ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ১০ কিলোমিটার মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বেপরোয়া বাস ও অবৈধ পার্কিংয়ে আতঙ্ক Logo আবুল কালাম এম.পির আন্তরিক প্রচেষ্টায় লাকসামে উন্নয়নের বিপ্লব: ৭ মাসে সাড়ে ৩৩ কোটি টাকায় ৪৯ প্রকল্প বাস্তবায়ন Logo বদলগাছীতে সহোদর দুই বোনকে বিয়ে করলেন টিকটকার মাসুদ Logo চাঁদপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে তোলা হবে একটি করে পাঠাগার-জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান Logo গ্রাম্য আদালতকে উপেক্ষা করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ Logo কলমাকান্দায় কাঠের সেতু সংস্কার, উদ্বোধন করল শিক্ষার্থীরা Logo রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন না হলে তারেক রহমানও শেখ হাসিনার পথে হাঁটবেন-আহবায়ক নাহিদ ইসলাম Logo গণ-অধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য রেলি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে স্পিকারের অনুদানের চেক পেলেন ১৯০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবার Logo মাতামুহুরীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ভারী ট্রাকে পিষ্ট হয়ে ভেঙে চৌচির ১৫ কিমি সড়ক হুমকিতে বেতুয়াবাজার ব্রিজ ও নদীর গাইড ওয়াল, প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

বর্ষায় জলাবদ্ধ রাস্তায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এড়াতে করণীয়

  • আইটি ডেস্ক:
  • আপডেট সময় ০২:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • 123

শহরের রাস্তার নোংরা বা খনিজ মিশ্রিত পানি বিশুদ্ধ পানির তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ পরিবাহিতা তৈরি করতে পারে। ছবি: জাগো নিউজ
বর্ষাকালে শহরের রাস্তাঘাটে জলাবদ্ধতা এখন পরিচিত দৃশ্য। অফিস, স্কুল কিংবা জরুরি কাজে অনেক সময় হাঁটু বা গোড়ালি সমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়। কিন্তু এই জমে থাকা পানি শুধু চলাচলের অসুবিধাই তৈরি করে না, কখনো কখনো তা প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে। বিদ্যুতের খুঁটি, ছিঁড়ে পড়া তার, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে ওই পানিতে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বর্ষায় জলাবদ্ধ এলাকায় চলাফেরার সময় বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
বিদ্যুৎ সাধারণত কম প্রতিরোধের পথ ধরে প্রবাহিত হয়। বৃষ্টির পানি, বিশেষ করে শহরের রাস্তার নোংরা বা খনিজ মিশ্রিত পানি বিশুদ্ধ পানির তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ পরিবাহিতা তৈরি করতে পারে। যদি কোনো বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পানিতে পড়ে বা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে লিকেজ থাকে, তাহলে আশপাশের জমে থাকা পানিও বিদ্যুতায়িত হতে পারে। বাইরে থেকে বোঝার উপায় না থাকায় অনেক সময় মানুষ অজান্তেই বিপদের মুখে পড়েন।
জলাবদ্ধ এলাকায় হাঁটার আগে আশপাশে নজর দিন। কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটি, ট্রান্সফরমার, রাস্তার আলোর খুঁটি বা ছিঁড়ে পড়া তার দেখা গেলে সেই পথ এড়িয়ে চলুন। পানির নিচে কী আছে তা দেখা যায় না, তাই অজানা জলাবদ্ধ পথে না নামাই নিরাপদ।
বৈদ্যুতিক তার পানিতে পড়ে থাকতে দেখলে কখনোই সেটির কাছে যাবেন না বা সরানোর চেষ্টা করবেন না। অন্তত ১০ মিটার দূরে অবস্থান করুন এবং আশপাশের মানুষকে সতর্ক করুন। দ্রুত স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ বা জরুরি সেবায় খবর দিন।
বৃষ্টির সময় খালি পায়ে বা পাতলা স্যান্ডেল পরে জলাবদ্ধ রাস্তায় হাঁটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। প্রয়োজনে মোটা রাবারের সোলযুক্ত জুতা বা বুট ব্যবহার করুন। যদিও এগুলো শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, তবুও ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।
জলাবদ্ধ এলাকায় যদি কারো শরীরে বিদ্যুতের শক লাগতে দেখেন, তাহলে সরাসরি তাকে স্পর্শ করবেন না। এতে আপনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে পারেন। প্রথমে বিদ্যুতের উৎস বন্ধ করার চেষ্টা করুন। তা সম্ভব না হলে শুকনো কাঠ, প্লাস্টিক বা অন্য কোনো বিদ্যুৎ অপরিবাহী বস্তু দিয়ে নিরাপদ দূরত্ব থেকে তাকে সরানোর চেষ্টা করুন এবং দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন।
বর্ষার সময় বাড়ির বাইরের বৈদ্যুতিক সংযোগ, মোটর, এক্সটেনশন বোর্ড বা খোলা তার বৃষ্টির পানির সংস্পর্শে এলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই এসব যন্ত্রপাতি শুকনো ও নিরাপদ স্থানে রাখুন। কোনো সুইচ, প্লাগ বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র ভেজা হাতে স্পর্শ করবেন না।
অনেক সময় জলাবদ্ধ রাস্তায় শিশুদের খেলতে দেখা যায়। অভিভাবকদের উচিত এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা। শিশুদের জমে থাকা পানিতে খেলতে না দেওয়া এবং জলাবদ্ধ এলাকা থেকে দূরে রাখা জরুরি, কারণ তারা সম্ভাব্য বৈদ্যুতিক ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকে না।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ এবং বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নির্দেশিকাগুলোও বর্ষার সময় বিদ্যুতের খুঁটি, ট্রান্সফরমার বা বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর আশপাশে জমে থাকা পানি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। কোথাও স্পার্ক, অস্বাভাবিক শব্দ বা পোড়া গন্ধ টের পেলে দ্রুত এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
বর্ষার জলাবদ্ধতা অনেক সময় সাময়িক সমস্যা মনে হলেও এর মধ্যে অদৃশ্য বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই কয়েকটি সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। মনে রাখবেন, জমে থাকা পানি সব সময় নিরীহ নয় কখনো কখনো সেটিই প্রাণঘাতী বিদ্যুতের বাহক হয়ে উঠতে পারে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ১০ কিলোমিটার মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বেপরোয়া বাস ও অবৈধ পার্কিংয়ে আতঙ্ক

বর্ষায় জলাবদ্ধ রাস্তায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এড়াতে করণীয়

আপডেট সময় ০২:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

শহরের রাস্তার নোংরা বা খনিজ মিশ্রিত পানি বিশুদ্ধ পানির তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ পরিবাহিতা তৈরি করতে পারে। ছবি: জাগো নিউজ
বর্ষাকালে শহরের রাস্তাঘাটে জলাবদ্ধতা এখন পরিচিত দৃশ্য। অফিস, স্কুল কিংবা জরুরি কাজে অনেক সময় হাঁটু বা গোড়ালি সমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়। কিন্তু এই জমে থাকা পানি শুধু চলাচলের অসুবিধাই তৈরি করে না, কখনো কখনো তা প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে। বিদ্যুতের খুঁটি, ছিঁড়ে পড়া তার, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র থেকে ওই পানিতে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বর্ষায় জলাবদ্ধ এলাকায় চলাফেরার সময় বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
বিদ্যুৎ সাধারণত কম প্রতিরোধের পথ ধরে প্রবাহিত হয়। বৃষ্টির পানি, বিশেষ করে শহরের রাস্তার নোংরা বা খনিজ মিশ্রিত পানি বিশুদ্ধ পানির তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ পরিবাহিতা তৈরি করতে পারে। যদি কোনো বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পানিতে পড়ে বা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে লিকেজ থাকে, তাহলে আশপাশের জমে থাকা পানিও বিদ্যুতায়িত হতে পারে। বাইরে থেকে বোঝার উপায় না থাকায় অনেক সময় মানুষ অজান্তেই বিপদের মুখে পড়েন।
জলাবদ্ধ এলাকায় হাঁটার আগে আশপাশে নজর দিন। কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটি, ট্রান্সফরমার, রাস্তার আলোর খুঁটি বা ছিঁড়ে পড়া তার দেখা গেলে সেই পথ এড়িয়ে চলুন। পানির নিচে কী আছে তা দেখা যায় না, তাই অজানা জলাবদ্ধ পথে না নামাই নিরাপদ।
বৈদ্যুতিক তার পানিতে পড়ে থাকতে দেখলে কখনোই সেটির কাছে যাবেন না বা সরানোর চেষ্টা করবেন না। অন্তত ১০ মিটার দূরে অবস্থান করুন এবং আশপাশের মানুষকে সতর্ক করুন। দ্রুত স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ বা জরুরি সেবায় খবর দিন।
বৃষ্টির সময় খালি পায়ে বা পাতলা স্যান্ডেল পরে জলাবদ্ধ রাস্তায় হাঁটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। প্রয়োজনে মোটা রাবারের সোলযুক্ত জুতা বা বুট ব্যবহার করুন। যদিও এগুলো শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, তবুও ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।
জলাবদ্ধ এলাকায় যদি কারো শরীরে বিদ্যুতের শক লাগতে দেখেন, তাহলে সরাসরি তাকে স্পর্শ করবেন না। এতে আপনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে পারেন। প্রথমে বিদ্যুতের উৎস বন্ধ করার চেষ্টা করুন। তা সম্ভব না হলে শুকনো কাঠ, প্লাস্টিক বা অন্য কোনো বিদ্যুৎ অপরিবাহী বস্তু দিয়ে নিরাপদ দূরত্ব থেকে তাকে সরানোর চেষ্টা করুন এবং দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন।
বর্ষার সময় বাড়ির বাইরের বৈদ্যুতিক সংযোগ, মোটর, এক্সটেনশন বোর্ড বা খোলা তার বৃষ্টির পানির সংস্পর্শে এলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই এসব যন্ত্রপাতি শুকনো ও নিরাপদ স্থানে রাখুন। কোনো সুইচ, প্লাগ বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র ভেজা হাতে স্পর্শ করবেন না।
অনেক সময় জলাবদ্ধ রাস্তায় শিশুদের খেলতে দেখা যায়। অভিভাবকদের উচিত এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা। শিশুদের জমে থাকা পানিতে খেলতে না দেওয়া এবং জলাবদ্ধ এলাকা থেকে দূরে রাখা জরুরি, কারণ তারা সম্ভাব্য বৈদ্যুতিক ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকে না।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ এবং বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নির্দেশিকাগুলোও বর্ষার সময় বিদ্যুতের খুঁটি, ট্রান্সফরমার বা বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর আশপাশে জমে থাকা পানি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। কোথাও স্পার্ক, অস্বাভাবিক শব্দ বা পোড়া গন্ধ টের পেলে দ্রুত এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
বর্ষার জলাবদ্ধতা অনেক সময় সাময়িক সমস্যা মনে হলেও এর মধ্যে অদৃশ্য বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই কয়েকটি সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। মনে রাখবেন, জমে থাকা পানি সব সময় নিরীহ নয় কখনো কখনো সেটিই প্রাণঘাতী বিদ্যুতের বাহক হয়ে উঠতে পারে।