সকালে ঘুম থেকে উঠেই ঘাড় ঘোরাতে গেলেন, আর সঙ্গে সঙ্গে টান! কখনো ব্যথা এতটাই বেশি হয় যে এদিক-ওদিক তাকাতেও কষ্ট হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমেই অনেকের মনে পড়ে বালিশের কথা। পুরোনো বালিশে ঘুমানো, ঠিকমতো সাপোর্ট না পাওয়া কিংবা বালিশ স্যাঁতসেঁতে হয়ে যাওয়াকেই দায়ী করেন অনেকে।
তাই ঘাড়ের ব্যথা থেকে স্বস্তি পেতে বালিশ কড়া রোদে দিয়ে শুকিয়ে নেওয়ার পুরোনো অভ্যাসও রয়েছে। কিন্তু রোদে শুকিয়ে নিলেই কি সত্যিই কমে ঘাড়ের ব্যথা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কারণ?
আসলে বালিশ রোদে দেওয়ার সঙ্গে ঘাড়ের ব্যথা সরাসরি সেরে যাওয়ার কোনও প্রমাণিত সম্পর্ক নেই। তবে নিয়মিত বালিশ শুকনো ও পরিষ্কার রাখার অভ্যাস ঘুমের পরিবেশ ভালো রাখতে পারে। আর ভালো ঘুম ও সঠিক সাপোর্ট ঘাড়ের আরামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বালিশে জমে যায় ঘাম-ময়লা
প্রতিদিন ব্যবহারের ফলে বালিশে ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ, ধুলো ও আর্দ্রতা জমতে থাকে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে সেখানে ধুলাবালি ও ডাস্ট মাইটের মতো অ্যালার্জেন জমার সুযোগ তৈরি হয়। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ছত্রাকের বৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বালিশকে মাঝেমধ্যে বাতাস ও রোদে শুকিয়ে নিলে জমে থাকা আর্দ্রতা কমাতে সাহায্য করে। ফলে বালিশ তুলনামূলকভাবে শুকনো ও সতেজ থাকে। তবে শুধু রোদে দিলেই বালিশ সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত হয়ে যায় না। বালিশের কভার নিয়মিত ধোয়া এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী বালিশ পরিষ্কার করাও জরুরি।
রোদে দিলে বালিশ কেন আরামদায়ক লাগতে পারে
অনেকদিন ব্যবহারে বালিশের ভেতরের উপাদান চেপে গিয়ে তার স্বাভাবিক ফোলাভাব কমে যেতে পারে। আবার আর্দ্রতা জমলে বালিশ ভারী ও অস্বস্তিকরও লাগতে পারে। ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়ার পর কিছু ধরনের বালিশ আবার আগের তুলনায় ফোলা ও হালকা মনে হয়। ফলে ঘুমের সময় মাথা ও ঘাড়কে তুলনামূলক ভালো সাপোর্ট পাওয়া যেতে পারে। তবে বালিশের উপাদান ও ধরন অনুযায়ী রোদে দেওয়ার নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই সরাসরি প্রখর রোদে দেওয়ার আগে বালিশের লেবেল বা প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা দেখে নেওয়া ভালো।
বালিশের উচ্চতার কারণে ঘাড়ের ব্যথার হতে পারে
ঘাড়ের ব্যথা হলে শুধু বালিশ পরিষ্কার করলেই হবে না, বালিশটি আপনার ঘুমের ভঙ্গির সঙ্গে মানানসই কি না, সেটিও দেখতে হবে। খুব উঁচু কিংবা খুব নিচু বালিশে ঘুমালে মাথা ও ঘাড় অস্বাভাবিক অবস্থানে থাকতে পারে। এতে ঘাড়ের পেশিতে টান তৈরি হয়ে সকালে অস্বস্তি হতে পারে। চিত হয়ে ঘুমালে এমন বালিশ বেছে নেওয়া ভালো, যা মাথা ও ঘাড়কে স্বাভাবিক অবস্থানে রাখে। কাত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে ঘাড় যেন শরীরের সঙ্গে সমান্তরালে থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
বালিশ বদলানোর সময় মনে রাখুন
একটি বালিশ বছরের পর বছর ব্যবহার না করে নিয়মিত এর অবস্থা পরীক্ষা করা উচিত। বালিশ যদি চুপসে যায়, দলা পাকিয়ে যায়, আকার ঠিক না থাকে বা আর আগের মতো সাপোর্ট না দেয়, তাহলে সেটি বদলে ফেলার সময় হয়েছে। ফোম বা বিশেষ আকৃতির সাপোর্টিভ বালিশ কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে। তবে সবার জন্য একই ধরনের বালিশ উপযোগী নয়।
তাই ঘাড়ে ব্যথা হলেই ঘুমের ভঙ্গি, বালিশের উচ্চতা ও সাপোর্টের দিকেও নজর দিন। বালিশ রোদে দেওয়া মূলত পরিচ্ছন্নতা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের একটি অভ্যাস হলেও ঘাড়ের ব্যথার চিকিৎসা নয়। আর ব্যথা দীর্ঘদিন থাকে, খুব তীব্র হয় কিংবা হাত অবশ বা দুর্বল লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ওয়েব এমডি
সংবাদ শিরোনাম
বালিশ রোদে দিলে কি সত্যিই ঘাড়ের ব্যথা কমে
-
খবরপত্র ডেস্ক: - আপডেট সময় ০৮:৩১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 50
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























