ঢাকা ০৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা!

গর্ভবতী নারীরা ত্বকে যা যা মাখবেন না

গর্ভাবস্থায় শরীরে নানা পরিবর্তনের সঙ্গে ত্বকেও পরিবর্তন আসে। কারও ব্রণ বাড়ে, কারও ত্বক শুষ্ক হয়, আবার কারও মুখে দাগ পড়ে। তখন অনেকেই বিভিন্ন ক্রিম, সিরাম বা তেল ব্যবহার করতে চান।
কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, গর্ভাবস্থায় ত্বকে যা খুশি ব্যবহার করা ঠিক নয়। কিছু উপাদান ত্বক দিয়ে শোষিত হয়ে শরীরে ঢুকে যেতে পারে, তাই বাড়তি সতর্কতা জরুরি। জানুন কোন উপাদানগুলো গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা উচিত নয় –
১. রেটিনয়েড বা ভিটামিন এ জাতীয় পণ্য
ব্রণ, দাগ বা অ্যান্টি-এজিং পণ্যে রেটিনল, ট্রেটিনইন, অ্যাডাপালিনের মতো উপাদান থাকতে পারে। গর্ভাবস্থায় এগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ ভ্রূণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
২. হাইড্রোকুইনোন
ত্বক ফর্সা করা বা মেছতার দাগ কমানোর কিছু পণ্যে হাইড্রোকুইনোন থাকে। এটি ত্বক দিয়ে তুলনামূলক বেশি শোষিত হতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার না করাই ভালো।
৩. উচ্চমাত্রার স্যালিসিলিক অ্যাসিড
ব্রণর চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু পিলিং সল্যুশন বা শক্তিশালী এক্সফোলিয়েন্টে বেশি মাত্রার স্যালিসিলিক অ্যাসিড থাকে। ছোট পরিমাণ ফেসওয়াশে সাধারণত ঝুঁকি কম হলেও উচ্চমাত্রার পণ্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
৪. স্টেরয়েড ক্রিম
চুলকানি বা র‌্যাশে অনেকে নিজে নিজে স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন বা শক্তিশালী স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার ক্ষতিকর হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করবেন না।
৫. ফরমালডিহাইড বা শক্ত রাসায়নিকযুক্ত পণ্য
কিছু নখের পণ্য, চুল সোজা করার কেমিক্যাল বা শক্ত সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনীতে এমন উপাদান থাকতে পারে, যা এড়িয়ে চলা ভালো।
৬. অজানা হারবাল বা ব্লিচিং ক্রিম
প্রাকৃতিক লেখা থাকলেই নিরাপদ নয়। অনেক হারবাল বা অনিবন্ধিত পণ্যে কী আছে, তা স্পষ্ট থাকে না। তাই অজানা ক্রিম, ব্লিচ বা মিশ্রণ ব্যবহার না করাই ভালো।
তাহলে কী ব্যবহার করবেন?
মৃদু ক্লিনজার, সাধারণ ময়েশ্চারাইজার, মিনারেল সানস্ক্রিন, অ্যালোভেরা বা নিরাপদ উপাদানযুক্ত পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নতুন কিছু শুরু করার আগে চিকিৎসক বা ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কেন সতর্কতা জরুরি?
গর্ভাবস্থায় ত্বকও বেশি সংবেদনশীল হতে পারে। তাই আগে যে পণ্য মানাতো, এখন সেটিও জ্বালা বা র‌্যাশ করতে পারে।
সব মিলিয়ে, গর্ভাবস্থায় সৌন্দর্যচর্চা বন্ধ না করে শুধু বুদ্ধিমানের মতো পণ্য বেছে নিতে হবে।
সূত্র: আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস, মায়ো ক্লিনিক, আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

গর্ভবতী নারীরা ত্বকে যা যা মাখবেন না

আপডেট সময় ১১:৫২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

গর্ভাবস্থায় শরীরে নানা পরিবর্তনের সঙ্গে ত্বকেও পরিবর্তন আসে। কারও ব্রণ বাড়ে, কারও ত্বক শুষ্ক হয়, আবার কারও মুখে দাগ পড়ে। তখন অনেকেই বিভিন্ন ক্রিম, সিরাম বা তেল ব্যবহার করতে চান।
কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, গর্ভাবস্থায় ত্বকে যা খুশি ব্যবহার করা ঠিক নয়। কিছু উপাদান ত্বক দিয়ে শোষিত হয়ে শরীরে ঢুকে যেতে পারে, তাই বাড়তি সতর্কতা জরুরি। জানুন কোন উপাদানগুলো গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা উচিত নয় –
১. রেটিনয়েড বা ভিটামিন এ জাতীয় পণ্য
ব্রণ, দাগ বা অ্যান্টি-এজিং পণ্যে রেটিনল, ট্রেটিনইন, অ্যাডাপালিনের মতো উপাদান থাকতে পারে। গর্ভাবস্থায় এগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ ভ্রূণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
২. হাইড্রোকুইনোন
ত্বক ফর্সা করা বা মেছতার দাগ কমানোর কিছু পণ্যে হাইড্রোকুইনোন থাকে। এটি ত্বক দিয়ে তুলনামূলক বেশি শোষিত হতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার না করাই ভালো।
৩. উচ্চমাত্রার স্যালিসিলিক অ্যাসিড
ব্রণর চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু পিলিং সল্যুশন বা শক্তিশালী এক্সফোলিয়েন্টে বেশি মাত্রার স্যালিসিলিক অ্যাসিড থাকে। ছোট পরিমাণ ফেসওয়াশে সাধারণত ঝুঁকি কম হলেও উচ্চমাত্রার পণ্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
৪. স্টেরয়েড ক্রিম
চুলকানি বা র‌্যাশে অনেকে নিজে নিজে স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন বা শক্তিশালী স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার ক্ষতিকর হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করবেন না।
৫. ফরমালডিহাইড বা শক্ত রাসায়নিকযুক্ত পণ্য
কিছু নখের পণ্য, চুল সোজা করার কেমিক্যাল বা শক্ত সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনীতে এমন উপাদান থাকতে পারে, যা এড়িয়ে চলা ভালো।
৬. অজানা হারবাল বা ব্লিচিং ক্রিম
প্রাকৃতিক লেখা থাকলেই নিরাপদ নয়। অনেক হারবাল বা অনিবন্ধিত পণ্যে কী আছে, তা স্পষ্ট থাকে না। তাই অজানা ক্রিম, ব্লিচ বা মিশ্রণ ব্যবহার না করাই ভালো।
তাহলে কী ব্যবহার করবেন?
মৃদু ক্লিনজার, সাধারণ ময়েশ্চারাইজার, মিনারেল সানস্ক্রিন, অ্যালোভেরা বা নিরাপদ উপাদানযুক্ত পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নতুন কিছু শুরু করার আগে চিকিৎসক বা ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কেন সতর্কতা জরুরি?
গর্ভাবস্থায় ত্বকও বেশি সংবেদনশীল হতে পারে। তাই আগে যে পণ্য মানাতো, এখন সেটিও জ্বালা বা র‌্যাশ করতে পারে।
সব মিলিয়ে, গর্ভাবস্থায় সৌন্দর্যচর্চা বন্ধ না করে শুধু বুদ্ধিমানের মতো পণ্য বেছে নিতে হবে।
সূত্র: আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস, মায়ো ক্লিনিক, আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি