ঢাকা ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি Logo কীট সংকটে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ Logo জাংগালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু মশা নিধন সম্পর্কে র‌্যালি ও আলোচনা Logo নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন করেন দুই হাইকোটের বিচারপতি Logo মনোহরগঞ্জে ২০ মাসেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ Logo ধনবাড়ীতে পুলিশের অভিযানে ৭৮ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার Logo পাঁচবিবিতে মাওড়িতলা ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, লাইট পোস্ট দাবি Logo স্পিকারের এপিএস সবুজকে ঘিরে অপপ্রচার, প্রতিবাদ Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় উপকুলবাসী পেল ইউবিইএসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চুড়ান্ত অনুমোদন Logo মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর নাঈম হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি, ৫ জন খালাস

কোলেস্টেরল বেশি থাকলেও ইলিশ খাওয়া যাবে, জানুন সঠিক নিয়ম

ইলিশ শুধু একটি মাছ নয়, বাঙালির আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকা এক নাম। ইলিশের ঘ্রাণে জমে ওঠে বাঙালির রান্নাঘর। ভাজা ইলিশ, সর্ষে ইলিশ কিংবা ইলিশের ঝোল পাতে ইলিশ থাকলে বাড়তি আনন্দ যেন এমনিতেই চলে আসে। তবে স্বাদের পাশাপাশি ইলিশের পুষ্টিগুণ নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা।
বিশেষ করে মাছটির তুলনামূলক বেশি তেল নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন- ইলিশ খেলে কি কোলেস্টেরল বাড়ে? আবার প্রতিদিন ইলিশ খাওয়া কি স্বাস্থ্যকর?
ইলিশে যেসব পুষ্টিগুণ রয়েছে
ইলিশকে পুষ্টিকর মাছের তালিকায় রাখা যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম ইলিশে আনুমানিক ২০-২২ গ্রাম প্রোটিন থাকতে পারে। শরীরের পেশি গঠন ও ক্ষয়পূরণে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইলিশে ফ্যাটের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। তবে সব ফ্যাট শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। ইলিশে থাকা অসম্পৃক্ত ফ্যাট ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এ ছাড়া এতে ভিটামিন এ, ডি, বিভিন্ন খনিজ উপাদানসহ শরীরের প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি রয়েছে।
ইলিশ খেলে যেসব উপকার হতে পারে
ইলিশের অন্যতম গুণ হলো এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন। নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এই মাছ পেশি গঠন ও শরীরের বিভিন্ন কোষের প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করতে পারে।
ইলিশে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। পর্যাপ্ত ওমেগা-৩ গ্রহণ রক্তের কিছু ক্ষতিকর চর্বি নিয়ন্ত্রণে এবং হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
হার্টের রোগীরা কি ইলিশ খেতে পারবেন?
ইলিশে তেল বেশি থাকায় হৃদরোগী বা কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তিত অনেকেই মাছটি এড়িয়ে চলেন। কিন্তু ইলিশের ফ্যাটের সবটাই ক্ষতিকর নয়। এতে ওমেগা-৩-এর মতো উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিডও রয়েছে।
তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ ও রান্নার ধরন। অতিরিক্ত তেল দিয়ে ভাজা বা রান্না করা ইলিশের বদলে পরিমিত তেলে মাছ রান্না করা। হৃদ্রোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকলে ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।
প্রতিদিন ইলিশ খাওয়া কি ঠিক?
ইলিশ যতই পছন্দের হোক, প্রতিদিন খাওয়ার প্রয়োজন নেই। সুষম খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের মাছ, ডিম, ডাল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে ২-৩ বার ২-১ পিস মাছ খেলে কোনো ক্ষতি হবে না। মাঝেমধ্যে পরিমিত পরিমাণে ইলিশ খাওয়া সাধারণত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে কতটা খাবেন, তা ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা, মোট খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে।
গর্ভাবস্থায় মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে প্রজাতিভেদে পারদ বা মারকারি-র মাত্রা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। এই ধাতুর পরিমাণ শরীরে বেড়ে গেলে সমস্যা হতে পারে। তাই গর্ভবতী নারীদের নারীদের বেশি ইলিশ না খাওয়াই ভালো। খেতে হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ ও বৈচিত্র্য বজায় রেখে মাছ খাওয়া ভালো।
ইলিশকে ভয় পাওয়ারও কারণ নেই, আবার অতিরিক্ত খাওয়ারও প্রয়োজন নেই। পরিমিত পরিমাণে, স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করে এবং নিজের শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে খেলে বর্ষার প্রিয় এই মাছ হতে পারে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবারের অংশ।
সূত্র: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন, হেলথ সেন্টার, হিন্দুস্তান টাইমস

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

কোলেস্টেরল বেশি থাকলেও ইলিশ খাওয়া যাবে, জানুন সঠিক নিয়ম

আপডেট সময় ০৬:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ইলিশ শুধু একটি মাছ নয়, বাঙালির আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকা এক নাম। ইলিশের ঘ্রাণে জমে ওঠে বাঙালির রান্নাঘর। ভাজা ইলিশ, সর্ষে ইলিশ কিংবা ইলিশের ঝোল পাতে ইলিশ থাকলে বাড়তি আনন্দ যেন এমনিতেই চলে আসে। তবে স্বাদের পাশাপাশি ইলিশের পুষ্টিগুণ নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা।
বিশেষ করে মাছটির তুলনামূলক বেশি তেল নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন- ইলিশ খেলে কি কোলেস্টেরল বাড়ে? আবার প্রতিদিন ইলিশ খাওয়া কি স্বাস্থ্যকর?
ইলিশে যেসব পুষ্টিগুণ রয়েছে
ইলিশকে পুষ্টিকর মাছের তালিকায় রাখা যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম ইলিশে আনুমানিক ২০-২২ গ্রাম প্রোটিন থাকতে পারে। শরীরের পেশি গঠন ও ক্ষয়পূরণে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইলিশে ফ্যাটের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। তবে সব ফ্যাট শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। ইলিশে থাকা অসম্পৃক্ত ফ্যাট ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এ ছাড়া এতে ভিটামিন এ, ডি, বিভিন্ন খনিজ উপাদানসহ শরীরের প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি রয়েছে।
ইলিশ খেলে যেসব উপকার হতে পারে
ইলিশের অন্যতম গুণ হলো এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন। নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এই মাছ পেশি গঠন ও শরীরের বিভিন্ন কোষের প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করতে পারে।
ইলিশে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। পর্যাপ্ত ওমেগা-৩ গ্রহণ রক্তের কিছু ক্ষতিকর চর্বি নিয়ন্ত্রণে এবং হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
হার্টের রোগীরা কি ইলিশ খেতে পারবেন?
ইলিশে তেল বেশি থাকায় হৃদরোগী বা কোলেস্টেরল নিয়ে চিন্তিত অনেকেই মাছটি এড়িয়ে চলেন। কিন্তু ইলিশের ফ্যাটের সবটাই ক্ষতিকর নয়। এতে ওমেগা-৩-এর মতো উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিডও রয়েছে।
তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ ও রান্নার ধরন। অতিরিক্ত তেল দিয়ে ভাজা বা রান্না করা ইলিশের বদলে পরিমিত তেলে মাছ রান্না করা। হৃদ্রোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকলে ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।
প্রতিদিন ইলিশ খাওয়া কি ঠিক?
ইলিশ যতই পছন্দের হোক, প্রতিদিন খাওয়ার প্রয়োজন নেই। সুষম খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের মাছ, ডিম, ডাল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে ২-৩ বার ২-১ পিস মাছ খেলে কোনো ক্ষতি হবে না। মাঝেমধ্যে পরিমিত পরিমাণে ইলিশ খাওয়া সাধারণত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে কতটা খাবেন, তা ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা, মোট খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে।
গর্ভাবস্থায় মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে প্রজাতিভেদে পারদ বা মারকারি-র মাত্রা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। এই ধাতুর পরিমাণ শরীরে বেড়ে গেলে সমস্যা হতে পারে। তাই গর্ভবতী নারীদের নারীদের বেশি ইলিশ না খাওয়াই ভালো। খেতে হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ ও বৈচিত্র্য বজায় রেখে মাছ খাওয়া ভালো।
ইলিশকে ভয় পাওয়ারও কারণ নেই, আবার অতিরিক্ত খাওয়ারও প্রয়োজন নেই। পরিমিত পরিমাণে, স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করে এবং নিজের শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে খেলে বর্ষার প্রিয় এই মাছ হতে পারে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবারের অংশ।
সূত্র: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন, হেলথ সেন্টার, হিন্দুস্তান টাইমস