ঢাকা ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

বর্ষাকালে যেসব ঘরোয়া উপাদান ত্বকে লাগানো বিপজ্জনক

অনেকে প্রসাধনী এড়িয়ে অনেকেই এখন ঘরোয়া রূপচর্চায় করছেন। ইন্টারনেট কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা নানা পদ্ধতি দেখে কেউ লেবু ব্যবহার করেন, কেউ কফি বা চিনির স্ক্রাব ব্যবহার করছেন, আবার কেউ ব্রণ কমাতে টুথপেস্ট লাগাচ্ছেন। অনেকেই মনে করেন, প্রাকৃতিক উপাদান মানেই নিরাপদ। কিন্তু ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা সব সময় সঠিক নয়।
প্রত্যেক মানুষের ত্বকের ধরন আলাদা। কারো জন্য উপকারী হলেও অনেকের ত্বকে অ্যালার্জি, প্রদাহ, দাগ বা এমনকি রাসায়নিক পোড়ার মতো সমস্যাও তৈরি করতে পারে। তাই ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার আগে কোন উপাদান কতটা নিরাপদ, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
লেবুর রস দিয়ে স্ক্রাব করা
অনেকেই ত্বক উজ্জ্বল করার আশায় সরাসরি লেবুর রস মুখে ব্যবহার করেন। কিন্তু লেবুতে থাকা উচ্চমাত্রার সাইট্রিক অ্যাসিড ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবু ব্যবহার করার পর রোদে বের হলে ত্বক অতিবেগুনি রশ্মির প্রতি আরও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এর ফলে ত্বকে পোড়া দাগ, কালচে ছোপ বা পোস্ট-ইনফ্ল্যামেটরি হাইপারপিগমেন্টেশন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে লেবুর রস প্রদাহও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ব্রণের ওপর টুথপেস্ট লাগানো
বহু বছর ধরেই একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে- টুথপেস্ট লাগালে ব্রণ শুকিয়ে যায়। বাস্তবে এটি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। টুথপেস্টে থাকা মেন্থল, অ্যালকোহল এবং হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড সাময়িকভাবে ব্রণ শুকিয়ে দিলেও ত্বকে জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত শুষ্কতা এবং প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থাও দুর্বল করে দেয়।
বেকিং সোডা দিয়ে এক্সফোলিয়েশন
বেকিং সোডা দিয়ে স্ক্রাব করার প্রবণতাও এখন বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বেকিং সোডার ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্য ত্বকের স্বাভাবিক অম্লীয় পরিবেশ নষ্ট করে দেয়। ফলে ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা হারায়, শুষ্ক হয়ে যায় এবং ব্রণ বা র‌্যাশের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত ব্যবহারে ত্বকে অ্যালার্জি ও জ্বালাভাবও দেখা দিতে পারে।
ব্রণের ওপর কাঁচা রসুন ব্যবহার করা
রসুনে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকলেও কাঁচা রসুন সরাসরি ত্বকে লাগানো নিরাপদ নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঁচা রসুনের তীব্র রাসায়নিক উপাদান ত্বকে পোড়ার মতো ক্ষতি করতে পারে। ব্রণ বা ফুসকুড়ির ওপর এটি ব্যবহার করলে প্রদাহ আরও বাড়তে পারে এবং ফোস্কা কিংবা অ্যালার্জির ঝুঁকিও তৈরি হয়।
ঘরে তৈরি সানস্ক্রিন
বর্তমানে নারিকেল তেল, অ্যালোভেরা বা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঘরে সানস্ক্রিন তৈরির ভিডিও ব্যাপক জনপ্রিয়। কিন্তু ত্বক বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
তাদের মতে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত সানস্ক্রিন প্রয়োজন। ঘরে তৈরি মিশ্রণ সেই সুরক্ষা দিতে পারে না। বরং এতে রোদে ত্বক বেশি পুড়ে যেতে পারে এবং পিগমেন্টেশন, বলিরেখা ও অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি বাড়ে।
কফি বা চিনির স্ক্রাব ব্যবহার করা
সোশ্যাল মিডিয়ায় কফি ও চিনির স্ক্রাবের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। অনেকেই মনে করেন, এটি ত্বক উজ্জ্বল করে।তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কফির দানা বা চিনির কণিকা তুলনামূলকভাবে শক্ত হওয়ায় এগুলো মুখে ঘষলে ত্বকের ওপর সূক্ষ্ম ক্ষত তৈরি হতে পারে। এতে ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে।
আপেল সিডার ভিনেগার সরাসরি ব্যবহার না করা
অনেকে টোনার হিসেবে আপেল সিডার ভিনেগার সরাসরি মুখে লাগান। এটি বড় ভুল হতে পারে। ভিনেগারে থাকা অ্যাসিড ত্বকের ওপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি ছাড়া সরাসরি এটি ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা এবং অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে।
ডিমের সাদা অংশ দিয়ে ফেস মাস্ক বানানো এখন বেশ পরিচিত একটি ট্রেন্ড। তবে চিকিৎসকদের মতে, কাঁচা ডিমে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।
মুখে যদি কোনো ক্ষত, কাটা দাগ বা ব্রণ থাকে, তাহলে এই ব্যাকটেরিয়া সহজেই সংক্রমণ ঘটাতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে আর্দ্র আবহাওয়ায় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
ঘরোয়া উপাদান মানেই যে তা সবার ত্বকের জন্য নিরাপদ হবে, এমন নয়। তাই কোনো নতুন উপাদান ব্যবহার করার আগে হাতে বা কানের পেছনে প্যাচ টেস্ট করা উচিত। ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সূত্র: হেলথলাইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

বর্ষাকালে যেসব ঘরোয়া উপাদান ত্বকে লাগানো বিপজ্জনক

আপডেট সময় ০৯:৩০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

অনেকে প্রসাধনী এড়িয়ে অনেকেই এখন ঘরোয়া রূপচর্চায় করছেন। ইন্টারনেট কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা নানা পদ্ধতি দেখে কেউ লেবু ব্যবহার করেন, কেউ কফি বা চিনির স্ক্রাব ব্যবহার করছেন, আবার কেউ ব্রণ কমাতে টুথপেস্ট লাগাচ্ছেন। অনেকেই মনে করেন, প্রাকৃতিক উপাদান মানেই নিরাপদ। কিন্তু ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা সব সময় সঠিক নয়।
প্রত্যেক মানুষের ত্বকের ধরন আলাদা। কারো জন্য উপকারী হলেও অনেকের ত্বকে অ্যালার্জি, প্রদাহ, দাগ বা এমনকি রাসায়নিক পোড়ার মতো সমস্যাও তৈরি করতে পারে। তাই ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার আগে কোন উপাদান কতটা নিরাপদ, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
লেবুর রস দিয়ে স্ক্রাব করা
অনেকেই ত্বক উজ্জ্বল করার আশায় সরাসরি লেবুর রস মুখে ব্যবহার করেন। কিন্তু লেবুতে থাকা উচ্চমাত্রার সাইট্রিক অ্যাসিড ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবু ব্যবহার করার পর রোদে বের হলে ত্বক অতিবেগুনি রশ্মির প্রতি আরও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এর ফলে ত্বকে পোড়া দাগ, কালচে ছোপ বা পোস্ট-ইনফ্ল্যামেটরি হাইপারপিগমেন্টেশন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে লেবুর রস প্রদাহও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ব্রণের ওপর টুথপেস্ট লাগানো
বহু বছর ধরেই একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে- টুথপেস্ট লাগালে ব্রণ শুকিয়ে যায়। বাস্তবে এটি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। টুথপেস্টে থাকা মেন্থল, অ্যালকোহল এবং হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড সাময়িকভাবে ব্রণ শুকিয়ে দিলেও ত্বকে জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত শুষ্কতা এবং প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থাও দুর্বল করে দেয়।
বেকিং সোডা দিয়ে এক্সফোলিয়েশন
বেকিং সোডা দিয়ে স্ক্রাব করার প্রবণতাও এখন বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বেকিং সোডার ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্য ত্বকের স্বাভাবিক অম্লীয় পরিবেশ নষ্ট করে দেয়। ফলে ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা হারায়, শুষ্ক হয়ে যায় এবং ব্রণ বা র‌্যাশের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত ব্যবহারে ত্বকে অ্যালার্জি ও জ্বালাভাবও দেখা দিতে পারে।
ব্রণের ওপর কাঁচা রসুন ব্যবহার করা
রসুনে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকলেও কাঁচা রসুন সরাসরি ত্বকে লাগানো নিরাপদ নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঁচা রসুনের তীব্র রাসায়নিক উপাদান ত্বকে পোড়ার মতো ক্ষতি করতে পারে। ব্রণ বা ফুসকুড়ির ওপর এটি ব্যবহার করলে প্রদাহ আরও বাড়তে পারে এবং ফোস্কা কিংবা অ্যালার্জির ঝুঁকিও তৈরি হয়।
ঘরে তৈরি সানস্ক্রিন
বর্তমানে নারিকেল তেল, অ্যালোভেরা বা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঘরে সানস্ক্রিন তৈরির ভিডিও ব্যাপক জনপ্রিয়। কিন্তু ত্বক বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
তাদের মতে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত সানস্ক্রিন প্রয়োজন। ঘরে তৈরি মিশ্রণ সেই সুরক্ষা দিতে পারে না। বরং এতে রোদে ত্বক বেশি পুড়ে যেতে পারে এবং পিগমেন্টেশন, বলিরেখা ও অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি বাড়ে।
কফি বা চিনির স্ক্রাব ব্যবহার করা
সোশ্যাল মিডিয়ায় কফি ও চিনির স্ক্রাবের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। অনেকেই মনে করেন, এটি ত্বক উজ্জ্বল করে।তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কফির দানা বা চিনির কণিকা তুলনামূলকভাবে শক্ত হওয়ায় এগুলো মুখে ঘষলে ত্বকের ওপর সূক্ষ্ম ক্ষত তৈরি হতে পারে। এতে ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে।
আপেল সিডার ভিনেগার সরাসরি ব্যবহার না করা
অনেকে টোনার হিসেবে আপেল সিডার ভিনেগার সরাসরি মুখে লাগান। এটি বড় ভুল হতে পারে। ভিনেগারে থাকা অ্যাসিড ত্বকের ওপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি ছাড়া সরাসরি এটি ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা এবং অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে।
ডিমের সাদা অংশ দিয়ে ফেস মাস্ক বানানো এখন বেশ পরিচিত একটি ট্রেন্ড। তবে চিকিৎসকদের মতে, কাঁচা ডিমে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।
মুখে যদি কোনো ক্ষত, কাটা দাগ বা ব্রণ থাকে, তাহলে এই ব্যাকটেরিয়া সহজেই সংক্রমণ ঘটাতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে আর্দ্র আবহাওয়ায় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
ঘরোয়া উপাদান মানেই যে তা সবার ত্বকের জন্য নিরাপদ হবে, এমন নয়। তাই কোনো নতুন উপাদান ব্যবহার করার আগে হাতে বা কানের পেছনে প্যাচ টেস্ট করা উচিত। ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সূত্র: হেলথলাইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া