ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন Logo বোয়ালমারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৫ শতাধিক ছাত্রীর জন্য শিক্ষক মাত্র ৩ জন: ১২ পদের ৯টিই শূন্য Logo বদলগাছীতে জাতীয় কবি “ নজরুল বর্ষের “ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ Logo কয়রায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালি Logo ঘাটাইলে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি Logo আগৈলঝাড়ায় র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপিত Logo মানবিক বিবেচনায় ছাড় না দিলে কঠোর কর্মসূচি আগামীতে Logo শতবর্ষী কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান Logo কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে র‌্যালি-আলোচনা Logo প্রবীণরা বোঝা নয় তারা আমাদের শিকড়-আবুজার ইজাজুল হক

এসি চালানোর পরই হাঁচি-কাশি, কেন হয় এমন?

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় স্বস্তি পেতে অনেকেই দীর্ঘ সময় এয়ার কন্ডিশনার বা এসি ব্যবহার করেন। কিন্তু এসি চালানোর পরই কারো কারো শুরু হয় হাঁচি, কাশি, নাক বন্ধ বা গলা খুসখুস।
এতে অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—এসি কি অ্যালার্জির কারণ?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
শিশু বিশেষজ্ঞ ও শিশু ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শালিনী ত্যাগীর মতে, এসি সরাসরি অ্যালার্জি তৈরি করে না। তবে আগে থেকেই অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে এসির পরিবেশে উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে।
এসি চালালে কেন বাড়ে হাঁচি-কাশি?
অ্যালার্জির মূল কারণ হলো অ্যালার্জেন।
অর্থাৎ এমন কিছু উপাদান, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ধুলা, পরাগকণা ও ছত্রাকের মতো অ্যালার্জেন এসির মাধ্যমে ঘরের বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে সমস্যা বাড়তে পারে।
বিশেষ করে এসি ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানে ধুলা, পরাগকণা ও অন্যান্য কণা জমে থাকে। এসি চালানোর সময় এসব কণা আবার ঘরের বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ ছাড়া এসির আশপাশে আর্দ্রতা বা পানি জমে থাকলে ছত্রাক বা মোল্ড তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে। এসব অ্যালার্জেনের কারণে কারও হাঁচি, নাক বন্ধ বা নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানো, কাশি কিংবা গলায় অস্বস্তি হতে পারে।
ঠা-া বাতাসও কি সমস্যা বাড়ায়?
শুধু ঠা-া বাতাসকে অ্যালার্জির কারণ বলা ঠিক নয়। তবে আগে থেকেই অ্যালার্জিজনিত প্রদাহ থাকলে ঠা-া বাতাস, বাতাসের প্রবাহ, ধোঁয়া বা দূষণের মতো কিছু বিষয় উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে।
দীর্ঘ সময় খুব ঠা-া ও শুষ্ক পরিবেশে থাকলে নাক ও গলা শুকিয়ে গিয়ে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
এতে আগে থেকে থাকা হাঁচি-কাশি বা শ্বাসনালির সমস্যা আরো বেশি মনে হতে পারে।
আবার বাইরে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া থেকে হঠাৎ খুব ঠা-া এসি রুমে ঢোকা এবং পরে আবার গরম পরিবেশে বের হওয়াও কারো কারো নাক ও শ্বাসনালিতে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
এসি ব্যবহার করবেন কিভাবে?
এসি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কয়েকটি বিষয় মেনে চললে সমস্যা কমানো সম্ভব।
নিয়মিত এসির ফিল্টার পরিষ্কার করুন।
ঘরে অতিরিক্ত ধুলা জমতে দেবেন না।
এসির আশপাশে স্যাঁতসেঁতে বা ছত্রাক আছে কি না দেখুন।
ঘর অতিরিক্ত ঠা-া করে রাখবেন না।
ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।
এসি চালানোর পর নিয়মিত হাঁচি-কাশি হচ্ছে কি না খেয়াল করুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
এসি চালানোর সঙ্গে হাঁচি-কাশির সম্পর্ক থাকলেও সবসময় এর জন্য এসিকে দায়ী করা ঠিক নয়। বারবার হাঁচি, কাশি, নাক বন্ধ বা অন্যান্য উপসর্গ হলে এর পেছনে অন্য কোনো অ্যালার্জেন বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা থাকতে পারে।
বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসের সঙ্গে সাঁই সাঁই শব্দ হলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন: এসি নিজে অ্যালার্জি তৈরি করে না। তবে অপরিষ্কার ফিল্টার, ধুলা, ছত্রাক, শুষ্ক বাতাস বা ঠান্ডা পরিবেশ—আগে থেকে থাকা অ্যালার্জির উপসর্গকে বাড়িয়ে দিতে পারে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

এসি চালানোর পরই হাঁচি-কাশি, কেন হয় এমন?

আপডেট সময় ০১:০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় স্বস্তি পেতে অনেকেই দীর্ঘ সময় এয়ার কন্ডিশনার বা এসি ব্যবহার করেন। কিন্তু এসি চালানোর পরই কারো কারো শুরু হয় হাঁচি, কাশি, নাক বন্ধ বা গলা খুসখুস।
এতে অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—এসি কি অ্যালার্জির কারণ?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
শিশু বিশেষজ্ঞ ও শিশু ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শালিনী ত্যাগীর মতে, এসি সরাসরি অ্যালার্জি তৈরি করে না। তবে আগে থেকেই অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে এসির পরিবেশে উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে।
এসি চালালে কেন বাড়ে হাঁচি-কাশি?
অ্যালার্জির মূল কারণ হলো অ্যালার্জেন।
অর্থাৎ এমন কিছু উপাদান, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ধুলা, পরাগকণা ও ছত্রাকের মতো অ্যালার্জেন এসির মাধ্যমে ঘরের বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে সমস্যা বাড়তে পারে।
বিশেষ করে এসি ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানে ধুলা, পরাগকণা ও অন্যান্য কণা জমে থাকে। এসি চালানোর সময় এসব কণা আবার ঘরের বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ ছাড়া এসির আশপাশে আর্দ্রতা বা পানি জমে থাকলে ছত্রাক বা মোল্ড তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে। এসব অ্যালার্জেনের কারণে কারও হাঁচি, নাক বন্ধ বা নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানো, কাশি কিংবা গলায় অস্বস্তি হতে পারে।
ঠা-া বাতাসও কি সমস্যা বাড়ায়?
শুধু ঠা-া বাতাসকে অ্যালার্জির কারণ বলা ঠিক নয়। তবে আগে থেকেই অ্যালার্জিজনিত প্রদাহ থাকলে ঠা-া বাতাস, বাতাসের প্রবাহ, ধোঁয়া বা দূষণের মতো কিছু বিষয় উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে।
দীর্ঘ সময় খুব ঠা-া ও শুষ্ক পরিবেশে থাকলে নাক ও গলা শুকিয়ে গিয়ে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
এতে আগে থেকে থাকা হাঁচি-কাশি বা শ্বাসনালির সমস্যা আরো বেশি মনে হতে পারে।
আবার বাইরে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া থেকে হঠাৎ খুব ঠা-া এসি রুমে ঢোকা এবং পরে আবার গরম পরিবেশে বের হওয়াও কারো কারো নাক ও শ্বাসনালিতে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
এসি ব্যবহার করবেন কিভাবে?
এসি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কয়েকটি বিষয় মেনে চললে সমস্যা কমানো সম্ভব।
নিয়মিত এসির ফিল্টার পরিষ্কার করুন।
ঘরে অতিরিক্ত ধুলা জমতে দেবেন না।
এসির আশপাশে স্যাঁতসেঁতে বা ছত্রাক আছে কি না দেখুন।
ঘর অতিরিক্ত ঠা-া করে রাখবেন না।
ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।
এসি চালানোর পর নিয়মিত হাঁচি-কাশি হচ্ছে কি না খেয়াল করুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
এসি চালানোর সঙ্গে হাঁচি-কাশির সম্পর্ক থাকলেও সবসময় এর জন্য এসিকে দায়ী করা ঠিক নয়। বারবার হাঁচি, কাশি, নাক বন্ধ বা অন্যান্য উপসর্গ হলে এর পেছনে অন্য কোনো অ্যালার্জেন বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা থাকতে পারে।
বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসের সঙ্গে সাঁই সাঁই শব্দ হলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন: এসি নিজে অ্যালার্জি তৈরি করে না। তবে অপরিষ্কার ফিল্টার, ধুলা, ছত্রাক, শুষ্ক বাতাস বা ঠান্ডা পরিবেশ—আগে থেকে থাকা অ্যালার্জির উপসর্গকে বাড়িয়ে দিতে পারে।