ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা!

সিদ্ধ ডিম, গরিবের প্রোটিন না স্মার্ট লাইফস্টাইলের সুপারফুড?

সকালের নাস্তার টেবিলে একপাশে রাখা একটি সাদামাটা সিদ্ধ ডিম, এ যেন বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত খাবারগুলোর একটি। কারও কাছে এটি ভাতের সঙ্গে সহজ এক সাইড আইটেম, আবার কারও কাছে জিম-ডায়েটের অপরিহার্য অংশ। প্রশ্নটা তাই স্বাভাবিক সিদ্ধ ডিম কি শুধু ‘গরিবের প্রোটিন’, নাকি আধুনিক স্মার্ট লাইফস্টাইলের এক গুরুত্বপূর্ণ সুপারফুড?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের তাকাতে হবে ডিমের পুষ্টিগুণ, সামাজিক বাস্তবতা এবং বর্তমান খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের দিকে। চলুন জেনে নেই এর বিস্তারিত-
সিদ্ধ ডিমের পুষ্টিগুণ
সিদ্ধ ডিমকে অবহেলা করার সুযোগ খুব কম। একটি মাঝারি আকারের ডিমে থাকে প্রায় ৬-৭ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন, যা শরীরের পেশি গঠন, টিস্যু মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু প্রোটিনই নয়, ডিমে রয়েছে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, সেলেনিয়াম, কোলিন (মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত জরুরি)। এই পুষ্টিগুণগুলো একসঙ্গে খুব কম খাবারেই পাওয়া যায়। তাই পুষ্টিবিদরা ডিমকে ‘কমপ্লিট ফুড’ বা প্রায় পূর্ণাঙ্গ খাবার বলেই উল্লেখ করেন।
গরিবের প্রোটিন-এই ট্যাগ কোথা থেকে এলো?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ডিম দীর্ঘদিন ধরেই একটি সাশ্রয়ী প্রোটিনের উৎস। যেখানে মাংস বা মাছ প্রতিদিন সবার নাগালে থাকে না, সেখানে একটি সিদ্ধ ডিম অনেক পরিবারের জন্য সহজলভ্য পুষ্টির ভরসা। গ্রামের স্কুলপড়ুয়া শিশু থেকে শুরু করে শহরের নি¤œআয়ের পরিবার, ডিম তাদের খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এই বাস্তবতা থেকেই ‘গরিবের প্রোটিন’ তকমাটি এসেছে। তবে এই ট্যাগের ভেতরে একধরনের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও কাজ করে, যেখানে সস্তা মানেই কম মূল্যবান বলে ভাবা হয়। অথচ বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।
সুপারফুড হিসেবে সিদ্ধ ডিমের উত্থান
সময়ের সঙ্গে বদলেছে খাদ্যাভ্যাস। এখন শহুরে জীবন, জিম কালচার, ডায়েট প্ল্যান সবকিছুর কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে ডিম, বিশেষ করে সিদ্ধ ডিম। ফিটনেস সচেতন মানুষদের জন্য সিদ্ধ ডিম একটি আদর্শ খাবার, কারণ- এতে ক্যালোরি কম কিন্তু পুষ্টি বেশি, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, সহজে প্রস্তুত করা যায়।
এছাড়া কিটো ডায়েট, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কিংবা হাই-প্রোটিন ডায়েট সব ক্ষেত্রেই সিদ্ধ ডিম একটি জনপ্রিয় পছন্দ। অনেকেই সকালে দুইটি ডিম দিয়ে দিন শুরু করেন, আবার কেউ ব্যায়ামের পরে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এটি খেয়ে থাকেন।
ডিমের কুসুম নিয়ে ভুল ধারণা
অনেকেই মনে করেন, ডিমের কুসুম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে। তাই তারা শুধু সাদা অংশ খেতে চান। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে কুসুম খাওয়া তেমন ক্ষতিকর নয়। বরং কুসুমেই রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, কোলিন। অর্থাৎ, কুসুম বাদ দিলে আপনি ডিমের একটি বড় অংশের পুষ্টিগুণ হারাচ্ছেন।
একই সিদ্ধ ডিম, একদিকে নি¤œআয়ের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির উৎস, অন্যদিকে উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্তের কাছে এটি ‘হেলদি লাইফস্টাইল’ এর প্রতীক। এই বৈপরীত্য আমাদের সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। আমরা অনেক সময় খাবারের মূল্য বিচার করি তার দামের ভিত্তিতে, পুষ্টিগুণের ভিত্তিতে নয়। সত্যি বলতে, ডিম এমন একটি খাবার যা শ্রেণিভেদ ভুলিয়ে দিতে পারে। কারণ এর পুষ্টিগুণ সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর।
সিদ্ধ ডিমকে আমরা যতটা সাধারণ ভাবি, বাস্তবে এটি ততটাই অসাধারণ। এটি শুধু একটি খাবার নয়, বরং পুষ্টি, অর্থনীতি এবং সামাজিক বাস্তবতার এক অনন্য মিশ্রণ। তাই পরেরবার যখন প্লেটে একটি সিদ্ধ ডিম দেখবেন, তখন হয়তো ভাববেন, এটি কি শুধু ‘গরিবের প্রোটিন’, নাকি আপনার শরীরের জন্য এক নিঃশব্দ সুপারফুড? সম্ভবত উত্তরটা, দুটোই। তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন, ওয়েব এমডি

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

সিদ্ধ ডিম, গরিবের প্রোটিন না স্মার্ট লাইফস্টাইলের সুপারফুড?

আপডেট সময় ০৯:৪১:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

সকালের নাস্তার টেবিলে একপাশে রাখা একটি সাদামাটা সিদ্ধ ডিম, এ যেন বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত খাবারগুলোর একটি। কারও কাছে এটি ভাতের সঙ্গে সহজ এক সাইড আইটেম, আবার কারও কাছে জিম-ডায়েটের অপরিহার্য অংশ। প্রশ্নটা তাই স্বাভাবিক সিদ্ধ ডিম কি শুধু ‘গরিবের প্রোটিন’, নাকি আধুনিক স্মার্ট লাইফস্টাইলের এক গুরুত্বপূর্ণ সুপারফুড?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের তাকাতে হবে ডিমের পুষ্টিগুণ, সামাজিক বাস্তবতা এবং বর্তমান খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের দিকে। চলুন জেনে নেই এর বিস্তারিত-
সিদ্ধ ডিমের পুষ্টিগুণ
সিদ্ধ ডিমকে অবহেলা করার সুযোগ খুব কম। একটি মাঝারি আকারের ডিমে থাকে প্রায় ৬-৭ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন, যা শরীরের পেশি গঠন, টিস্যু মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু প্রোটিনই নয়, ডিমে রয়েছে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, সেলেনিয়াম, কোলিন (মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত জরুরি)। এই পুষ্টিগুণগুলো একসঙ্গে খুব কম খাবারেই পাওয়া যায়। তাই পুষ্টিবিদরা ডিমকে ‘কমপ্লিট ফুড’ বা প্রায় পূর্ণাঙ্গ খাবার বলেই উল্লেখ করেন।
গরিবের প্রোটিন-এই ট্যাগ কোথা থেকে এলো?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ডিম দীর্ঘদিন ধরেই একটি সাশ্রয়ী প্রোটিনের উৎস। যেখানে মাংস বা মাছ প্রতিদিন সবার নাগালে থাকে না, সেখানে একটি সিদ্ধ ডিম অনেক পরিবারের জন্য সহজলভ্য পুষ্টির ভরসা। গ্রামের স্কুলপড়ুয়া শিশু থেকে শুরু করে শহরের নি¤œআয়ের পরিবার, ডিম তাদের খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এই বাস্তবতা থেকেই ‘গরিবের প্রোটিন’ তকমাটি এসেছে। তবে এই ট্যাগের ভেতরে একধরনের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও কাজ করে, যেখানে সস্তা মানেই কম মূল্যবান বলে ভাবা হয়। অথচ বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।
সুপারফুড হিসেবে সিদ্ধ ডিমের উত্থান
সময়ের সঙ্গে বদলেছে খাদ্যাভ্যাস। এখন শহুরে জীবন, জিম কালচার, ডায়েট প্ল্যান সবকিছুর কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে ডিম, বিশেষ করে সিদ্ধ ডিম। ফিটনেস সচেতন মানুষদের জন্য সিদ্ধ ডিম একটি আদর্শ খাবার, কারণ- এতে ক্যালোরি কম কিন্তু পুষ্টি বেশি, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, সহজে প্রস্তুত করা যায়।
এছাড়া কিটো ডায়েট, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কিংবা হাই-প্রোটিন ডায়েট সব ক্ষেত্রেই সিদ্ধ ডিম একটি জনপ্রিয় পছন্দ। অনেকেই সকালে দুইটি ডিম দিয়ে দিন শুরু করেন, আবার কেউ ব্যায়ামের পরে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এটি খেয়ে থাকেন।
ডিমের কুসুম নিয়ে ভুল ধারণা
অনেকেই মনে করেন, ডিমের কুসুম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে। তাই তারা শুধু সাদা অংশ খেতে চান। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে কুসুম খাওয়া তেমন ক্ষতিকর নয়। বরং কুসুমেই রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, কোলিন। অর্থাৎ, কুসুম বাদ দিলে আপনি ডিমের একটি বড় অংশের পুষ্টিগুণ হারাচ্ছেন।
একই সিদ্ধ ডিম, একদিকে নি¤œআয়ের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির উৎস, অন্যদিকে উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্তের কাছে এটি ‘হেলদি লাইফস্টাইল’ এর প্রতীক। এই বৈপরীত্য আমাদের সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। আমরা অনেক সময় খাবারের মূল্য বিচার করি তার দামের ভিত্তিতে, পুষ্টিগুণের ভিত্তিতে নয়। সত্যি বলতে, ডিম এমন একটি খাবার যা শ্রেণিভেদ ভুলিয়ে দিতে পারে। কারণ এর পুষ্টিগুণ সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর।
সিদ্ধ ডিমকে আমরা যতটা সাধারণ ভাবি, বাস্তবে এটি ততটাই অসাধারণ। এটি শুধু একটি খাবার নয়, বরং পুষ্টি, অর্থনীতি এবং সামাজিক বাস্তবতার এক অনন্য মিশ্রণ। তাই পরেরবার যখন প্লেটে একটি সিদ্ধ ডিম দেখবেন, তখন হয়তো ভাববেন, এটি কি শুধু ‘গরিবের প্রোটিন’, নাকি আপনার শরীরের জন্য এক নিঃশব্দ সুপারফুড? সম্ভবত উত্তরটা, দুটোই। তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন, ওয়েব এমডি