ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন Logo কালিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন Logo দুর্গাপুরে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত Logo গলাচিপায় (সি-পি-পি) স্বেচ্ছা সেবক দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ Logo উখিয়ায় নলকূপের পাইপ দিয়ে গ্যাস নির্গমনের আগুন জ্বলবে আরো ১ সপ্তাহ, ২০০ মিটারের বাসিন্দাদের সরানোর পরামর্শ বাপেক্সের Logo কালীগঞ্জে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: লুট হওয়া বৈদ্যুতিক সামগ্রী উদ্ধার, গ্রেফতার ২ Logo স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনা সদস্য সফিকুল ইসলাম Logo ফুলতলায় বরণপাড়া বায়োগ্যাস পল্লী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি Logo টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য মিছিল Logo মধুপুরের বংশাই নদী জোর কদমে চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষম দুটি ইউনিটিই বন্ধ

দেশের প্রথম বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষম দুটি ইউনিটই বিকল হয়ে পড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এরফলে উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। কোথাও এক ঘন্টা পর পর আবার কোথাও ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেড চলছে। এতে করে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তিনটি ইউনিট রয়েছে। এরমধ্যে ১নং ও ২নং ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট করে ২৫০ মেগাওয়াট এবং ৩নং ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতায় ২নং ইউনিটটি সাড়প চার বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। ২০২০ সালের নভেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়ে ২নং ইউনিটটি বন্ধ হয়ে গেলেও তা মেরামতের কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, পিডিবি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। সেই থেকে ১নং ও ৩নং ইউনিট চালু রেখে ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিপরীতে দুটি ইউনিটে ২৬০-২৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হতো। সুত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবর /২০২৫ থেকে ৩নং ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ৩ নং ইউনিটটির ওভারহলিং চলছে। সেই থেকে ১নং ইউনিটি খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছিল। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে কোল মিলে সমস্যা দেখা দিলে ১ নং ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এরফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সুত্রমতে, বড়পুকুরিয়া খনি থেকে উৎপাদিত কয়লা দিয়ে ৫২৫ মেগাওয়াট বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। পাঁচ বছরের চুক্তি মোতাবেক এ বছর তাদের মেয়াদ শেষ হবে। চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন সচল রাখতে ছোট ধরনের মেরামত ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের কথা থাকলেও তার কিছুই করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বলে অভিযোগ রয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করায় বার বার ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। সুত্র টি আরো জানায়, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের প্রতিটি ইউনিট সচল রাখতে প্রয়োজন হয় দুটি করে ইলেকট্রো হাইড্রোলিক অয়েল পাম্প। যা ওই ইউনিটের জ্বালানি হিসেবে তেল সরবরাহের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখে; কিন্তু ২০২২ সাল থেকে ৩নং ইউনিটের দুটির মধ্যে একটি পাম্প নষ্ট। যে কোনো সময় বন্ধের ঝুঁকি নিয়ে একটি ইলেকট্রো হাইড্রোলিক অয়েল পাম্প দিয়ে ৩নং ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম চলে আসছিল। ফলে মাঝে মধ্যেই যান্ত্রিক ক্রটি দেখা দিয়ে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। একাধিকবার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি অবগত করলেও তারা অজ্ঞাত কারণে তা আমলে নেয়নি। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বৃহস্পতিবার বিকেলে দৈনিক খবরপত্রকে বলেন, কোল মিল মেরামত করে ১নং ইউনিটটি চালু করতে কমপক্ষে ৪/৫দিন সময় লাগবে। আর ৩ নং ইউনিটটি ওভারহলিং শেষে আগামী মাসের (মে ২০২৬) মাঝামাঝিতে উৎপাদনে যেতে পারে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষম দুটি ইউনিটিই বন্ধ

আপডেট সময় ১০:৩০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

দেশের প্রথম বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষম দুটি ইউনিটই বিকল হয়ে পড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এরফলে উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। কোথাও এক ঘন্টা পর পর আবার কোথাও ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেড চলছে। এতে করে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তিনটি ইউনিট রয়েছে। এরমধ্যে ১নং ও ২নং ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট করে ২৫০ মেগাওয়াট এবং ৩নং ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতায় ২নং ইউনিটটি সাড়প চার বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। ২০২০ সালের নভেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়ে ২নং ইউনিটটি বন্ধ হয়ে গেলেও তা মেরামতের কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, পিডিবি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। সেই থেকে ১নং ও ৩নং ইউনিট চালু রেখে ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিপরীতে দুটি ইউনিটে ২৬০-২৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হতো। সুত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবর /২০২৫ থেকে ৩নং ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ৩ নং ইউনিটটির ওভারহলিং চলছে। সেই থেকে ১নং ইউনিটি খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছিল। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে কোল মিলে সমস্যা দেখা দিলে ১ নং ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এরফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সুত্রমতে, বড়পুকুরিয়া খনি থেকে উৎপাদিত কয়লা দিয়ে ৫২৫ মেগাওয়াট বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। পাঁচ বছরের চুক্তি মোতাবেক এ বছর তাদের মেয়াদ শেষ হবে। চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন সচল রাখতে ছোট ধরনের মেরামত ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের কথা থাকলেও তার কিছুই করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বলে অভিযোগ রয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করায় বার বার ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। সুত্র টি আরো জানায়, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের প্রতিটি ইউনিট সচল রাখতে প্রয়োজন হয় দুটি করে ইলেকট্রো হাইড্রোলিক অয়েল পাম্প। যা ওই ইউনিটের জ্বালানি হিসেবে তেল সরবরাহের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখে; কিন্তু ২০২২ সাল থেকে ৩নং ইউনিটের দুটির মধ্যে একটি পাম্প নষ্ট। যে কোনো সময় বন্ধের ঝুঁকি নিয়ে একটি ইলেকট্রো হাইড্রোলিক অয়েল পাম্প দিয়ে ৩নং ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম চলে আসছিল। ফলে মাঝে মধ্যেই যান্ত্রিক ক্রটি দেখা দিয়ে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। একাধিকবার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি অবগত করলেও তারা অজ্ঞাত কারণে তা আমলে নেয়নি। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বৃহস্পতিবার বিকেলে দৈনিক খবরপত্রকে বলেন, কোল মিল মেরামত করে ১নং ইউনিটটি চালু করতে কমপক্ষে ৪/৫দিন সময় লাগবে। আর ৩ নং ইউনিটটি ওভারহলিং শেষে আগামী মাসের (মে ২০২৬) মাঝামাঝিতে উৎপাদনে যেতে পারে।