ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

অপরিকল্পিত নগরায়ন-শিল্পায়ন ও পরিবেশ-জলবায়ুর বৈরি প্রভাবে সীতাকুন্ডে ভূ-গর্ভস্থ পানিতে অশনিসংকেত বাড়ছে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি

ভূ-গর্ভস্থ পানি হচ্ছে ”অদৃশ্য সম্পদের, দৃশ্যমান প্রভাব। পানির প্রাথমিক ও সহজলভ্য মূল্যবান উৎস হচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পানি। সীতাকুন্ডে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা। মূলত নাগরিক চাহিদা পূরণ ও সেচ প্রকল্পে গভীর-অগভীর নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারনে নিচে নামছে পানির এ স্তর। জাতীয় পানি নীতি ১৯৯৯ সহ সরকারের অন্যান্য নীতিমালা উপেক্ষা করে অপরিকল্পিত নগরায়ন শিল্পায়নের প্রভাব আর ভূ-উপরিভাগের নদ-নদী, খাল-বিল ও পুকুর ভরাট সহ পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। পৌরএলাকায় হস্তচালিত নলকূপ প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। আর গভীর নলকূপগুলোতে উঠছেনা পর্যাপ্ত পানি। এমতাবস্থায় এবার উপজেলায় আগে ভাগেই খরা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলার ১নং সৈয়দপুর ইউনিয়ন পূর্ব সৈয়দপুর থেকে কাজী নাসিম উদ্দিন বলেন, সীতাকু-ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় নদী-নালা, খাল-বিল ও পুকুরগুলো প্রায় শুকিয়ে গেছে। ফলে অনেক এলাকায় চাষাবাদে ভূ-উপরিভাগের পর্যাপ্ত স্বাভাবিক পানি মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের উপর নির্ভরতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শীতলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, সৈয়দপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পানির স্তর ইতোমধ্যে ৪ থেকে ১০ ফুট নিচে নেমে গেছে। তিনি প্রাকৃতিক পানির সংরক্ষণ‘সহ পুকুর-দিঘীগুলোর পানি জনসাধারণের ব্যবহার উপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেন। সীতাকু- পৌরসদরস্থ ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ বলেন, এমনিতেই ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ২৬ ফুটের নিচে নামলে নলকূপে চাহিদা মতো পানি উঠে না। এবার পানির স্তর কোন কোন এলাকায় এখন ৩০ থেকে ৩৫ ফুট নিচে নেমে গেছে। তাতে দেখা দিয়েছে প্রাকৃতিক দূর্যোগের শঙ্কা। সূত্র জানায়, ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের দিক দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বর্তমানে চলছে বোরো মৌসুম। বোরো আবাদ পুরোটাই সেচনির্ভর। নদী-নালা ও খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাওয়ার পাম্পে নদী-নালার পানিতে সেচ এখন নেই বললেই চলে। ফলে নদী-নালা ও খাল-বিলের পাড়েও বসেছে গভীর নলকূপ। খাবার পানিও উঠছে গভীর নলকূপে। সেচযন্ত্র দিয়ে পানি উত্তোলনের ফলে মাটির নিচের পানির স্তরে মারাত্মক চাপ পড়ছে। ফলে সুপেয় পানির উৎস যেমন কমছে, তেমনি বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে কৃষিখাত। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ফলে বাড়ছে পরিবেশ বিপর্যয়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি। ভূ-গর্ভস্থ পানিতে অশনিসংকেত দেখছেন গবেষকরা। কলাবাড়ীয়া থেকে ডা. কমল কদর বলেন, খাবার পানি সহ রান্না, গোসল ও চাষাবাদে পানির চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহার হয় ভূ-গর্ভস্থ স্তর থেকে। ১৯৬৮ সালে বাংলাদেশে গভীর নলকূপ বসানো শুরু হয়। তখন মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ফুট নিচে নলকূপ বসিয়েই পানি পাওয়া যেতো। আর এখন ১৬০ ফুট নিচেও পাওয়া যাচ্ছে না পর্যাপ্ত পানি। অথচ একযুগ আগেও ৬০-৭০ ফুট নিচে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যেতো। উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, স্বাভাবিক নিয়মে ভূ-গর্ভস্থ পানির যে স্তরটুকু খালি হয়, তা পরবর্তী সময়ে প্রাকৃতিক ভাবে পূরণ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত পানি উত্তোলণ ও অনাবৃষ্টির কারণে তা আর হচ্ছে না। ফলে বাড়ছে প্রাকৃতিক দূর্যোগজনিত ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণে ভূ-গর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ পানির প্রাকৃতিক উৎস সংরক্ষণ করতে হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

অপরিকল্পিত নগরায়ন-শিল্পায়ন ও পরিবেশ-জলবায়ুর বৈরি প্রভাবে সীতাকুন্ডে ভূ-গর্ভস্থ পানিতে অশনিসংকেত বাড়ছে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি

আপডেট সময় ০৯:১৯:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ভূ-গর্ভস্থ পানি হচ্ছে ”অদৃশ্য সম্পদের, দৃশ্যমান প্রভাব। পানির প্রাথমিক ও সহজলভ্য মূল্যবান উৎস হচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পানি। সীতাকুন্ডে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা। মূলত নাগরিক চাহিদা পূরণ ও সেচ প্রকল্পে গভীর-অগভীর নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারনে নিচে নামছে পানির এ স্তর। জাতীয় পানি নীতি ১৯৯৯ সহ সরকারের অন্যান্য নীতিমালা উপেক্ষা করে অপরিকল্পিত নগরায়ন শিল্পায়নের প্রভাব আর ভূ-উপরিভাগের নদ-নদী, খাল-বিল ও পুকুর ভরাট সহ পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। পৌরএলাকায় হস্তচালিত নলকূপ প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। আর গভীর নলকূপগুলোতে উঠছেনা পর্যাপ্ত পানি। এমতাবস্থায় এবার উপজেলায় আগে ভাগেই খরা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলার ১নং সৈয়দপুর ইউনিয়ন পূর্ব সৈয়দপুর থেকে কাজী নাসিম উদ্দিন বলেন, সীতাকু-ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় নদী-নালা, খাল-বিল ও পুকুরগুলো প্রায় শুকিয়ে গেছে। ফলে অনেক এলাকায় চাষাবাদে ভূ-উপরিভাগের পর্যাপ্ত স্বাভাবিক পানি মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের উপর নির্ভরতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শীতলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, সৈয়দপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পানির স্তর ইতোমধ্যে ৪ থেকে ১০ ফুট নিচে নেমে গেছে। তিনি প্রাকৃতিক পানির সংরক্ষণ‘সহ পুকুর-দিঘীগুলোর পানি জনসাধারণের ব্যবহার উপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেন। সীতাকু- পৌরসদরস্থ ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ বলেন, এমনিতেই ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ২৬ ফুটের নিচে নামলে নলকূপে চাহিদা মতো পানি উঠে না। এবার পানির স্তর কোন কোন এলাকায় এখন ৩০ থেকে ৩৫ ফুট নিচে নেমে গেছে। তাতে দেখা দিয়েছে প্রাকৃতিক দূর্যোগের শঙ্কা। সূত্র জানায়, ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের দিক দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বর্তমানে চলছে বোরো মৌসুম। বোরো আবাদ পুরোটাই সেচনির্ভর। নদী-নালা ও খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাওয়ার পাম্পে নদী-নালার পানিতে সেচ এখন নেই বললেই চলে। ফলে নদী-নালা ও খাল-বিলের পাড়েও বসেছে গভীর নলকূপ। খাবার পানিও উঠছে গভীর নলকূপে। সেচযন্ত্র দিয়ে পানি উত্তোলনের ফলে মাটির নিচের পানির স্তরে মারাত্মক চাপ পড়ছে। ফলে সুপেয় পানির উৎস যেমন কমছে, তেমনি বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে কৃষিখাত। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ফলে বাড়ছে পরিবেশ বিপর্যয়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি। ভূ-গর্ভস্থ পানিতে অশনিসংকেত দেখছেন গবেষকরা। কলাবাড়ীয়া থেকে ডা. কমল কদর বলেন, খাবার পানি সহ রান্না, গোসল ও চাষাবাদে পানির চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহার হয় ভূ-গর্ভস্থ স্তর থেকে। ১৯৬৮ সালে বাংলাদেশে গভীর নলকূপ বসানো শুরু হয়। তখন মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ফুট নিচে নলকূপ বসিয়েই পানি পাওয়া যেতো। আর এখন ১৬০ ফুট নিচেও পাওয়া যাচ্ছে না পর্যাপ্ত পানি। অথচ একযুগ আগেও ৬০-৭০ ফুট নিচে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যেতো। উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, স্বাভাবিক নিয়মে ভূ-গর্ভস্থ পানির যে স্তরটুকু খালি হয়, তা পরবর্তী সময়ে প্রাকৃতিক ভাবে পূরণ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত পানি উত্তোলণ ও অনাবৃষ্টির কারণে তা আর হচ্ছে না। ফলে বাড়ছে প্রাকৃতিক দূর্যোগজনিত ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণে ভূ-গর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ পানির প্রাকৃতিক উৎস সংরক্ষণ করতে হবে।