ঢাকা ০৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo তেল-চিনির সরবরাহ সঙ্কট ডিম-সবজিতেও বাড়তি দাম Logo নির্মাণ শেষের আগেই এশিয়ান হাইওয়ের ২৫০ মিটার এলাকাজুড়ে বড় ফাটল Logo সৌর বিদ্যুতের সেচে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে অনাবাদী জমি Logo দেশ-বিদেশে পাটের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার Logo অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনে অনিয়ম, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ কমবে : আইনমন্ত্রী Logo ভোটে নির্বাচিত সরকারকেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে : এলজিআরডি মন্ত্রী Logo কৃষিপণ্যকে প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার : কৃষিমন্ত্রী Logo জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী Logo কোচিং প্যানেলে সালাহউদ্দিনের জায়গায় মাকেতা Logo এআই: আশীর্বাদ বনাম অভিশাপ

রান্নার আগে মাংস ধোয়ার অভ্যাসেই থাকতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

বাজার থেকে মুরগি বা কাঁচা মাংস কিনে এনে রান্নার আগে ধুয়ে নেওয়া আমাদের বহুদিনের অভ্যাস। অনেকেই মনে করেন, পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই মাংস পরিষ্কার হয় এবং জীবাণুও দূর হয়ে যায়। কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবে এই অভ্যাসই রান্নাঘরে ভয়ংকর জীবাণু ছড়িয়ে দিতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং ইউএসডিএ ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিসের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, মুরগির মাংস ধোয়া নিরাপদ নয়, বরং এ থেকে সালমোনেলা ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা মুরগিতে প্রায়ই সালমোনেলা ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এগুলো পানি দিয়ে ধুলে নষ্ট হয় না। বরং ট্যাপের পানির সঙ্গে ক্ষুদ্র ফোঁটার মাধ্যমে সিঙ্ক, ছুরি, কাটিং বোর্ড, রান্নাঘরের কাউন্টার এমনকি আশপাশের খাবারেও ছড়িয়ে যেতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই দূষিত পানির ফোঁটা প্রায় এক মিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম। ফলে অজান্তেই রান্নাঘরে তৈরি হয় ক্রস-কনটামিনেশন, যা খাদ্যবাহিত অসুস্থতার অন্যতম প্রধান কারণ।
তাহলে কি মাংস ধোয়া যাবে না?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুরগির গায়ে যদি দৃশ্যমান রক্ত, পালক বা ময়লা থাকে, তাহলে সেটি পরিষ্কার করা যেতে পারে। তবে পদ্ধতিটা হতে হবে নিরাপদ। চলমান কলের নিচে মাংস ধোয়ার বদলে একটি বড় পাত্রে পানি নিয়ে ধীরে ধীরে পরিষ্কার করতে হবে, যাতে পানি চারদিকে ছিটকে না পড়ে। প্রয়োজনে গ্লাভস ব্যবহার করা ভালো। পরিষ্কার করার পর পুরো রান্নাঘর জীবাণুমুক্ত করাও জরুরি।
নিরাপদে পরিষ্কার করার উপায়
ট্যাপের নিচে না ধুয়ে বড় পাত্রে পানি ব্যবহার করুন
পানি ছিটকে পড়ে এমনভাবে মাংস ধোবেন না
কাঁচা মাংস ধরার সময় গ্লাভস ব্যবহার করতে পারেন
ব্যবহারের পর সিঙ্ক, ছুরি, কাটিং বোর্ড ও রান্নাঘরের কল ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করুন
কাঁচা মুরগি ধরার পর অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন
সঠিক রান্নাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ খাবারের মূল চাবিকাঠি হলো সঠিক তাপমাত্রায় রান্না করা। কাঁচা মুরগিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে মাংসের ভেতরের তাপমাত্রা অন্তত ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানো প্রয়োজন।
বিশেষ করে বড় টুকরো বা পুরো মুরগি রান্নার সময় ফুড থার্মোমিটার ব্যবহার করলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে খাবারটি নিরাপদভাবে রান্না হয়েছে।
অনেকের কাছেই কাঁচা মাংস ধোয়া পরিচ্ছন্নতার অংশ। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, ভুলভাবে ধোয়া বরং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই শুধু চোখে পরিষ্কার দেখালেই হবে না, অদৃশ্য জীবাণুর বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। নিরাপদ রান্না ও সঠিক পরিচ্ছন্নতাই পরিবারকে খাদ্যবাহিত সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট, মেড ইন্ডিয়া

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তেল-চিনির সরবরাহ সঙ্কট ডিম-সবজিতেও বাড়তি দাম

রান্নার আগে মাংস ধোয়ার অভ্যাসেই থাকতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপডেট সময় ১১:৩৪:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

বাজার থেকে মুরগি বা কাঁচা মাংস কিনে এনে রান্নার আগে ধুয়ে নেওয়া আমাদের বহুদিনের অভ্যাস। অনেকেই মনে করেন, পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই মাংস পরিষ্কার হয় এবং জীবাণুও দূর হয়ে যায়। কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবে এই অভ্যাসই রান্নাঘরে ভয়ংকর জীবাণু ছড়িয়ে দিতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং ইউএসডিএ ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিসের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, মুরগির মাংস ধোয়া নিরাপদ নয়, বরং এ থেকে সালমোনেলা ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা মুরগিতে প্রায়ই সালমোনেলা ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টারের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এগুলো পানি দিয়ে ধুলে নষ্ট হয় না। বরং ট্যাপের পানির সঙ্গে ক্ষুদ্র ফোঁটার মাধ্যমে সিঙ্ক, ছুরি, কাটিং বোর্ড, রান্নাঘরের কাউন্টার এমনকি আশপাশের খাবারেও ছড়িয়ে যেতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই দূষিত পানির ফোঁটা প্রায় এক মিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম। ফলে অজান্তেই রান্নাঘরে তৈরি হয় ক্রস-কনটামিনেশন, যা খাদ্যবাহিত অসুস্থতার অন্যতম প্রধান কারণ।
তাহলে কি মাংস ধোয়া যাবে না?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুরগির গায়ে যদি দৃশ্যমান রক্ত, পালক বা ময়লা থাকে, তাহলে সেটি পরিষ্কার করা যেতে পারে। তবে পদ্ধতিটা হতে হবে নিরাপদ। চলমান কলের নিচে মাংস ধোয়ার বদলে একটি বড় পাত্রে পানি নিয়ে ধীরে ধীরে পরিষ্কার করতে হবে, যাতে পানি চারদিকে ছিটকে না পড়ে। প্রয়োজনে গ্লাভস ব্যবহার করা ভালো। পরিষ্কার করার পর পুরো রান্নাঘর জীবাণুমুক্ত করাও জরুরি।
নিরাপদে পরিষ্কার করার উপায়
ট্যাপের নিচে না ধুয়ে বড় পাত্রে পানি ব্যবহার করুন
পানি ছিটকে পড়ে এমনভাবে মাংস ধোবেন না
কাঁচা মাংস ধরার সময় গ্লাভস ব্যবহার করতে পারেন
ব্যবহারের পর সিঙ্ক, ছুরি, কাটিং বোর্ড ও রান্নাঘরের কল ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করুন
কাঁচা মুরগি ধরার পর অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন
সঠিক রান্নাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ খাবারের মূল চাবিকাঠি হলো সঠিক তাপমাত্রায় রান্না করা। কাঁচা মুরগিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে মাংসের ভেতরের তাপমাত্রা অন্তত ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানো প্রয়োজন।
বিশেষ করে বড় টুকরো বা পুরো মুরগি রান্নার সময় ফুড থার্মোমিটার ব্যবহার করলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে খাবারটি নিরাপদভাবে রান্না হয়েছে।
অনেকের কাছেই কাঁচা মাংস ধোয়া পরিচ্ছন্নতার অংশ। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, ভুলভাবে ধোয়া বরং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই শুধু চোখে পরিষ্কার দেখালেই হবে না, অদৃশ্য জীবাণুর বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। নিরাপদ রান্না ও সঠিক পরিচ্ছন্নতাই পরিবারকে খাদ্যবাহিত সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট, মেড ইন্ডিয়া