ঢাকা ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি Logo কীট সংকটে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ Logo জাংগালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু মশা নিধন সম্পর্কে র‌্যালি ও আলোচনা Logo নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন করেন দুই হাইকোটের বিচারপতি Logo মনোহরগঞ্জে ২০ মাসেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ Logo ধনবাড়ীতে পুলিশের অভিযানে ৭৮ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার Logo পাঁচবিবিতে মাওড়িতলা ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, লাইট পোস্ট দাবি Logo স্পিকারের এপিএস সবুজকে ঘিরে অপপ্রচার, প্রতিবাদ Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় উপকুলবাসী পেল ইউবিইএসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চুড়ান্ত অনুমোদন Logo মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর নাঈম হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি, ৫ জন খালাস

পচা ডিম খেলে শরীরে কী হয়?

সকালের নাশতায় কিংবা রাতের খাবারে অনেকেরে খাদ্যতালিকায় ডিম থাকে। সহজলভ্য, রান্না করা সহজ এবং প্রোটিনসহ নানা পুষ্টি উপাদানের উৎস হওয়ায় ছোট-বড় সবার কাছেই ডিম জনপ্রিয়। কিন্তু ভালো ডিমের বদলে ভুল করে পচা বা নষ্ট ডিম খেয়ে ফেললে দেখা দিতে পারে নানা শারীরিক সমস্যা। তাই ডিম কেনার পাশাপাশি সেটি তাজা কি না, তা বুঝে নেওয়াও জরুরি।

পচা ডিম খেলে যেসব সমস্যা হতে পারে
নষ্ট বা দূষিত ডিমে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। বিশেষ করে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে খাবারে বিষক্রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পচা ডিম খাওয়ার পর বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা ও জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কারো ক্ষেত্রে পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা কিংবা ভারী লাগার মতো অস্বস্তিও হতে পারে। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে অন্ত্রে প্রদাহসহ আরও গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে খাবারজনিত সংক্রমণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

পচা ডিমে থাকতে পারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াপচা ডিমে থাকতে পারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া তাই জেনে নিন ডিম পচা নাকি ভালো বুঝবেন যেভাবে-

পানিতে ডুবিয়ে
ডিমের সতেজতা বোঝার প্রচলিত একটি পদ্ধতি হলো পানিতে ডুবিয়ে দেখা। একটি বড় পাত্রে পানি নিয়ে ডিমটি আস্তে করে ছেড়ে দিন। সাধারণত তুলনামূলক তাজা ডিম পানিতে ডুবে থাকে, আর পুরোনো ডিম পানিতে বেশি ভেসে উঠতে পারে।

এর কারণ হলো, সময়ের সঙ্গে ডিমের খোসার ভেতর দিয়ে পানি ও গ্যাসের আদান-প্রদান হয় এবং ডিমের ভেতরের বায়ুথলি বড় হতে থাকে। ফলে ডিমের ঘনত্ব কমে গিয়ে সেটি পানিতে ভাসতে পারে। ডিমে অস্বাভাবিক গন্ধ, ফাটল বা অন্য কোনো সন্দেহজনক পরিবর্তন থাকলে সেটি না খাওয়াই নিরাপদ।

ঝাঁকিয়ে বোঝা যায়
অনেকে ডিম কানের কাছে নিয়ে হালকা ঝাঁকিয়ে দেখেন। ভেতর থেকে তরল নড়াচড়ার শব্দ স্পষ্ট শোনা গেলে ডিমটি পুরোনো হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। শুধু শব্দের ওপর নির্ভর না করে ডিম ভাঙার পর এর গন্ধ, রং ও স্বাভাবিক চেহারা খেয়াল করা ভালো।

আলোতে ডিম পরীক্ষা
ডিমের ভেতরের অবস্থা বোঝার জন্য আলো ব্যবহার করার পদ্ধতিকে ‘ক্যান্ডলিং’ বলা হয়। উজ্জ্বল আলোর সামনে ডিম ধরলে ভেতরের বায়ুথলি বা অস্বাভাবিক দাগ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে ঘরে এভাবে পরীক্ষা করে সব ধরনের দূষণ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়।
প্যাকেটজাত ডিমে নজর দিন
প্যাকেটজাত ডিম কিনলে প্যাকেটের তারিখ, সংরক্ষণের নির্দেশনা এবং ডিমে ফাটল আছে কি না দেখে নিন। ডিম বাড়িতে আনার পরও সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।
ডিম ভাঙার পর যদি অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ, অদ্ভুত রং বা চেহারা চোখে পড়ে, তাহলে সেটি রান্না করে খাওয়ার চেষ্টা না করে ফেলে দিন। আর পচা ডিম খাওয়ার পর তীব্র বমি, ডায়রিয়া, জ্বর, পানিশূন্যতা বা উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সূত্র: ইটিং ওয়েল, এভরিডে হেলথ

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

পচা ডিম খেলে শরীরে কী হয়?

আপডেট সময় ০৯:৪১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

সকালের নাশতায় কিংবা রাতের খাবারে অনেকেরে খাদ্যতালিকায় ডিম থাকে। সহজলভ্য, রান্না করা সহজ এবং প্রোটিনসহ নানা পুষ্টি উপাদানের উৎস হওয়ায় ছোট-বড় সবার কাছেই ডিম জনপ্রিয়। কিন্তু ভালো ডিমের বদলে ভুল করে পচা বা নষ্ট ডিম খেয়ে ফেললে দেখা দিতে পারে নানা শারীরিক সমস্যা। তাই ডিম কেনার পাশাপাশি সেটি তাজা কি না, তা বুঝে নেওয়াও জরুরি।

পচা ডিম খেলে যেসব সমস্যা হতে পারে
নষ্ট বা দূষিত ডিমে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। বিশেষ করে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে খাবারে বিষক্রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পচা ডিম খাওয়ার পর বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা ও জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কারো ক্ষেত্রে পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা কিংবা ভারী লাগার মতো অস্বস্তিও হতে পারে। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে অন্ত্রে প্রদাহসহ আরও গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে খাবারজনিত সংক্রমণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

পচা ডিমে থাকতে পারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াপচা ডিমে থাকতে পারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া তাই জেনে নিন ডিম পচা নাকি ভালো বুঝবেন যেভাবে-

পানিতে ডুবিয়ে
ডিমের সতেজতা বোঝার প্রচলিত একটি পদ্ধতি হলো পানিতে ডুবিয়ে দেখা। একটি বড় পাত্রে পানি নিয়ে ডিমটি আস্তে করে ছেড়ে দিন। সাধারণত তুলনামূলক তাজা ডিম পানিতে ডুবে থাকে, আর পুরোনো ডিম পানিতে বেশি ভেসে উঠতে পারে।

এর কারণ হলো, সময়ের সঙ্গে ডিমের খোসার ভেতর দিয়ে পানি ও গ্যাসের আদান-প্রদান হয় এবং ডিমের ভেতরের বায়ুথলি বড় হতে থাকে। ফলে ডিমের ঘনত্ব কমে গিয়ে সেটি পানিতে ভাসতে পারে। ডিমে অস্বাভাবিক গন্ধ, ফাটল বা অন্য কোনো সন্দেহজনক পরিবর্তন থাকলে সেটি না খাওয়াই নিরাপদ।

ঝাঁকিয়ে বোঝা যায়
অনেকে ডিম কানের কাছে নিয়ে হালকা ঝাঁকিয়ে দেখেন। ভেতর থেকে তরল নড়াচড়ার শব্দ স্পষ্ট শোনা গেলে ডিমটি পুরোনো হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। শুধু শব্দের ওপর নির্ভর না করে ডিম ভাঙার পর এর গন্ধ, রং ও স্বাভাবিক চেহারা খেয়াল করা ভালো।

আলোতে ডিম পরীক্ষা
ডিমের ভেতরের অবস্থা বোঝার জন্য আলো ব্যবহার করার পদ্ধতিকে ‘ক্যান্ডলিং’ বলা হয়। উজ্জ্বল আলোর সামনে ডিম ধরলে ভেতরের বায়ুথলি বা অস্বাভাবিক দাগ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে ঘরে এভাবে পরীক্ষা করে সব ধরনের দূষণ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়।
প্যাকেটজাত ডিমে নজর দিন
প্যাকেটজাত ডিম কিনলে প্যাকেটের তারিখ, সংরক্ষণের নির্দেশনা এবং ডিমে ফাটল আছে কি না দেখে নিন। ডিম বাড়িতে আনার পরও সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।
ডিম ভাঙার পর যদি অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ, অদ্ভুত রং বা চেহারা চোখে পড়ে, তাহলে সেটি রান্না করে খাওয়ার চেষ্টা না করে ফেলে দিন। আর পচা ডিম খাওয়ার পর তীব্র বমি, ডায়রিয়া, জ্বর, পানিশূন্যতা বা উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সূত্র: ইটিং ওয়েল, এভরিডে হেলথ