ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন Logo বোয়ালমারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৫ শতাধিক ছাত্রীর জন্য শিক্ষক মাত্র ৩ জন: ১২ পদের ৯টিই শূন্য Logo বদলগাছীতে জাতীয় কবি “ নজরুল বর্ষের “ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ Logo কয়রায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালি Logo ঘাটাইলে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি Logo আগৈলঝাড়ায় র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপিত Logo মানবিক বিবেচনায় ছাড় না দিলে কঠোর কর্মসূচি আগামীতে Logo শতবর্ষী কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান Logo কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে র‌্যালি-আলোচনা Logo প্রবীণরা বোঝা নয় তারা আমাদের শিকড়-আবুজার ইজাজুল হক

জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণের অর্থ কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না; বরং তা জনগণের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।’
তিনি বলেছেন, ‘অনেকেই নানা কথা ও বিভ্রান্ত ছড়াতে চায়। এরা বলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, বিগত এক যুগ ধরে জনগণের অর্থ এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। আমরা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে। জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না।’
তিনি বলেন, ‘যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা এ দেশ থেকে জনগণের অর্থ বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সকলে চোখ-কান খোলা রাখি, তাহলে এ দেশের অর্থ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না। আমরা সকলে মিলে পরিশ্রম করব এবং সেই অর্থ দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করব।’ দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে সরকারের উদ্যোগের সাথে সকলে আছেন কি না জানতে চাইলে উপস্থিত হাজার হাজার চা শ্রমিকসহ শ্রীমঙ্গলের নারী-পুরষরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন। গতকাল বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত এবং পরে বিএনপির দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারে বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে চা শ্রমিক আবাসন সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদান, প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেকও প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি-কে গণ-মানুষের দল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সবসময় জনগণের কাতারে ছিল, সেজন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। সেই জন্যই বিএনপি সবসময় বলে থাকে জনগণই আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস। যতবার ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে দেশের মানুষ বিএনপি-কে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এনেছে।’
মানুষ এখন স্থিতিশীলতা চায়, শান্তি ও কর্মসংস্থান চায়-মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রী
শ ই সরকার জবলু মৌলভীবাজার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই দেশের মালিক হচ্ছে জনগন। দেশের মানুষ যদি সতর্ক থাকে তাহলে আমাদের আর কোন চিন্তা করতে হবে না। দেশ এগিয়ে যাবে। তাই আজ আমি জনগনের হাতেই এই দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ভবিষ্যত সঁপে দিয়ে গেলাম। গতকাল বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিলির বক্তব্যে তিনি এমনটি বলেন। এই অনুষ্ঠান থেকে সারা দেশে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচীর তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন গত এক যুগ মানুষের ভোট ও কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিলো। ২০২৪ সালে মানুষ বুকের তাজা রক্ত দিয়ে সেই অধিকার ফিরিয়ে এনেছে। ৫ তারিখ দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন মানুষ শান্তি চায়। কাজ চায়। ভালোভাবে বেঁচে থাকতে চায়। দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীলতা চায়, শান্তি চায়, কর্মসংস্থান চায়, চিকিৎসা চায়, শিক্ষার সুযোগ চায়। তিনি বলেন, দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে সবাইকে পরিশ্রম করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জনগনকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারণ জনগনকে নিয়েই বাংলাদেশ। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত অলস হয়ে পড়ে থাকলে দেশ এগিয়ে নেওয়া যাবে না। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সকলকে হাতে হাত রেখে কাজ করতে হবে। দেশে বাক-স্বাধীনতা ফিরে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধেও নির্দিধায় বলতে পারে। সংবাদপত্র সরকারের বিরুদ্ধেও লিখতে পারে। আজকে গণতন্ত্র, বাক ও ব্যক্তির স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একারণেই আজকে আমরা জনগনের জন্য কাজ করতে পারছি। সরকারের বিবিণ্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ১২ লক্ষ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছি। আগামী এক বছরে প্রতিটি উপজেলায় অন্তত ৮ হাজার নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। একবছরের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষকদের মধ্যে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালেসিসের মেশিন নিয়ে আসা হবে। সব উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। আজকে আমরা একসাথে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, দুস্থদের ঘর নির্মাণের টাকা প্রদান, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি ও অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছি। তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা একটা দল ছিলাম। কিন্তু আমরা যখন সরকার গঠন করেছি তখন আমরা সব মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছে, যারা ভোট দেয়নি সবার সরকার। আমরা সব মানুষের জন্য কাজ রতে চাই। বিএনপি সরকার সব জনগনের কল্যানে কাজ করতে চায়। বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে দেখেছি, যখন দেশ এগিয়ে চলে, অর্থনীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীল থাকে তখনই দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে যারা আন্দোলন আন্দোলন খেলা করেছিলো, তারা আজকে আবার বলছে, এই সরকারকে একদিনও সময় দেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা কি জনগনের স্বার্থে কথা বলছে না নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে? তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে। তিনি বলেন, আমাদের শক্তির উৎস জনগন। আমরা জনগনকে নিয়ে রাজনীতি করি। জনগন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে। যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? মনে আছে তো একাত্তরে তারা কী করেছিলো? ৮৬ সালে কী করেছিলো? গত এক যুগ আন্দোলনেও তাদের পাওয়া যায়নি। এই সময়ে যারা শহীদ হয়েছে, জেল খেটেছে তারা সবাই বিএনপির কর্মী। এঅর্থ পাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে দেশের জনগনের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে অর্থ পাচার রোধ করবো। এই দেশের মানুষের অর্থ এই দেশেই থাকবে। কোথাও যাবে না। এই দেরে মানুষের কল্যানে ব্যয় হবে। আমরা জনগনের অর্থ দিয়ে জনগনের জন্য কাজ করতে চাই। সমাজকল্যান মন্ত্রী ডা. এজেএমএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী স্থানীয় সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান প্রমুখ। ভিডিওকনফারেন্সে যুক্ত হওয় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী
এহসান বিন মুজাহির (শ্রীমঙ্গল) মৌলভীবাজার: প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কিছুদিন আগে জাতীয় জাতীয় সংসদে যেই বাজেট পেশ করা হয়েছে সেই বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসহ জনগণের জন্য সকল ব্যবস্থা রেখেছি। সেই বাজেটকে একটি দল বলে গণবিরোধী বাজেট। যে বাজেট মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায় সেই বাজেট নাকি চানাচুরের মতো। জনগণের জন্য যে বাজেটে সকল ব্যবস্থা রেখেছি সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না। কাজেই যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, সেটি সংসদের ভেতরে হোক বা বাইরে হোক তাদের বিরুদ্ধে সচেতন এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গতকাল মৌলভীববাজারের শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মঠে তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ১৫৫ জন উপকারভোগীকে পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। এছাড়া ৫০ জন নারী চা শ্রমিককে গৃহনির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা করে অনুদানের চেক, চা শ্রমিক পরিবারের ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদহোসেন এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। শ্রীমঙ্গলের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আরও একটি ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫২টি পরিবারের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রম মন্ত্রী আরিফুল হক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান প্রমুথখ। পৃথক দুই অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমি সিলেটের মাটি থেকে থেকে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছিলাম। হবিগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম চা বাগানের নারী শ্রমিকদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিব। আজ শ্রীমঙ্গলের মাটিতে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলো। আগামী এক বছরের মধ্যে চা বাগানের সব নারী শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে নারী পুরুষ একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নারীদের স্বাবলম্বী করতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই সরকারের লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১ বছরে ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেয়া হবে। আগামী ৫ বছরে দেশের সকল উপজেলার ৫০ বেডের হাসপাতাল ১০০ বেডে উন্নীত করা হবে। তারেক রহমান বলেন, জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে বিদেশে পাচার করেছিলো একটি দল। জনগণের টাকা পাচার হতে দেবো না, জনগণের অর্থ দিয়ে জনগণের কাজ করা হবে। যারা বিদেশে টাকা পাচার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ যতবারই ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছে ততবারই বিএনপিকে বিজয়ী করেছে। দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগলে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তারেক রহমান বলেন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিশ্বাস করে এই সরকার। কারণ বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল। বিএনপির সব শক্তিই জনগণ। ছাপ কথা, দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হলে বিএনপি সরকারের বিকল্প নেই। আগের সরকার দেশের অর্থ বিদেশ পাচার করেছে। ফ্যামেলি কার্ড, কৃষক কার্ড, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিতদের মাসিক সম্মানির ব্যবস্থা করেনি। বিএনপি সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করে চলেছি। সিলেটে যত উন্নয়ন হয়েছে বিএনপি সরকারের সময় সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমানের মাধ্যমে হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। তিনি বলেছিলেন বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা। আমিই তাই বলছি, প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা। সবার আগে বাংলাদেশ স্লোগানের সাথে একটি লাইন যোগ করতে চাই, সেটা হচ্ছে, ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্ত উপকারভোগী রেসনা বেগম, নাসিমা বেগম, লাবলী আক্তার বলেন, টেলিভিশন ও মানুষের মুখে মুখে শুনেছি ফ্যামিলি কার্ডের কথা। এই কার্ড এতো অল্প সময়ে আমার মতো গরিব মানুষ পেয়ে যাবো তা কখনও ভাবতেই পারিনি। প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই টাকা আমাদের কাছে অনেক টাকার সমান। পরিবারের খরচ চালাতে আমাদের অনেক উপকার হবে। প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীরা ঘরে বসেই পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এই অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই উপকারভোগী এই টাকা মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ভাতার অর্থ পৌঁছে যায়। মৌলভীবাজার অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বিকেলে দুসাই রিসোর্টে অবস্থান করবেন এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত বিশ্রামের পর একটি রাজনৈতিক বৈঠকে অংশ নেন। রাতে তিনি সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণের অর্থ কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না; বরং তা জনগণের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।’
তিনি বলেছেন, ‘অনেকেই নানা কথা ও বিভ্রান্ত ছড়াতে চায়। এরা বলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, বিগত এক যুগ ধরে জনগণের অর্থ এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। আমরা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে। জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না।’
তিনি বলেন, ‘যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে, যারা এ দেশ থেকে জনগণের অর্থ বিদেশে পাঠাতে চায়, আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সকলে চোখ-কান খোলা রাখি, তাহলে এ দেশের অর্থ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না। আমরা সকলে মিলে পরিশ্রম করব এবং সেই অর্থ দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করব।’ দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে সরকারের উদ্যোগের সাথে সকলে আছেন কি না জানতে চাইলে উপস্থিত হাজার হাজার চা শ্রমিকসহ শ্রীমঙ্গলের নারী-পুরষরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন। গতকাল বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত এবং পরে বিএনপির দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারে বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে চা শ্রমিক আবাসন সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি প্রদান, প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেকও প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি-কে গণ-মানুষের দল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সবসময় জনগণের কাতারে ছিল, সেজন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। সেই জন্যই বিএনপি সবসময় বলে থাকে জনগণই আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস। যতবার ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে দেশের মানুষ বিএনপি-কে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এনেছে।’
মানুষ এখন স্থিতিশীলতা চায়, শান্তি ও কর্মসংস্থান চায়-মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রী
শ ই সরকার জবলু মৌলভীবাজার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই দেশের মালিক হচ্ছে জনগন। দেশের মানুষ যদি সতর্ক থাকে তাহলে আমাদের আর কোন চিন্তা করতে হবে না। দেশ এগিয়ে যাবে। তাই আজ আমি জনগনের হাতেই এই দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ভবিষ্যত সঁপে দিয়ে গেলাম। গতকাল বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিলির বক্তব্যে তিনি এমনটি বলেন। এই অনুষ্ঠান থেকে সারা দেশে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচীর তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন গত এক যুগ মানুষের ভোট ও কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিলো। ২০২৪ সালে মানুষ বুকের তাজা রক্ত দিয়ে সেই অধিকার ফিরিয়ে এনেছে। ৫ তারিখ দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন মানুষ শান্তি চায়। কাজ চায়। ভালোভাবে বেঁচে থাকতে চায়। দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীলতা চায়, শান্তি চায়, কর্মসংস্থান চায়, চিকিৎসা চায়, শিক্ষার সুযোগ চায়। তিনি বলেন, দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে সবাইকে পরিশ্রম করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জনগনকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারণ জনগনকে নিয়েই বাংলাদেশ। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত অলস হয়ে পড়ে থাকলে দেশ এগিয়ে নেওয়া যাবে না। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সকলকে হাতে হাত রেখে কাজ করতে হবে। দেশে বাক-স্বাধীনতা ফিরে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধেও নির্দিধায় বলতে পারে। সংবাদপত্র সরকারের বিরুদ্ধেও লিখতে পারে। আজকে গণতন্ত্র, বাক ও ব্যক্তির স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একারণেই আজকে আমরা জনগনের জন্য কাজ করতে পারছি। সরকারের বিবিণ্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ১২ লক্ষ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছি। আগামী এক বছরে প্রতিটি উপজেলায় অন্তত ৮ হাজার নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। একবছরের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষকদের মধ্যে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালেসিসের মেশিন নিয়ে আসা হবে। সব উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। আজকে আমরা একসাথে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, দুস্থদের ঘর নির্মাণের টাকা প্রদান, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি ও অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছি। তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা একটা দল ছিলাম। কিন্তু আমরা যখন সরকার গঠন করেছি তখন আমরা সব মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছে, যারা ভোট দেয়নি সবার সরকার। আমরা সব মানুষের জন্য কাজ রতে চাই। বিএনপি সরকার সব জনগনের কল্যানে কাজ করতে চায়। বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে দেখেছি, যখন দেশ এগিয়ে চলে, অর্থনীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীল থাকে তখনই দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে যারা আন্দোলন আন্দোলন খেলা করেছিলো, তারা আজকে আবার বলছে, এই সরকারকে একদিনও সময় দেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা কি জনগনের স্বার্থে কথা বলছে না নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে? তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে। তিনি বলেন, আমাদের শক্তির উৎস জনগন। আমরা জনগনকে নিয়ে রাজনীতি করি। জনগন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে। যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? মনে আছে তো একাত্তরে তারা কী করেছিলো? ৮৬ সালে কী করেছিলো? গত এক যুগ আন্দোলনেও তাদের পাওয়া যায়নি। এই সময়ে যারা শহীদ হয়েছে, জেল খেটেছে তারা সবাই বিএনপির কর্মী। এঅর্থ পাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে দেশের জনগনের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে অর্থ পাচার রোধ করবো। এই দেশের মানুষের অর্থ এই দেশেই থাকবে। কোথাও যাবে না। এই দেরে মানুষের কল্যানে ব্যয় হবে। আমরা জনগনের অর্থ দিয়ে জনগনের জন্য কাজ করতে চাই। সমাজকল্যান মন্ত্রী ডা. এজেএমএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী স্থানীয় সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান প্রমুখ। ভিডিওকনফারেন্সে যুক্ত হওয় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী
এহসান বিন মুজাহির (শ্রীমঙ্গল) মৌলভীবাজার: প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কিছুদিন আগে জাতীয় জাতীয় সংসদে যেই বাজেট পেশ করা হয়েছে সেই বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসহ জনগণের জন্য সকল ব্যবস্থা রেখেছি। সেই বাজেটকে একটি দল বলে গণবিরোধী বাজেট। যে বাজেট মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায় সেই বাজেট নাকি চানাচুরের মতো। জনগণের জন্য যে বাজেটে সকল ব্যবস্থা রেখেছি সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না। কাজেই যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, সেটি সংসদের ভেতরে হোক বা বাইরে হোক তাদের বিরুদ্ধে সচেতন এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গতকাল মৌলভীববাজারের শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মঠে তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ১৫৫ জন উপকারভোগীকে পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। এছাড়া ৫০ জন নারী চা শ্রমিককে গৃহনির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা করে অনুদানের চেক, চা শ্রমিক পরিবারের ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদহোসেন এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। শ্রীমঙ্গলের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আরও একটি ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫২টি পরিবারের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রম মন্ত্রী আরিফুল হক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান প্রমুথখ। পৃথক দুই অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমি সিলেটের মাটি থেকে থেকে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছিলাম। হবিগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম চা বাগানের নারী শ্রমিকদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিব। আজ শ্রীমঙ্গলের মাটিতে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলো। আগামী এক বছরের মধ্যে চা বাগানের সব নারী শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে নারী পুরুষ একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নারীদের স্বাবলম্বী করতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই সরকারের লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১ বছরে ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেয়া হবে। আগামী ৫ বছরে দেশের সকল উপজেলার ৫০ বেডের হাসপাতাল ১০০ বেডে উন্নীত করা হবে। তারেক রহমান বলেন, জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে বিদেশে পাচার করেছিলো একটি দল। জনগণের টাকা পাচার হতে দেবো না, জনগণের অর্থ দিয়ে জনগণের কাজ করা হবে। যারা বিদেশে টাকা পাচার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ যতবারই ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছে ততবারই বিএনপিকে বিজয়ী করেছে। দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগলে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তারেক রহমান বলেন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিশ্বাস করে এই সরকার। কারণ বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল। বিএনপির সব শক্তিই জনগণ। ছাপ কথা, দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হলে বিএনপি সরকারের বিকল্প নেই। আগের সরকার দেশের অর্থ বিদেশ পাচার করেছে। ফ্যামেলি কার্ড, কৃষক কার্ড, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিতদের মাসিক সম্মানির ব্যবস্থা করেনি। বিএনপি সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করে চলেছি। সিলেটে যত উন্নয়ন হয়েছে বিএনপি সরকারের সময় সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমানের মাধ্যমে হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। তিনি বলেছিলেন বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা। আমিই তাই বলছি, প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা। সবার আগে বাংলাদেশ স্লোগানের সাথে একটি লাইন যোগ করতে চাই, সেটা হচ্ছে, ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্ত উপকারভোগী রেসনা বেগম, নাসিমা বেগম, লাবলী আক্তার বলেন, টেলিভিশন ও মানুষের মুখে মুখে শুনেছি ফ্যামিলি কার্ডের কথা। এই কার্ড এতো অল্প সময়ে আমার মতো গরিব মানুষ পেয়ে যাবো তা কখনও ভাবতেই পারিনি। প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই টাকা আমাদের কাছে অনেক টাকার সমান। পরিবারের খরচ চালাতে আমাদের অনেক উপকার হবে। প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীরা ঘরে বসেই পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এই অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই উপকারভোগী এই টাকা মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ভাতার অর্থ পৌঁছে যায়। মৌলভীবাজার অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বিকেলে দুসাই রিসোর্টে অবস্থান করবেন এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত বিশ্রামের পর একটি রাজনৈতিক বৈঠকে অংশ নেন। রাতে তিনি সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।