ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দৌলতখানে গ্রামীণ সড়কের কোর নেটওয়ার্ক ও তথ্য যাচাই বিষয়ক কর্মশালা Logo মানিকগঞ্জে বাইচ প্রতিযোগিতায় মায়ের দোয়া নৌকা চ্যাম্পিয়ন Logo কুমিল্লায় অবৈধ ভাবে ইউনানী ঔষধ উৎপাদন কারখানা গড়ে উঠার অভিযোগ Logo কালীগঞ্জে চাকরিজীবী ছয় ভাইরাভাইয়ের ছয় বিঘার ফলবাগান Logo ফেসবুকে কর্নেল অলিকে হত্যার হুমকি, কিশোরগঞ্জে জাহানের গ্রেফতার দাবি Logo মাদক না ছাড়লে বাড়িতে টাঙানো হবে ‘এখানে সুলভ মূল্যে মাদক বিক্রি হয়’ ব্যানার Logo সুনামগঞ্জে আনারস চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের সাথে মতবিনিময় Logo রায়পুরায় ম্যারাথন প্রতিযোগিতা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা Logo শ্রীমঙ্গলে ক্রিকেট একাডেমি ও খেলোয়াড়দের জন্য নবনির্মিত ড্রেসিং রুম উদ্বোধন Logo টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে কেমন হচ্ছে পাঠদান

জন্ম ও মৃত্যু সনদ নাগরিকের মৌলিক অধিকার

জন্ম ও মৃত্যুর সনদ মৌলিক নাগরিক তথ্যের মধ্যে অন্যতম। যা নিবন্ধনের মাধ্যমে নিতে হয়। দেশে এ কার্যক্রম শুরু হয় ২০০১ সালে। জনমিতিক পরিসংখ্যানকে কেন্দ্র করেই নেওয়া হয় দেশের প্রায় প্রতিটি আর্থসামাজিক কার্যক্রম। বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যুর সঠিক তথ্য ছাড়া নীতিনির্ধারণ, বাজেট পরিকল্পনা বা জনসেবার কাঠামো কোনো কিছুই নির্ভুলভাবে তৈরি করা সম্ভব নয়। তবুও এ মৌলিক তথ্য ব্যবস্থাপনায় রয়ে গেছে বিশৃঙ্খলা। এ বাস্তবতার মধ্যেই আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস।
দেশের সব মানুষকে জন্ম নিবন্ধনের আওতায় আনতে ২০০১ সালে ইউনিসেফ-বাংলাদেশের সহায়তায় প্রকল্প শুরু হয়। সে সময় হাতে লেখা জন্ম ও মৃত্যু সনদ দেওয়া হতো। ২০০৪ সালে এ আইন স্থগিত করে ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’ পাস করে সরকার। এটি কার্যকর হয় ২০০৬ সালের ৩ জুলাই। এরপর ২০১০ সালে সরকার অনলাইনে জন্মসনদ দেওয়া শুরু করে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম রাজস্ব খাতে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিভাগ এ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
জনসচেতনতা বাড়াতে ২০১৮ সালের অক্টোবরে সরকার ৬ অক্টোবরকে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। দেশের নাগরিক সেবা এখন মিলছে অনলাইনে। সরকারি নথি ই-ডকুমেন্টে, এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টও ডাটাবেজের সঙ্গে যুক্ত। এরপরও এখন পর্যন্ত দেশের জনসংখ্যার সঠিক তথ্য নিয়ে একেক প্রতিষ্ঠান একেক রকম তথ্য দিচ্ছে। বিবিএসের স্যাম্পল ভাইটাল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এসভিআরএস) ২০২৩-এর চৃড়ান্ত প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে দেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার। সংস্থাটির ২০২৩ সালে প্রকাশিত তথ্য বলছে, দেশে প্রতি বছর গড়ে ১০ লাখ ৪১ হাজার ৩৩১ জন মৃত্যুবরণ করে। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৭ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৬ জন বা অন্তত ৭০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়েছে। ফলে ৩ লাখ ১০ হাজার ৩৯৫ জন বা পপ্রায় ৩০ শতাংশ মৃত ব্যক্তি মৃত্যু নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। যদিও এ সংখ্যাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
জন্ম কিংবা মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যেই নিবন্ধন সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে আইনে। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল লাইব্রেরির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে শুধু সাড়ে ৪ শতাংশ শিশুর জন্ম নিবন্ধন এবং ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ মৃত্যুর নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে শুধু ৫৪ শতাংশ শিশুর জন্ম নিবন্ধন হয়। ‘বার্থ অ্যান্ড ডেথ নোটিফিকেশনস ফর ইম্পপ্ররুভিং সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস ইন বাংলাদেশ: পাইলট এক্সপ্লোরেটরি স্টাডি’ শিরোনামে এ গবেষণা ২০২২ সালে পপ্রকাশিত হয়। যদিও বিবিএসের ২০২২ সালের এক পরিসংখ্যানে দাবি করা হয়েছে, মোট জনসংখ্যার ৬৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ জন্ম নিবন্ধনের আওতায় এসেছে।
দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয়, সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের পাশাপাশি বিদেশের বাংলাদেশি দূতাবাসে অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে দেশ ও দেশের বাইরে ৫ হাজার ৫৩২টি জায়গা থেকে জন্ম নিবন্ধন করা যাচ্ছে। আর এসবের হিসাব রাখছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পপ্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৫ জুন পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত জনসংখ্যার পরিমাণ ২২ কোটি ৮৮ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৫। আর নিবন্ধিত মৃত মানুষের সংখ্যা ৩১ লাখ ৩ হাজার ৪০৫। প্রতি বছর মৃত্যু নিবন্ধনের সংখ্যা ১০ লাখের কাছাকাছি।
ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো জরিপই সমন্বিতভাবে না হওয়ায় এ ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। পরিসংখ্যান নিয়ে সরকারের নির্দিষ্ট একটি জায়গায় আসা উচিত বলে মনে করেন এ অর্থনীতিবিদ।’ সংশ্লিষ্টদের মতে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কেবল একটি পপ্রশাসনিক কাজ নয়, এটি নাগরিক অধিকারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে একজন নাগরিকের রাষ্ট্রীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠিত হয়। নাগরিক জীবনের প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভোটার নিবন্ধন, পাসপোর্ট, সম্পত্তি হস্তান্তর বা উত্তরাধিকার সবকিছুর প্রথম শর্তই জন্ম নিবন্ধন সনদ। একইভাবে মৃত্যু নিবন্ধনও সামাজিক ও পরিসংখ্যানগত তথ্য ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুররুত্বপূর্ণ।
মৃত্যুর কারণ ও হার জানা গেলে জনস্বাস্থ্য নীতি, বাজেট বরাদ্দ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও কার্যকর হয়। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রেও জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন একটি গুররুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত। এ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন শতভাগ এবং মৃত্যু নিবন্ধন ৮০ শতাংশ করতে হবে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সিআরভিএস (সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস) দশক (২০১৫-২৪) ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে বাংলাদেশের জন্য ২০২৪ সালের মধ্যে জন্মের এক বছরের মধ্যে শতভাগ জন্ম নিবন্ধন ও ৫০ শতাংশ মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার কোনোটাই এখনো অর্জন করা হয়নি। তবে নিবন্ধনের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলে দাবি করেছেন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত সচিব) ।

তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ লোক মৃত্যুবরণ করে। চলতি বছরে এরই মধ্যে আমাদের প্রায় সাত লাখ মৃত লোকের নিবন্ধন করা হয়েছে। গত বছরও সংখ্যাটা প্রায় একই ছিল। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন উভয়ই আগের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছে। আমরা ধীরে ধীরে সনাতনী পদ্ধতির নিবন্ধনগুলো বন্ধ করে দিচ্ছি। কারো দুটি নিবন্ধন থাকলে অবশ্যই একটা বাতিল করে আসতে হবে। প্রতি বছরই আমরা এ রকম প্রায় সাত-আট লাখ আবেদন গ্রহণ করছি। হয়তো চার-পাঁচ বছর পর গিয়ে সংখ্যাটা কম হয়ে আসবে। এছাড়া ২০২৪ সালে আমরা ৮৩ লাখ জন্ম নিবন্ধন করেছি। ২০২৫-এর এখন পর্যন্ত ৭৭ লাখ জন্ম নিবন্ধন করেছি। বছর শেষে হয়তো এক কোটি পেরিয়ে যাবে। অনেকেই হয়তো এখনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেননি। জনগণের সহজলভ্যতার জন্য কারিগরি দিকটাও প্রতিনিয়ত হালনগাদ করছি আমরা।’ লেখক:ড. মো. ফোরকান আলী

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতখানে গ্রামীণ সড়কের কোর নেটওয়ার্ক ও তথ্য যাচাই বিষয়ক কর্মশালা

জন্ম ও মৃত্যু সনদ নাগরিকের মৌলিক অধিকার

আপডেট সময় ০৮:৪০:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

জন্ম ও মৃত্যুর সনদ মৌলিক নাগরিক তথ্যের মধ্যে অন্যতম। যা নিবন্ধনের মাধ্যমে নিতে হয়। দেশে এ কার্যক্রম শুরু হয় ২০০১ সালে। জনমিতিক পরিসংখ্যানকে কেন্দ্র করেই নেওয়া হয় দেশের প্রায় প্রতিটি আর্থসামাজিক কার্যক্রম। বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যুর সঠিক তথ্য ছাড়া নীতিনির্ধারণ, বাজেট পরিকল্পনা বা জনসেবার কাঠামো কোনো কিছুই নির্ভুলভাবে তৈরি করা সম্ভব নয়। তবুও এ মৌলিক তথ্য ব্যবস্থাপনায় রয়ে গেছে বিশৃঙ্খলা। এ বাস্তবতার মধ্যেই আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস।
দেশের সব মানুষকে জন্ম নিবন্ধনের আওতায় আনতে ২০০১ সালে ইউনিসেফ-বাংলাদেশের সহায়তায় প্রকল্প শুরু হয়। সে সময় হাতে লেখা জন্ম ও মৃত্যু সনদ দেওয়া হতো। ২০০৪ সালে এ আইন স্থগিত করে ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’ পাস করে সরকার। এটি কার্যকর হয় ২০০৬ সালের ৩ জুলাই। এরপর ২০১০ সালে সরকার অনলাইনে জন্মসনদ দেওয়া শুরু করে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম রাজস্ব খাতে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিভাগ এ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
জনসচেতনতা বাড়াতে ২০১৮ সালের অক্টোবরে সরকার ৬ অক্টোবরকে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। দেশের নাগরিক সেবা এখন মিলছে অনলাইনে। সরকারি নথি ই-ডকুমেন্টে, এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টও ডাটাবেজের সঙ্গে যুক্ত। এরপরও এখন পর্যন্ত দেশের জনসংখ্যার সঠিক তথ্য নিয়ে একেক প্রতিষ্ঠান একেক রকম তথ্য দিচ্ছে। বিবিএসের স্যাম্পল ভাইটাল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এসভিআরএস) ২০২৩-এর চৃড়ান্ত প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে দেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার। সংস্থাটির ২০২৩ সালে প্রকাশিত তথ্য বলছে, দেশে প্রতি বছর গড়ে ১০ লাখ ৪১ হাজার ৩৩১ জন মৃত্যুবরণ করে। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৭ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৬ জন বা অন্তত ৭০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়েছে। ফলে ৩ লাখ ১০ হাজার ৩৯৫ জন বা পপ্রায় ৩০ শতাংশ মৃত ব্যক্তি মৃত্যু নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। যদিও এ সংখ্যাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
জন্ম কিংবা মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যেই নিবন্ধন সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে আইনে। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল লাইব্রেরির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে শুধু সাড়ে ৪ শতাংশ শিশুর জন্ম নিবন্ধন এবং ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ মৃত্যুর নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে শুধু ৫৪ শতাংশ শিশুর জন্ম নিবন্ধন হয়। ‘বার্থ অ্যান্ড ডেথ নোটিফিকেশনস ফর ইম্পপ্ররুভিং সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস ইন বাংলাদেশ: পাইলট এক্সপ্লোরেটরি স্টাডি’ শিরোনামে এ গবেষণা ২০২২ সালে পপ্রকাশিত হয়। যদিও বিবিএসের ২০২২ সালের এক পরিসংখ্যানে দাবি করা হয়েছে, মোট জনসংখ্যার ৬৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ জন্ম নিবন্ধনের আওতায় এসেছে।
দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয়, সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের পাশাপাশি বিদেশের বাংলাদেশি দূতাবাসে অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে দেশ ও দেশের বাইরে ৫ হাজার ৫৩২টি জায়গা থেকে জন্ম নিবন্ধন করা যাচ্ছে। আর এসবের হিসাব রাখছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পপ্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৫ জুন পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত জনসংখ্যার পরিমাণ ২২ কোটি ৮৮ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৫। আর নিবন্ধিত মৃত মানুষের সংখ্যা ৩১ লাখ ৩ হাজার ৪০৫। প্রতি বছর মৃত্যু নিবন্ধনের সংখ্যা ১০ লাখের কাছাকাছি।
ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো জরিপই সমন্বিতভাবে না হওয়ায় এ ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। পরিসংখ্যান নিয়ে সরকারের নির্দিষ্ট একটি জায়গায় আসা উচিত বলে মনে করেন এ অর্থনীতিবিদ।’ সংশ্লিষ্টদের মতে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কেবল একটি পপ্রশাসনিক কাজ নয়, এটি নাগরিক অধিকারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে একজন নাগরিকের রাষ্ট্রীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠিত হয়। নাগরিক জীবনের প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভোটার নিবন্ধন, পাসপোর্ট, সম্পত্তি হস্তান্তর বা উত্তরাধিকার সবকিছুর প্রথম শর্তই জন্ম নিবন্ধন সনদ। একইভাবে মৃত্যু নিবন্ধনও সামাজিক ও পরিসংখ্যানগত তথ্য ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুররুত্বপূর্ণ।
মৃত্যুর কারণ ও হার জানা গেলে জনস্বাস্থ্য নীতি, বাজেট বরাদ্দ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও কার্যকর হয়। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রেও জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন একটি গুররুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত। এ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন শতভাগ এবং মৃত্যু নিবন্ধন ৮০ শতাংশ করতে হবে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সিআরভিএস (সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস) দশক (২০১৫-২৪) ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে বাংলাদেশের জন্য ২০২৪ সালের মধ্যে জন্মের এক বছরের মধ্যে শতভাগ জন্ম নিবন্ধন ও ৫০ শতাংশ মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার কোনোটাই এখনো অর্জন করা হয়নি। তবে নিবন্ধনের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলে দাবি করেছেন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত সচিব) ।

তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ লোক মৃত্যুবরণ করে। চলতি বছরে এরই মধ্যে আমাদের প্রায় সাত লাখ মৃত লোকের নিবন্ধন করা হয়েছে। গত বছরও সংখ্যাটা প্রায় একই ছিল। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন উভয়ই আগের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছে। আমরা ধীরে ধীরে সনাতনী পদ্ধতির নিবন্ধনগুলো বন্ধ করে দিচ্ছি। কারো দুটি নিবন্ধন থাকলে অবশ্যই একটা বাতিল করে আসতে হবে। প্রতি বছরই আমরা এ রকম প্রায় সাত-আট লাখ আবেদন গ্রহণ করছি। হয়তো চার-পাঁচ বছর পর গিয়ে সংখ্যাটা কম হয়ে আসবে। এছাড়া ২০২৪ সালে আমরা ৮৩ লাখ জন্ম নিবন্ধন করেছি। ২০২৫-এর এখন পর্যন্ত ৭৭ লাখ জন্ম নিবন্ধন করেছি। বছর শেষে হয়তো এক কোটি পেরিয়ে যাবে। অনেকেই হয়তো এখনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেননি। জনগণের সহজলভ্যতার জন্য কারিগরি দিকটাও প্রতিনিয়ত হালনগাদ করছি আমরা।’ লেখক:ড. মো. ফোরকান আলী