ঢাকা ০৩:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর Logo গজারিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে এসএসসির বৃত্তির ফলাফলে হা-মীমের শিক্ষার্থীদের চমক Logo ক্যান্সার সচেতনতামূলক সংলাপ ও পথশিশুদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo উপকুলের লবনাক্ত আবহাওয়া মাটিতে সাবেক ব্যাংকার জিয়াউদ্দিনের মাল্টা চাষে সফলতা Logo টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজে নতুন এডহক কমিটি, সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ Logo শিবগঞ্জে ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা Logo লোহাগাড়ায় ১০০ মিটারের মধ্যে ৯টি অবৈধ করাতকল গিলে খাচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল Logo চৌদ্দগ্রামে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার Logo জামালপুরে ৫ম উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর মহা তাবু জলসা ও সমাপনী

আপেলের বীজ খেলে কি সত্যিই বিষক্রিয়া হয়?

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ‘মায়াপাখি’ নামক একটি নাটকের গল্পে দেখা গেছে, আপেলের বীজ খেয়ে নায়িকার মৃত্যু হয়েছে। এই দৃশ্যের পর অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে-আসলেই কি আপেলের বীজ খেলে মৃত্যু বা বিষক্রিয়া হতে পারে? বিজ্ঞান কী বলে, কতটা সত্য এই ভয়-চলুন সহজভাবে জেনে নেওয়া যাক।
আপেলের বীজে আসলে কী থাকে?
আপেলের বীজে থাকে একটি প্রাকৃতিক রাসায়নিক যৌগ, যার নাম অ্যামিগডালিন। এটি এমন একটি যৌগ, যা অনেক ফলের বীজে পাওয়া যায়। যেমন- আপেল, চেরি, এপ্রিকট, পিচ। এই অ্যামিগডালিন নিজে সরাসরি বিষ নয়, কিন্তু এটি শরীরে হজম হওয়ার সময় ভেঙে গিয়ে হাইড্রোজেন সায়ানাইড তৈরি করতে পারে, যা একটি অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক।
তাহলে কি আপেলের বীজ খাওয়া বিপজ্জনক?
এখানেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো পরিমাণ এবং অবস্থার ওপর ঝুঁকি নির্ভর করে। অল্প কয়েকটি বীজ খেলে সাধারণত কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ বীজের শক্ত খোসা হজম হতে দেয় না। ফলে বিষ তৈরি হওয়ার আগেই বীজ শরীর থেকে বের হয়ে যায়। তবে চিবিয়ে বা ভেঙে খেলে তখন অ্যামিগডালিন বের হয়ে যায়। এতে করে শরীরে সায়ানাইড তৈরি হতে পারে। কিন্তু তবুও অল্প পরিমাণে ক্ষতি হয় না।
কতটা খেলে বিপদ হতে পারে?
গবেষণায় দেখা গেছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য বিপজ্জনক মাত্রায় যেতে হলে প্রায় ১৫০ থেকে কয়েক হাজার চিবানো বীজ খেতে হতে পারে বা প্রায় ২০-৪০টি আপেলের বীজ একসাথে গুঁড়ো করে খেতে হতে পারে। একটি আপেলে সাধারণত মাত্র ৫–৮টি বীজ থাকে। অর্থাৎ বাস্তবে আপেল খেতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত বিষক্রিয়া হওয়া প্রায় অসম্ভব।
সায়ানাইড কীভাবে শরীরকে ক্ষতি করে?
যদি বেশি পরিমাণে সায়ানাইড শরীরে প্রবেশ করে, তাহলে এটি শরীরের কোষে অক্সিজেন ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। ফলে শরীর ‘অভ্যন্তরীণ শ্বাসরোধ’ অবস্থায় পড়ে।
এতে মাথা ঘোরা, বমি, শ্বাসকষ্ট, এমনকি মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু এই পরিস্থিতি তৈরি হতে হলে খুব বড় পরিমাণ বিষ দরকার, যা আপেলের বীজ থেকে স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় না।
তাহলে আপেল খাওয়া কি নিরাপদ?
হ্যাঁ, একদম নিরাপদ। আপেল ফাইবারে সমৃদ্ধ, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
আপেলের বীজ খেলে কি সত্যিই বিষক্রিয়া হয়?
সতর্কতা
বীজ ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি না খাওয়াই ভালো
ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বীজ আলাদা করে দেওয়া ভালো
আপেলের বীজে বিষাক্ত যৌগ থাকে, এটা সত্য। কিন্তু পরিমাণ কম হলে কোনো বাস্তব ঝুঁকি নেই। সাধারণভাবে আপেল খাওয়ার সময় অল্প কয়েকটি বীজ চলে গেলেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অতএব আপেল খাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন, মেডিক্যাল নিউড ‍টুডে

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর

আপেলের বীজ খেলে কি সত্যিই বিষক্রিয়া হয়?

আপডেট সময় ০৭:৩৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ‘মায়াপাখি’ নামক একটি নাটকের গল্পে দেখা গেছে, আপেলের বীজ খেয়ে নায়িকার মৃত্যু হয়েছে। এই দৃশ্যের পর অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে-আসলেই কি আপেলের বীজ খেলে মৃত্যু বা বিষক্রিয়া হতে পারে? বিজ্ঞান কী বলে, কতটা সত্য এই ভয়-চলুন সহজভাবে জেনে নেওয়া যাক।
আপেলের বীজে আসলে কী থাকে?
আপেলের বীজে থাকে একটি প্রাকৃতিক রাসায়নিক যৌগ, যার নাম অ্যামিগডালিন। এটি এমন একটি যৌগ, যা অনেক ফলের বীজে পাওয়া যায়। যেমন- আপেল, চেরি, এপ্রিকট, পিচ। এই অ্যামিগডালিন নিজে সরাসরি বিষ নয়, কিন্তু এটি শরীরে হজম হওয়ার সময় ভেঙে গিয়ে হাইড্রোজেন সায়ানাইড তৈরি করতে পারে, যা একটি অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক।
তাহলে কি আপেলের বীজ খাওয়া বিপজ্জনক?
এখানেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো পরিমাণ এবং অবস্থার ওপর ঝুঁকি নির্ভর করে। অল্প কয়েকটি বীজ খেলে সাধারণত কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ বীজের শক্ত খোসা হজম হতে দেয় না। ফলে বিষ তৈরি হওয়ার আগেই বীজ শরীর থেকে বের হয়ে যায়। তবে চিবিয়ে বা ভেঙে খেলে তখন অ্যামিগডালিন বের হয়ে যায়। এতে করে শরীরে সায়ানাইড তৈরি হতে পারে। কিন্তু তবুও অল্প পরিমাণে ক্ষতি হয় না।
কতটা খেলে বিপদ হতে পারে?
গবেষণায় দেখা গেছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য বিপজ্জনক মাত্রায় যেতে হলে প্রায় ১৫০ থেকে কয়েক হাজার চিবানো বীজ খেতে হতে পারে বা প্রায় ২০-৪০টি আপেলের বীজ একসাথে গুঁড়ো করে খেতে হতে পারে। একটি আপেলে সাধারণত মাত্র ৫–৮টি বীজ থাকে। অর্থাৎ বাস্তবে আপেল খেতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত বিষক্রিয়া হওয়া প্রায় অসম্ভব।
সায়ানাইড কীভাবে শরীরকে ক্ষতি করে?
যদি বেশি পরিমাণে সায়ানাইড শরীরে প্রবেশ করে, তাহলে এটি শরীরের কোষে অক্সিজেন ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। ফলে শরীর ‘অভ্যন্তরীণ শ্বাসরোধ’ অবস্থায় পড়ে।
এতে মাথা ঘোরা, বমি, শ্বাসকষ্ট, এমনকি মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু এই পরিস্থিতি তৈরি হতে হলে খুব বড় পরিমাণ বিষ দরকার, যা আপেলের বীজ থেকে স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় না।
তাহলে আপেল খাওয়া কি নিরাপদ?
হ্যাঁ, একদম নিরাপদ। আপেল ফাইবারে সমৃদ্ধ, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
আপেলের বীজ খেলে কি সত্যিই বিষক্রিয়া হয়?
সতর্কতা
বীজ ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি না খাওয়াই ভালো
ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বীজ আলাদা করে দেওয়া ভালো
আপেলের বীজে বিষাক্ত যৌগ থাকে, এটা সত্য। কিন্তু পরিমাণ কম হলে কোনো বাস্তব ঝুঁকি নেই। সাধারণভাবে আপেল খাওয়ার সময় অল্প কয়েকটি বীজ চলে গেলেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অতএব আপেল খাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন, মেডিক্যাল নিউড ‍টুডে