ঢাকার কেরাণীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক বলেছেন, রিকশাচিত্র শিল্প বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প, যা দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন। তিনি বলেন, রিকশার পেছনে ও দুই পাশে রঙিন তুলির আঁচড়ে ফুটে ওঠে ফুল, পাখি, গ্রামীণ জীবন, ঐতিহাসিক ঘটনা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, চলচ্চিত্রের দৃশ্য এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ। প্রতিটি চিত্রই একটি গল্প, একটি অনুভূতি কিংবা কোনো বিশেষ ঘটনার প্রতিচ্ছবি বহন করে। শিল্পীদের দক্ষ হাতের তুলির ছোঁয়ায় এসব চিত্র যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, রিকশাচিত্র শুধু একটি শিল্প নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম বাহক। যা দেশ-বিদেশে সমানভাবে প্রশংসিত। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রিকশার সংখ্যা কমে যাওয়ায় এই লোকশিল্প বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে। মো. উমর ফারুক বলেন, রিকশা একটি পরিবেশবান্ধব ও বায়ুদূষণমুক্ত ত্রিচক্রযান। পরিবেশ সুরক্ষা এবং দেশের ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে রিকশা ও রিকশাচিত্র—উভয়কেই সংরক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা করা জরুরি। সরকারের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে। গত শনিবার সকালে কেরাণীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত রিকশাচিত্র শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা শীর্ষক কর্মশালা এবং নকশা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের গবেষণা কর্মকর্তা এ কে এম মুজ্জাম্মিল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেরাণীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আব্দুল গনি, সাধারণ সম্পাদক এস এম শামীম উদ্দিন, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. শফিক চৌধুরী, বিশিষ্ট চিত্রকর তপন দাস, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. হনিফ পাপ্পু, স্বপন দাস, সিতারান দাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সংবাদ শিরোনাম
রিকশাচিত্র শিল্প বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প-মো. উমর ফারুক
-
শামীম আহম্মেদ (কেরাণীগঞ্জ) ঢাকা - আপডেট সময় ০৮:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- 100
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























