ঢাকা ০৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ৭ লাখ ১০ হাজার কৃষকের ৬০৫ কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করেছে

বর্তমান সরকারের নির্বচানী ইশতেহার অনুযায়ী কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের বোঝা লাঘব করতে অনূর্ধ্ব ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণের আসল ও সুদ মওকুফ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জন কৃষকের ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। মওকুফকৃত ঋণের পরিমাণ ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ ৮ হাজার ৬৬৭ টাকা। উল্লেখ্য, সরকার কর্তৃক মওকুফকৃত মোট টাকার প্রায় ৩৯% বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের। দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকা ক্ষুদ্র অঙ্কের কৃষিঋণ কৃষকদের আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছিল। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, মন্দা বাজার পরিস্থিতি এবং নানা আর্থিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না। ফলে কৃষকদের একটি বড় অংশ নতুন করে ঋণ গ্রহণের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এ ধরণের পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সারাদেশে তথ্য যাচাই, হিসাব সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে উপযুক্ত কৃষকদের ঋণ মওকুফের আওতায় নিয়ে আসে। উল্লেখ্য, কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে মোট বিতরণকৃত কৃষিঋণের ৬৩% ব্যাংকটি এককভাবে বিতরণ করে থাকে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ঋণের দায় থেকে মুক্ত হয়েছেন। এর ফলে তারা আবারও নিয়মিত ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনের জন্য নতুন করে ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। কৃষকদের ঋণের বোঝা কমে গেলে তারা চাষাবাদে নতুন উদ্যমে মনোনিবেশ করতে পারবেন। ফলশ্রুতিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতার উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কৃষির আধুনিকায়ন ও কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে সরকারের গৃহীত নীতিমালা বাস্তবায়নে ব্যাংক সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, সময়োপযোগী আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিবান্ধব ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে ব্যাংকটি দক্ষ ব্যবস্থাপনায় সুনিপুণ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে। মওকুফ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ বিভাগীয়/আঞ্চলিক ও শাখা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দেশের কৃষি উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

 

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ৭ লাখ ১০ হাজার কৃষকের ৬০৫ কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করেছে

আপডেট সময় ০৭:৪১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বর্তমান সরকারের নির্বচানী ইশতেহার অনুযায়ী কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের বোঝা লাঘব করতে অনূর্ধ্ব ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণের আসল ও সুদ মওকুফ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জন কৃষকের ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। মওকুফকৃত ঋণের পরিমাণ ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ ৮ হাজার ৬৬৭ টাকা। উল্লেখ্য, সরকার কর্তৃক মওকুফকৃত মোট টাকার প্রায় ৩৯% বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের। দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকা ক্ষুদ্র অঙ্কের কৃষিঋণ কৃষকদের আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছিল। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, মন্দা বাজার পরিস্থিতি এবং নানা আর্থিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না। ফলে কৃষকদের একটি বড় অংশ নতুন করে ঋণ গ্রহণের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এ ধরণের পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সারাদেশে তথ্য যাচাই, হিসাব সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে উপযুক্ত কৃষকদের ঋণ মওকুফের আওতায় নিয়ে আসে। উল্লেখ্য, কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে মোট বিতরণকৃত কৃষিঋণের ৬৩% ব্যাংকটি এককভাবে বিতরণ করে থাকে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ঋণের দায় থেকে মুক্ত হয়েছেন। এর ফলে তারা আবারও নিয়মিত ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনের জন্য নতুন করে ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। কৃষকদের ঋণের বোঝা কমে গেলে তারা চাষাবাদে নতুন উদ্যমে মনোনিবেশ করতে পারবেন। ফলশ্রুতিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতার উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কৃষির আধুনিকায়ন ও কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে সরকারের গৃহীত নীতিমালা বাস্তবায়নে ব্যাংক সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, সময়োপযোগী আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিবান্ধব ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে ব্যাংকটি দক্ষ ব্যবস্থাপনায় সুনিপুণ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে। মওকুফ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ বিভাগীয়/আঞ্চলিক ও শাখা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দেশের কৃষি উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।