ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর Logo গজারিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে এসএসসির বৃত্তির ফলাফলে হা-মীমের শিক্ষার্থীদের চমক Logo ক্যান্সার সচেতনতামূলক সংলাপ ও পথশিশুদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo উপকুলের লবনাক্ত আবহাওয়া মাটিতে সাবেক ব্যাংকার জিয়াউদ্দিনের মাল্টা চাষে সফলতা Logo টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজে নতুন এডহক কমিটি, সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ Logo শিবগঞ্জে ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা Logo লোহাগাড়ায় ১০০ মিটারের মধ্যে ৯টি অবৈধ করাতকল গিলে খাচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল Logo চৌদ্দগ্রামে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার Logo জামালপুরে ৫ম উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর মহা তাবু জলসা ও সমাপনী

নিজের চেহারা ভাড়া দিচ্ছেন চীনারা, কিন্তু কেন?

এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই বদলে যাচ্ছে কাজের ধরনও। ছবি তৈরি, লেখা কিংবা ভিডিও বানানোর গ-ি পেরিয়ে বিনোদন জগতেও জায়গা করে নিয়েছে এআই। আর এর হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে এমন এক অদ্ভুত পেশা, যেখানে মানুষ নিজের মুখের আদল বা ফেশিয়াল লাইকনেস ব্যবহারের অধিকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্যকে দিচ্ছেন।
চিনে এই ধরনের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে। বিষয়টি অনেকটা নিজের চেহারাকে লাইসেন্স দেওয়ার মতো। কোনো ব্যক্তি তার মুখের বৈশিষ্ট্য এআই-নির্ভর কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছেন। বিনিময়ে মিলছে পারিশ্রমিক।
কীভাবে কাজে লাগছে মানুষের মুখ?
এআই প্রযুক্তির সাহায্যে একজন মানুষের মুখের বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে তৈরি করা সম্ভব ভার্চুয়াল চরিত্র। সেই চরিত্রকে আবার বিভিন্ন ছোট নাটক, শর্ট ভিডিও, বিজ্ঞাপন কিংবা অন্য ধরনের ডিজিটাল কনটেন্টে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রতিবার ক্যামেরার সামনে এসে অভিনয় করতে হচ্ছে না। তার মুখের আদলকে প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন চরিত্রে উপস্থাপন করা যায়। ফলে অভিনেতা বা মডেল হিসেবে সরাসরি কাজ না করেও নিজের চেহারাকে কাজে লাগিয়ে আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সহজভাবে বললে, এতদিন মানুষ নিজের সময়, দক্ষতা বা অভিনয় দিয়ে আয় করতেন। এখন এআইয়ের যুগে কারো কারো ক্ষেত্রে নিজের চেহারাটিও আয়ের একটি সম্পদ হয়ে উঠছে।
সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে বড় ঝুঁকি
তবে নিজের মুখ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা নয়। কারণ একটি মুখের ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি হওয়ার পর সেটিকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা সম্ভব। একজন ব্যক্তি যে চরিত্রে কখনো অভিনয় করেননি, এআইয়ের মাধ্যমে তার মুখ সেই চরিত্রে দেখা যেতে পারে। এমনকি এমন কোনো গল্প বা পরিস্থিতিতেও তার মুখ ব্যবহার হতে পারে, যার সঙ্গে বাস্তব জীবনে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এ কারণেই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে সম্মতি বা কোনসেন্ট।
কেউ নিজের মুখ এআই কনটেন্টে ব্যবহারের অনুমতি দিলে তাকে আগে থেকেই জানা প্রয়োজন মুখটি কী ধরনের কাজে ব্যবহার হবে, কতদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে এবং এর বিনিময়ে তিনি কী সুবিধা বা পারিশ্রমিক পাবেন। এসব বিষয় স্পষ্ট থাকলে ভবিষ্যতে বিরোধের আশঙ্কাও তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
অনুমতি ছাড়া ব্যবহার হলে সমস্যা কোথায়?
সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে যখন কারো অনুমতি ছাড়াই তার ছবি বা ভিডিও থেকে মুখের আদল নিয়ে এআই কনটেন্ট তৈরি করা হয়। প্রযুক্তির সাহায্যে সেই মুখকে এমন ভিডিও বা ছবিতে বসানো সম্ভব, যা ওই ব্যক্তি বাস্তবে কখনো করেননি। এতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক পরিচিতি বা ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে এআইয়ের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল পরিচয় এবং নিজের চেহারার ওপর ব্যক্তির অধিকার নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মুখের ওপর অধিকার কার?
একজন মানুষের মুখ তার পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এআই প্রযুক্তি সেই পরিচয়কে ডিজিটালভাবে পুনর্র্নিমাণ করার সুযোগ দিচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে একজন মানুষ তার নিজের মুখ কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন? আর কোনো প্রযুক্তি সংস্থা বা কনটেন্ট নির্মাতা সেই মুখ ব্যবহারের অধিকার কতটা পাবেন?
বিভিন্ন দেশে এআই এবং ফেসিয়াল লাইকনেস ব্যবহারের বিষয়ে আইন ও নীতিমালা এখনো বিকশিত হচ্ছে। তাই একদিকে যেমন নিজের মুখের ডিজিটাল ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই তৈরি হচ্ছে আইনি ও নৈতিক নানা প্রশ্ন। এআই-নির্ভর বিনোদনের বাজার ভবিষ্যতে আরও বড় হলে এই বিতর্কও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ তখন শুধু কারো ছবি বা ভিডিও নয়, নিজের মুখের ডিজিটাল সংস্করণের ওপর অধিকার কার সেটিও ব্যক্তিগত অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।
সূত্র: রেস্ট অব ওয়ার্ল্ড, গালফ নিউজ

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর

নিজের চেহারা ভাড়া দিচ্ছেন চীনারা, কিন্তু কেন?

আপডেট সময় ০৮:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই বদলে যাচ্ছে কাজের ধরনও। ছবি তৈরি, লেখা কিংবা ভিডিও বানানোর গ-ি পেরিয়ে বিনোদন জগতেও জায়গা করে নিয়েছে এআই। আর এর হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে এমন এক অদ্ভুত পেশা, যেখানে মানুষ নিজের মুখের আদল বা ফেশিয়াল লাইকনেস ব্যবহারের অধিকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্যকে দিচ্ছেন।
চিনে এই ধরনের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে। বিষয়টি অনেকটা নিজের চেহারাকে লাইসেন্স দেওয়ার মতো। কোনো ব্যক্তি তার মুখের বৈশিষ্ট্য এআই-নির্ভর কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছেন। বিনিময়ে মিলছে পারিশ্রমিক।
কীভাবে কাজে লাগছে মানুষের মুখ?
এআই প্রযুক্তির সাহায্যে একজন মানুষের মুখের বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে তৈরি করা সম্ভব ভার্চুয়াল চরিত্র। সেই চরিত্রকে আবার বিভিন্ন ছোট নাটক, শর্ট ভিডিও, বিজ্ঞাপন কিংবা অন্য ধরনের ডিজিটাল কনটেন্টে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রতিবার ক্যামেরার সামনে এসে অভিনয় করতে হচ্ছে না। তার মুখের আদলকে প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন চরিত্রে উপস্থাপন করা যায়। ফলে অভিনেতা বা মডেল হিসেবে সরাসরি কাজ না করেও নিজের চেহারাকে কাজে লাগিয়ে আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সহজভাবে বললে, এতদিন মানুষ নিজের সময়, দক্ষতা বা অভিনয় দিয়ে আয় করতেন। এখন এআইয়ের যুগে কারো কারো ক্ষেত্রে নিজের চেহারাটিও আয়ের একটি সম্পদ হয়ে উঠছে।
সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে বড় ঝুঁকি
তবে নিজের মুখ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা নয়। কারণ একটি মুখের ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি হওয়ার পর সেটিকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা সম্ভব। একজন ব্যক্তি যে চরিত্রে কখনো অভিনয় করেননি, এআইয়ের মাধ্যমে তার মুখ সেই চরিত্রে দেখা যেতে পারে। এমনকি এমন কোনো গল্প বা পরিস্থিতিতেও তার মুখ ব্যবহার হতে পারে, যার সঙ্গে বাস্তব জীবনে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এ কারণেই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে সম্মতি বা কোনসেন্ট।
কেউ নিজের মুখ এআই কনটেন্টে ব্যবহারের অনুমতি দিলে তাকে আগে থেকেই জানা প্রয়োজন মুখটি কী ধরনের কাজে ব্যবহার হবে, কতদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে এবং এর বিনিময়ে তিনি কী সুবিধা বা পারিশ্রমিক পাবেন। এসব বিষয় স্পষ্ট থাকলে ভবিষ্যতে বিরোধের আশঙ্কাও তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
অনুমতি ছাড়া ব্যবহার হলে সমস্যা কোথায়?
সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে যখন কারো অনুমতি ছাড়াই তার ছবি বা ভিডিও থেকে মুখের আদল নিয়ে এআই কনটেন্ট তৈরি করা হয়। প্রযুক্তির সাহায্যে সেই মুখকে এমন ভিডিও বা ছবিতে বসানো সম্ভব, যা ওই ব্যক্তি বাস্তবে কখনো করেননি। এতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক পরিচিতি বা ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে এআইয়ের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল পরিচয় এবং নিজের চেহারার ওপর ব্যক্তির অধিকার নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মুখের ওপর অধিকার কার?
একজন মানুষের মুখ তার পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এআই প্রযুক্তি সেই পরিচয়কে ডিজিটালভাবে পুনর্র্নিমাণ করার সুযোগ দিচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে একজন মানুষ তার নিজের মুখ কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন? আর কোনো প্রযুক্তি সংস্থা বা কনটেন্ট নির্মাতা সেই মুখ ব্যবহারের অধিকার কতটা পাবেন?
বিভিন্ন দেশে এআই এবং ফেসিয়াল লাইকনেস ব্যবহারের বিষয়ে আইন ও নীতিমালা এখনো বিকশিত হচ্ছে। তাই একদিকে যেমন নিজের মুখের ডিজিটাল ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই তৈরি হচ্ছে আইনি ও নৈতিক নানা প্রশ্ন। এআই-নির্ভর বিনোদনের বাজার ভবিষ্যতে আরও বড় হলে এই বিতর্কও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ তখন শুধু কারো ছবি বা ভিডিও নয়, নিজের মুখের ডিজিটাল সংস্করণের ওপর অধিকার কার সেটিও ব্যক্তিগত অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।
সূত্র: রেস্ট অব ওয়ার্ল্ড, গালফ নিউজ