ঢাকা ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

আপনি কি ‘স্লিপ শেমিং’-এর শিকার

সকাল হতেই ঘরের জানলার পর্দা সরিয়ে দেওয়া, গরমেও ফ্যান বন্ধ করে দেওয়া কিংবা ছুটির দিনেও সন্তানকে জোর করে বিছানা থেকে তুলে দেওয়া যেন আমাদের সমাজে খুবই পরিচিত। অনেক বাবা-মা বিশ্বাস করেন, যে শিশু বা তরুণ ভোরে ওঠে, সে-ই ভবিষ্যতে বেশি সফল হবে। আর যারা একটু বেলা পর্যন্ত ঘুমায়, তাদের অলস বা দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করা হয়। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই ধারণা সব সময় সঠিক নয়।
বরং চিকিৎসকদের মতে, কাউকে তার ঘুমের সময় বা অভ্যাস নিয়ে লজ্জা দেওয়া, কটূক্তি করা বা অপরাধবোধে ভোগানো এখন একটি বড় মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। এই প্রবণতাকেই বলা হচ্ছে ‘স্লিপ শেমিং’।
ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়, শরীরের মৌলিক প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে অনেকেই কম ঘুমকে পরিশ্রম, কর্মনিষ্ঠা বা সফলতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। অন্যদিকে পর্যাপ্ত ঘুমকে অলসতা বলে মনে করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের সময়ই শরীর নিজেকে মেরামত করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়, মস্তিষ্ক দিনের তথ্য গুছিয়ে নেয় এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এমনকি ডিমেনশিয়ার মতো জটিল রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ভোরে ওঠাই কি সফলতার চাবিকাঠি?
বহুদিন ধরেই একটি ধারণা প্রচলিত-যারা খুব ভোরে ওঠেন, তারাই বেশি সফল। কিন্তু বিজ্ঞান এই ধারণাকে একপেশে বলে মনে করে।
প্রত্যেক মানুষের শরীরে একটি জৈবিক ঘড়ি বা ক্রোনোটাইপ কাজ করে। এটি মূলত জিন, বয়স, হরমোন এবং জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে। তাই কেউ স্বাভাবিকভাবেই ভোরে বেশি সক্রিয় থাকেন, আবার কেউ রাতে বেশি মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারেন।
বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের শরীরে হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় রাতে দেরিতে ঘুম আসে এবং সকালে একটু দেরিতে ঘুম ভাঙে। এটি অলসতার লক্ষণ নয়, বরং স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য।
মাঝপথে ঘুম ভাঙানো কেন ক্ষতিকর?
অনেকেই মনে করেন, ঘুম ভাঙিয়ে দিলে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, মানুষের ঘুম প্রায় ৯০ মিনিটের বিভিন্ন চক্রে সম্পন্ন হয়। প্রতিটি চক্রে মস্তিষ্ক ও শরীরের আলাদা আলাদা পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলে। গভীর ঘুমের মাঝপথে জোর করে কাউকে জাগিয়ে দিলে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ভার লাগা, ঝিমুনি, মনোযোগ কমে যাওয়া, বিরক্তি কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া এবং মানসিক চাপ বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
‘স্লিপ শেমিং’ কেন বন্ধ করা জরুরি?
চিকিৎসকদের মতে, কারো ঘুমের অভ্যাস নিয়ে বারবার মন্তব্য করা বা তাকে অলস বলে সমালোচনা করা মানসিকভাবে ক্ষতিকর। এতে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুমাতে শুরু করেন, শুধু অন্যের চোখে ‘পরিশ্রমী’ প্রমাণ হওয়ার জন্য। কিন্তু শরীরের প্রয়োজন উপেক্ষা করলে তার নেতিবাচক প্রভাব ধীরে ধীরে জমতে থাকে। তাই অন্যের ঘুমের সময় নিয়ে বিচার না করে বরং তিনি পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম পাচ্ছেন কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে ও জাগতে চেষ্টা করুন।
ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির ব্যবহার কমান।
বিকেলের পর অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন।
ঘুমের পরিবেশ শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখুন।
অন্যের ঘুমের সময় নিয়ে মন্তব্য না করে নিজের শরীরের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিন। পর্যাপ্ত ঘুম কোনো অলসতার পরিচয় নয়; বরং সুস্থ শরীর, সতেজ মন এবং দীর্ঘমেয়াদি ভালো স্বাস্থ্যের অন্যতম ভিত্তি।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, স্লিপ ক্যান্টি

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

আপনি কি ‘স্লিপ শেমিং’-এর শিকার

আপডেট সময় ১২:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সকাল হতেই ঘরের জানলার পর্দা সরিয়ে দেওয়া, গরমেও ফ্যান বন্ধ করে দেওয়া কিংবা ছুটির দিনেও সন্তানকে জোর করে বিছানা থেকে তুলে দেওয়া যেন আমাদের সমাজে খুবই পরিচিত। অনেক বাবা-মা বিশ্বাস করেন, যে শিশু বা তরুণ ভোরে ওঠে, সে-ই ভবিষ্যতে বেশি সফল হবে। আর যারা একটু বেলা পর্যন্ত ঘুমায়, তাদের অলস বা দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করা হয়। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই ধারণা সব সময় সঠিক নয়।
বরং চিকিৎসকদের মতে, কাউকে তার ঘুমের সময় বা অভ্যাস নিয়ে লজ্জা দেওয়া, কটূক্তি করা বা অপরাধবোধে ভোগানো এখন একটি বড় মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। এই প্রবণতাকেই বলা হচ্ছে ‘স্লিপ শেমিং’।
ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়, শরীরের মৌলিক প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে অনেকেই কম ঘুমকে পরিশ্রম, কর্মনিষ্ঠা বা সফলতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। অন্যদিকে পর্যাপ্ত ঘুমকে অলসতা বলে মনে করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের সময়ই শরীর নিজেকে মেরামত করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়, মস্তিষ্ক দিনের তথ্য গুছিয়ে নেয় এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এমনকি ডিমেনশিয়ার মতো জটিল রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ভোরে ওঠাই কি সফলতার চাবিকাঠি?
বহুদিন ধরেই একটি ধারণা প্রচলিত-যারা খুব ভোরে ওঠেন, তারাই বেশি সফল। কিন্তু বিজ্ঞান এই ধারণাকে একপেশে বলে মনে করে।
প্রত্যেক মানুষের শরীরে একটি জৈবিক ঘড়ি বা ক্রোনোটাইপ কাজ করে। এটি মূলত জিন, বয়স, হরমোন এবং জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে। তাই কেউ স্বাভাবিকভাবেই ভোরে বেশি সক্রিয় থাকেন, আবার কেউ রাতে বেশি মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারেন।
বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের শরীরে হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় রাতে দেরিতে ঘুম আসে এবং সকালে একটু দেরিতে ঘুম ভাঙে। এটি অলসতার লক্ষণ নয়, বরং স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য।
মাঝপথে ঘুম ভাঙানো কেন ক্ষতিকর?
অনেকেই মনে করেন, ঘুম ভাঙিয়ে দিলে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, মানুষের ঘুম প্রায় ৯০ মিনিটের বিভিন্ন চক্রে সম্পন্ন হয়। প্রতিটি চক্রে মস্তিষ্ক ও শরীরের আলাদা আলাদা পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলে। গভীর ঘুমের মাঝপথে জোর করে কাউকে জাগিয়ে দিলে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ভার লাগা, ঝিমুনি, মনোযোগ কমে যাওয়া, বিরক্তি কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া এবং মানসিক চাপ বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
‘স্লিপ শেমিং’ কেন বন্ধ করা জরুরি?
চিকিৎসকদের মতে, কারো ঘুমের অভ্যাস নিয়ে বারবার মন্তব্য করা বা তাকে অলস বলে সমালোচনা করা মানসিকভাবে ক্ষতিকর। এতে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুমাতে শুরু করেন, শুধু অন্যের চোখে ‘পরিশ্রমী’ প্রমাণ হওয়ার জন্য। কিন্তু শরীরের প্রয়োজন উপেক্ষা করলে তার নেতিবাচক প্রভাব ধীরে ধীরে জমতে থাকে। তাই অন্যের ঘুমের সময় নিয়ে বিচার না করে বরং তিনি পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম পাচ্ছেন কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে ও জাগতে চেষ্টা করুন।
ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির ব্যবহার কমান।
বিকেলের পর অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন।
ঘুমের পরিবেশ শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখুন।
অন্যের ঘুমের সময় নিয়ে মন্তব্য না করে নিজের শরীরের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিন। পর্যাপ্ত ঘুম কোনো অলসতার পরিচয় নয়; বরং সুস্থ শরীর, সতেজ মন এবং দীর্ঘমেয়াদি ভালো স্বাস্থ্যের অন্যতম ভিত্তি।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, স্লিপ ক্যান্টি