ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা! Logo দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, পহরডাঙ্গা ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ঠাকুর আবুল আজম

এআই ব্যবহারে কমছে চিন্তাশক্তি

  • আইটি ডেস্ক:
  • আপডেট সময় ০৭:৪৩:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • 177

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার মানুষের তাৎক্ষণিক কাজের দক্ষতা বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে তা চিন্তাশক্তি, অধ্যবসায় এবং স্বতন্ত্রভাবে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে-এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।
এনগ্যাজেট এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়-সম্প্রতি প্রকাশিত ‘এআই অ্যাসিস্ট্যান্স রিডিউসেস পারসিস্টেন্স অ্যান্ড হার্টস ইন্ডিপেনডেন্ট পারফরম্যান্স’ শীর্ষক এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এআই সহায়তা তাৎক্ষণিক পারফরম্যান্স উন্নত করে, তবে এর বিনিময়ে দিতে হয় ‘ভারী কগনিটিভ মূল্য’ বা মস্তিষ্কের চিন্তা-ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব।
গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক যৌথভাবে পরিচালনা করেন। এতে মোট ১ হাজার ২২২ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর একাধিক র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল চালানো হয়। গবেষকদের মতে, মাত্র ১০ মিনিট এআই ব্যবহার করার পরই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভরতা তৈরি হতে দেখা গেছে। এআই সহায়তা বন্ধ করে দিলে তাদের সঠিক উত্তর দেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, একই সঙ্গে অনেকেই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা ছেড়ে দেন।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের একাংশকে ভগ্নাংশভিত্তিক গাণিতিক সমস্যা সমাধানের সময় ওপেনএআই-এর জিপিটি-৫ ভিত্তিক একটি বিশেষ চ্যাটবট ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। অপর অংশকে কোনো সহায়তা ছাড়া একই কাজ করতে বলা হয়।
পরীক্ষার মাঝপথে এআই ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে সহায়তা সরিয়ে নেওয়া হলে দেখা যায়, তাদের সঠিক উত্তর দেওয়ার হার দ্রুত কমে যায় এবং অনেকেই পরবর্তী প্রশ্নে আর চেষ্টা করেননি। একই প্রবণতা পরবর্তী বৃহত্তর পরীক্ষাতেও পুনরাবৃত্তি হয়।
গবেষণার সহলেখক এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের সহকারী অধ্যাপক রচিত দুবে বলেন, ‘এআই সরিয়ে নেওয়ার পর মানুষ শুধু ভুল উত্তরই দিচ্ছে না, তারা চেষ্টা করার ইচ্ছাও হারিয়ে ফেলছে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষা খাতে দ্রুত এআই নির্ভরতা তৈরি হলে এমন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠতে পারে, যারা নিজেদের সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতনই হবে না। এতে মানবিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে গবেষণায় একটি ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। যারা এআইকে সরাসরি উত্তর পাওয়ার বদলে ইঙ্গিত, ব্যাখ্যা বা ধারণা পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করেছেন, তাদের স্বতন্ত্র পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো ছিল।গবেষণাটি এখনো পিয়ার-রিভিউ হয়নি, ফলে এর ফলাফলকে প্রাথমিক পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা

এআই ব্যবহারে কমছে চিন্তাশক্তি

আপডেট সময় ০৭:৪৩:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার মানুষের তাৎক্ষণিক কাজের দক্ষতা বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে তা চিন্তাশক্তি, অধ্যবসায় এবং স্বতন্ত্রভাবে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে-এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।
এনগ্যাজেট এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়-সম্প্রতি প্রকাশিত ‘এআই অ্যাসিস্ট্যান্স রিডিউসেস পারসিস্টেন্স অ্যান্ড হার্টস ইন্ডিপেনডেন্ট পারফরম্যান্স’ শীর্ষক এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এআই সহায়তা তাৎক্ষণিক পারফরম্যান্স উন্নত করে, তবে এর বিনিময়ে দিতে হয় ‘ভারী কগনিটিভ মূল্য’ বা মস্তিষ্কের চিন্তা-ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব।
গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক যৌথভাবে পরিচালনা করেন। এতে মোট ১ হাজার ২২২ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর একাধিক র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল চালানো হয়। গবেষকদের মতে, মাত্র ১০ মিনিট এআই ব্যবহার করার পরই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভরতা তৈরি হতে দেখা গেছে। এআই সহায়তা বন্ধ করে দিলে তাদের সঠিক উত্তর দেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, একই সঙ্গে অনেকেই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা ছেড়ে দেন।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের একাংশকে ভগ্নাংশভিত্তিক গাণিতিক সমস্যা সমাধানের সময় ওপেনএআই-এর জিপিটি-৫ ভিত্তিক একটি বিশেষ চ্যাটবট ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। অপর অংশকে কোনো সহায়তা ছাড়া একই কাজ করতে বলা হয়।
পরীক্ষার মাঝপথে এআই ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে সহায়তা সরিয়ে নেওয়া হলে দেখা যায়, তাদের সঠিক উত্তর দেওয়ার হার দ্রুত কমে যায় এবং অনেকেই পরবর্তী প্রশ্নে আর চেষ্টা করেননি। একই প্রবণতা পরবর্তী বৃহত্তর পরীক্ষাতেও পুনরাবৃত্তি হয়।
গবেষণার সহলেখক এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের সহকারী অধ্যাপক রচিত দুবে বলেন, ‘এআই সরিয়ে নেওয়ার পর মানুষ শুধু ভুল উত্তরই দিচ্ছে না, তারা চেষ্টা করার ইচ্ছাও হারিয়ে ফেলছে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষা খাতে দ্রুত এআই নির্ভরতা তৈরি হলে এমন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠতে পারে, যারা নিজেদের সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতনই হবে না। এতে মানবিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে গবেষণায় একটি ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। যারা এআইকে সরাসরি উত্তর পাওয়ার বদলে ইঙ্গিত, ব্যাখ্যা বা ধারণা পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করেছেন, তাদের স্বতন্ত্র পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো ছিল।গবেষণাটি এখনো পিয়ার-রিভিউ হয়নি, ফলে এর ফলাফলকে প্রাথমিক পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।