ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আবর্জনার স্তূপ থেকে মনোরম বাগান ডিসি ফরিদার প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী Logo নগরকান্দায় হামলাকারীদের বিচার ও শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যার শান্তির দাবিতে মানববন্ধন Logo কোনো চাঁদাবাজ আর দখলবাজ বেতাগীতে থাকতে পারবে না-চিফ হুইপ Logo দুই বছরেই জেলা সেরা, বিভাগে তৃতীয় লালমোহনের সোনালী ব্যাংক Logo মিরসরাইয়ে শেষ হলো বই পড়া উৎসব Logo দুর্গাপূজা উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের অনুদানের চেক বিতরণ Logo তাড়াশে অবৈধ পুকুর খনন, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন Logo কালীগঞ্জে কুকুর-বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগ জনক হারে বাড়ছে Logo বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি বিতরণ Logo গলাচিপায় এলজিইডি এর আয়োজনে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক কর্মশালা

গরুর মাংসের উপকারিতা

গরুর মাংস অনেকেরই পছন্দের খাবার। বিভিন্ন সময় আমাদের পাতে নানা পদে গরুর মাংস থাকেই। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, জিংক ও ভিটামিন বি১২, যা শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে গরুর মাংস সবার শরীরে একইভাবে প্রভাব ফেলে না।
শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশে এটি উপকারী হতে পারে। অন্যদিকে, বয়স্কদের ক্ষেত্রে বয়স, শারীরিক অবস্থা ও খাওয়ার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে এর উপকারিতা ও ঝুঁকি। তাই গরুর মাংস খাওয়ার আগে জানা জরুরি, কোন বয়সে এটি কতটা উপকারী এবং কাদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
শিশুদের বৃদ্ধিতে গরুর মাংসের উপকারিতা
শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিংক ও ভিটামিনের প্রয়োজন। গরুর মাংসে এসব পুষ্টি উপাদান থাকায় সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি শিশুদের জন্য উপকারী হতে পারে।
গরুর মাংসের প্রোটিন পেশি ও শরীরের টিস্যু গঠনে সাহায্য করে। এতে থাকা হিম আয়রন শরীরে সহজে শোষিত হয় এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। আয়রনের ঘাটতি শিশুদের শেখার ক্ষমতা ও স্বাভাবিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া জিংক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, বৃদ্ধি ও ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। ভিটামিন বি১২ স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং রক্তকণিকা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, পুষ্টির ঘাটতিতে থাকা শিশুদের খাদ্যতালিকায় মাংসের মতো পুষ্টিকর খাবার যুক্ত করলে শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশে উপকার হতে পারে।
শিশুদের গরুর মাংস খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা
গরুর মাংস পুষ্টিকর হলেও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়ানো ঠিক নয়। এতে ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। আবার মাংস বেশি খাওয়ার কারণে ফল, শাকসবজি, ডাল, ডিম ও দুধের মতো অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার কম খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
শিশুকে মাংস দেওয়ার সময় তা ভালোভাবে রান্না করে নরম করে পরিবেশন করতে হবে, যাতে সহজে চিবিয়ে খেতে পারে। শিশুর বয়স, খাবারের ধরন ও গ্রহণক্ষমতা অনুযায়ী মাংস দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
বয়স্কদের জন্যও কি গরুর মাংস উপকারী?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের পেশি কমতে থাকে। এই অবস্থাকে বলা হয় সারকোপেনিয়া। বয়স্কদের পেশি ও শারীরিক শক্তি ধরে রাখতে পর্যাপ্ত প্রোটিন প্রয়োজন। গরুর মাংস সেই প্রোটিনের একটি উৎস। এতে থাকা আয়রন ও ভিটামিন বি১২ রক্তকণিকা তৈরি এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সাহায্য করে। জিংকও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে গরুর মাংস খাওয়ার পরিমাণ ও ধরন গুরুত্বপূর্ণ। চর্বিহীন মাংস পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি মাছ, ডিম, ডাল, দুধ ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম, বিশেষ করে সক্ষমতা অনুযায়ী শক্তিবর্ধক ব্যায়াম, পেশি ধরে রাখতেও সাহায্য করে।
অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে যেসব ক্ষতি হতে পারে
গরুর মাংসের চর্বিযুক্ত অংশে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকতে পারে। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে, যা হৃদ রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া নিয়মিত বেশি পরিমাণে লাল মাংস খাওয়ার সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। প্রক্রিয়াজাত মাংস, যেমন সসেজ ও হ্যামের ক্ষেত্রে ঝুঁকির প্রমাণ আরও শক্তিশালী।
যাদের কিডনির দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা রয়েছে, তাদের প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা প্রয়োজন। গরুর মাংসে থাকা পিউরিন কিছু মানুষের ইউরিক অ্যাসিড বাড়াতে পারে এবং গাউটের সমস্যা বাড়াতে পারে। আবার চর্বিযুক্ত মাংস খেলে কারো কারো অ্যাসিডিটি বা হজমের অস্বস্তি হতে পারে।
মাংস খাওয়ার সময় যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন
মাংস হজম হতে সময় নেয়। তাই বেশি খেলে পেটফাঁপা, পেটভারী, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। এ জন্য মাংস খাওয়ার সময় সালাদ, দই, বোরহানি, ক্যাপসিকাম ও টমেটো খেতে পারেন। মাংস খাওয়ার পর কুসুম গরম পানি খেতে পারেন।
মাংস ভালোভাবে রান্না করা জরুরি। কম সিদ্ধ মাংসে সালমোনেলা ও ই. কোলির মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘ সময় উচ্চ তাপে মাংস রান্না করলে এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্ষমতা হারায়। আবার উচ্চ তাপে রান্না করলে ভিটামিন বি প্রায় ৪০ শতাংশই নষ্ট হয়।
একবারে অনেক মাংস রান্না করলে দ্রুত ঠান্ডা করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে। বারবার গরম না করে প্রয়োজনমতো আলাদা অংশ গরম করে খাওয়া ভালো। মাংস দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত উচ্চ তাপে পোড়ানোর মতো করে রান্না করাও এড়িয়ে চলা উচিত।
কারা কতটুকু খাবেন
গরুর মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্য, রান্নার ধরন ও পরিমাণ বিবেচনা করা জরুরি। তবে সপ্তাহে ২ দিন বা ১৫০ গ্রামের বেশি মাংস না খাওয়াই ভালো। এছাড়া অন্তঃসত্ত্বা নারীদের কম সিদ্ধ মাংস খাওয়া উচিত নয়। এতে টক্সোপ্লাজমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতিরিক্ত কলিজা খাওয়া ঠিক নয়।
তাই চর্বি কম এমন অংশ বেছে নেওয়া, অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করা এবং মাংসের সঙ্গে শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস উপকারী।
শিশুদের বৃদ্ধি এবং বয়স্কদের পেশি ধরে রাখতে গরুর মাংস ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো বয়সেই এটি একমাত্র পুষ্টির উৎস নয়। বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যই সুস্থ থাকার সবচেয়ে ভালো উপায়।
সূত্র: হেলথলাইন, ওয়েবএমডি

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আবর্জনার স্তূপ থেকে মনোরম বাগান ডিসি ফরিদার প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

গরুর মাংসের উপকারিতা

আপডেট সময় ০৭:৪৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

গরুর মাংস অনেকেরই পছন্দের খাবার। বিভিন্ন সময় আমাদের পাতে নানা পদে গরুর মাংস থাকেই। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, জিংক ও ভিটামিন বি১২, যা শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে গরুর মাংস সবার শরীরে একইভাবে প্রভাব ফেলে না।
শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশে এটি উপকারী হতে পারে। অন্যদিকে, বয়স্কদের ক্ষেত্রে বয়স, শারীরিক অবস্থা ও খাওয়ার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে এর উপকারিতা ও ঝুঁকি। তাই গরুর মাংস খাওয়ার আগে জানা জরুরি, কোন বয়সে এটি কতটা উপকারী এবং কাদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
শিশুদের বৃদ্ধিতে গরুর মাংসের উপকারিতা
শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিংক ও ভিটামিনের প্রয়োজন। গরুর মাংসে এসব পুষ্টি উপাদান থাকায় সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি শিশুদের জন্য উপকারী হতে পারে।
গরুর মাংসের প্রোটিন পেশি ও শরীরের টিস্যু গঠনে সাহায্য করে। এতে থাকা হিম আয়রন শরীরে সহজে শোষিত হয় এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। আয়রনের ঘাটতি শিশুদের শেখার ক্ষমতা ও স্বাভাবিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া জিংক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, বৃদ্ধি ও ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। ভিটামিন বি১২ স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং রক্তকণিকা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, পুষ্টির ঘাটতিতে থাকা শিশুদের খাদ্যতালিকায় মাংসের মতো পুষ্টিকর খাবার যুক্ত করলে শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশে উপকার হতে পারে।
শিশুদের গরুর মাংস খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা
গরুর মাংস পুষ্টিকর হলেও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়ানো ঠিক নয়। এতে ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। আবার মাংস বেশি খাওয়ার কারণে ফল, শাকসবজি, ডাল, ডিম ও দুধের মতো অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার কম খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
শিশুকে মাংস দেওয়ার সময় তা ভালোভাবে রান্না করে নরম করে পরিবেশন করতে হবে, যাতে সহজে চিবিয়ে খেতে পারে। শিশুর বয়স, খাবারের ধরন ও গ্রহণক্ষমতা অনুযায়ী মাংস দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
বয়স্কদের জন্যও কি গরুর মাংস উপকারী?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের পেশি কমতে থাকে। এই অবস্থাকে বলা হয় সারকোপেনিয়া। বয়স্কদের পেশি ও শারীরিক শক্তি ধরে রাখতে পর্যাপ্ত প্রোটিন প্রয়োজন। গরুর মাংস সেই প্রোটিনের একটি উৎস। এতে থাকা আয়রন ও ভিটামিন বি১২ রক্তকণিকা তৈরি এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সাহায্য করে। জিংকও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে গরুর মাংস খাওয়ার পরিমাণ ও ধরন গুরুত্বপূর্ণ। চর্বিহীন মাংস পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি মাছ, ডিম, ডাল, দুধ ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম, বিশেষ করে সক্ষমতা অনুযায়ী শক্তিবর্ধক ব্যায়াম, পেশি ধরে রাখতেও সাহায্য করে।
অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে যেসব ক্ষতি হতে পারে
গরুর মাংসের চর্বিযুক্ত অংশে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকতে পারে। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে, যা হৃদ রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া নিয়মিত বেশি পরিমাণে লাল মাংস খাওয়ার সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। প্রক্রিয়াজাত মাংস, যেমন সসেজ ও হ্যামের ক্ষেত্রে ঝুঁকির প্রমাণ আরও শক্তিশালী।
যাদের কিডনির দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা রয়েছে, তাদের প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা প্রয়োজন। গরুর মাংসে থাকা পিউরিন কিছু মানুষের ইউরিক অ্যাসিড বাড়াতে পারে এবং গাউটের সমস্যা বাড়াতে পারে। আবার চর্বিযুক্ত মাংস খেলে কারো কারো অ্যাসিডিটি বা হজমের অস্বস্তি হতে পারে।
মাংস খাওয়ার সময় যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন
মাংস হজম হতে সময় নেয়। তাই বেশি খেলে পেটফাঁপা, পেটভারী, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। এ জন্য মাংস খাওয়ার সময় সালাদ, দই, বোরহানি, ক্যাপসিকাম ও টমেটো খেতে পারেন। মাংস খাওয়ার পর কুসুম গরম পানি খেতে পারেন।
মাংস ভালোভাবে রান্না করা জরুরি। কম সিদ্ধ মাংসে সালমোনেলা ও ই. কোলির মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘ সময় উচ্চ তাপে মাংস রান্না করলে এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্ষমতা হারায়। আবার উচ্চ তাপে রান্না করলে ভিটামিন বি প্রায় ৪০ শতাংশই নষ্ট হয়।
একবারে অনেক মাংস রান্না করলে দ্রুত ঠান্ডা করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে। বারবার গরম না করে প্রয়োজনমতো আলাদা অংশ গরম করে খাওয়া ভালো। মাংস দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত উচ্চ তাপে পোড়ানোর মতো করে রান্না করাও এড়িয়ে চলা উচিত।
কারা কতটুকু খাবেন
গরুর মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্য, রান্নার ধরন ও পরিমাণ বিবেচনা করা জরুরি। তবে সপ্তাহে ২ দিন বা ১৫০ গ্রামের বেশি মাংস না খাওয়াই ভালো। এছাড়া অন্তঃসত্ত্বা নারীদের কম সিদ্ধ মাংস খাওয়া উচিত নয়। এতে টক্সোপ্লাজমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতিরিক্ত কলিজা খাওয়া ঠিক নয়।
তাই চর্বি কম এমন অংশ বেছে নেওয়া, অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করা এবং মাংসের সঙ্গে শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস উপকারী।
শিশুদের বৃদ্ধি এবং বয়স্কদের পেশি ধরে রাখতে গরুর মাংস ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো বয়সেই এটি একমাত্র পুষ্টির উৎস নয়। বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যই সুস্থ থাকার সবচেয়ে ভালো উপায়।
সূত্র: হেলথলাইন, ওয়েবএমডি