনেকে মনে করেন এয়ারপ্লেন মোড চালু করলেই ফোন সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সিগন্যাল বা তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ থেকে যেতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো অপ্রয়োজনীয় অনুমতি বন্ধ রাখা, নিয়মিত প্রাইভেসি সেটিংস পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজন ছাড়া লোকেশন শেয়ার না করা।
প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, স্মার্টফোন তত বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠছে। তবে সেই সুবিধার সঙ্গে বাড়ছে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার চ্যালেঞ্জও। তাই সচেতন ব্যবহারই হতে পারে ডিজিটাল গোপনীয়তা রক্ষার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।