ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন Logo কালিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন Logo দুর্গাপুরে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত Logo গলাচিপায় (সি-পি-পি) স্বেচ্ছা সেবক দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ Logo উখিয়ায় নলকূপের পাইপ দিয়ে গ্যাস নির্গমনের আগুন জ্বলবে আরো ১ সপ্তাহ, ২০০ মিটারের বাসিন্দাদের সরানোর পরামর্শ বাপেক্সের Logo কালীগঞ্জে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: লুট হওয়া বৈদ্যুতিক সামগ্রী উদ্ধার, গ্রেফতার ২ Logo স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনা সদস্য সফিকুল ইসলাম Logo ফুলতলায় বরণপাড়া বায়োগ্যাস পল্লী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি Logo টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য মিছিল Logo মধুপুরের বংশাই নদী জোর কদমে চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ

এআই কি সিজোফ্রেনিয়ার মতো মানসিক সমস্যা শনাক্ত করতে পারে?

  • আইটি ডেস্ক:
  • আপডেট সময় ০৬:৪১:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • 103

এআই এখন থিসিস থেকে রেসিপি চিকিৎসা থেকে কনটেন্ট বানানো-প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যবহারকারীরা তাদের নানান শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে দ্বারস্ত হচ্ছে এআই-এর। এমনকি স্বাস্থ্য খাতে, রোগ নির্ণয় এমনকি অস্ত্রোপচারেও এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে।
মানসিক রোগ বিশেষ করে সিজোফ্রেনিয়া, ডিপ্রেশন, বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও সাইকোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তে এআই কতটা কার্যকর হতে পারে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমানে কোনো এআই বা স্মার্টফোন অ্যাপ একাই সিজোফ্রেনিয়া নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারে না।
সিজোফ্রেনিয়া একটি জটিল মানসিক রোগ, যেখানে মানুষের চিন্তাভাবনা, আচরণ, অনুভূতি এবং বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতা প্রভাবিত হয়। রোগটি নির্ণয়ের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রোগীর উপসর্গ, চিকিৎসা ইতিহাস, আচরণ এবং বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন বিবেচনা করেন। এআই এই প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, এআই মানুষের কণ্ঠস্বর, শব্দচয়ন, বাক্যের গঠন, কথা বলার গতি এবং বিরতি বিশ্লেষণ করে মানসিক সমস্যার সম্ভাব্য ইঙ্গিত খুঁজতে পারে। আবার কিছু গবেষণায় স্মার্টফোনের সেন্সর ব্যবহার করে ঘুমের ধরণ, দৈনন্দিন চলাফেরা, ফোন ব্যবহারের অভ্যাস এবং সামাজিক যোগাযোগের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ডিজিটাল ফেনোটাইপিং। এর মাধ্যমে রোগের অবনতি বা পুনরায় উপসর্গ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি আগে থেকে অনুমান করার চেষ্টা করা হয়।
শুধু স্মার্টফোন নয়, এআই এখন এমআরআই ও ইইজি-এর মতো মস্তিষ্কের স্ক্যান বিশ্লেষণেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই এমন কিছু সূক্ষ্ম প্যাটার্ন শনাক্ত করতে পারে, যা মানুষের চোখে সহজে ধরা পড়ে না। তবে এসব প্রযুক্তি এখনো মূলত গবেষণা বা সীমিত ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।
তবে এই প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। একই ধরনের আচরণ বা ঘুমের পরিবর্তন বিভিন্ন কারণে হতে পারে। ফলে এআই ভুলভাবে ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারে, আবার প্রকৃত সমস্যাও কখনো শনাক্ত করতে ব্যর্থ হতে পারে। এছাড়া ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও আচরণগত তথ্য সংগ্রহের কারণে গোপনীয়তা ও ডাটা নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু (ডব্লিউএইচও) এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারবার বলছে, এআই মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় একটি সহায়ক প্রযুক্তি হতে পারে। এটি চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে, রোগীর অবস্থা বা লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করতে এবং ঝুঁকি মূল্যায়নে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রশিক্ষিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞেরই নেওয়া উচিত। এআইয়ের উপর ভরসা করা ঠিক হবে না।
যদিও ভবিষ্যতে এআই মানসিক রোগ শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এটি কোনো ম্যাজিক টুল নয়। বরং এআই-কে দেখা উচিত চিকিৎসকদের সহকারী হিসেবে, যা প্রাথমিক ঝুঁকি চিহ্নিত করে আরও দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসার পথ তৈরি করতে পারে। সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউড অব মেন্টাল হেলথ, সায়েন্স ডাইরেক্ট

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন

এআই কি সিজোফ্রেনিয়ার মতো মানসিক সমস্যা শনাক্ত করতে পারে?

আপডেট সময় ০৬:৪১:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

এআই এখন থিসিস থেকে রেসিপি চিকিৎসা থেকে কনটেন্ট বানানো-প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যবহারকারীরা তাদের নানান শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে দ্বারস্ত হচ্ছে এআই-এর। এমনকি স্বাস্থ্য খাতে, রোগ নির্ণয় এমনকি অস্ত্রোপচারেও এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে।
মানসিক রোগ বিশেষ করে সিজোফ্রেনিয়া, ডিপ্রেশন, বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও সাইকোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তে এআই কতটা কার্যকর হতে পারে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমানে কোনো এআই বা স্মার্টফোন অ্যাপ একাই সিজোফ্রেনিয়া নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারে না।
সিজোফ্রেনিয়া একটি জটিল মানসিক রোগ, যেখানে মানুষের চিন্তাভাবনা, আচরণ, অনুভূতি এবং বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতা প্রভাবিত হয়। রোগটি নির্ণয়ের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রোগীর উপসর্গ, চিকিৎসা ইতিহাস, আচরণ এবং বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন বিবেচনা করেন। এআই এই প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, এআই মানুষের কণ্ঠস্বর, শব্দচয়ন, বাক্যের গঠন, কথা বলার গতি এবং বিরতি বিশ্লেষণ করে মানসিক সমস্যার সম্ভাব্য ইঙ্গিত খুঁজতে পারে। আবার কিছু গবেষণায় স্মার্টফোনের সেন্সর ব্যবহার করে ঘুমের ধরণ, দৈনন্দিন চলাফেরা, ফোন ব্যবহারের অভ্যাস এবং সামাজিক যোগাযোগের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ডিজিটাল ফেনোটাইপিং। এর মাধ্যমে রোগের অবনতি বা পুনরায় উপসর্গ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি আগে থেকে অনুমান করার চেষ্টা করা হয়।
শুধু স্মার্টফোন নয়, এআই এখন এমআরআই ও ইইজি-এর মতো মস্তিষ্কের স্ক্যান বিশ্লেষণেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই এমন কিছু সূক্ষ্ম প্যাটার্ন শনাক্ত করতে পারে, যা মানুষের চোখে সহজে ধরা পড়ে না। তবে এসব প্রযুক্তি এখনো মূলত গবেষণা বা সীমিত ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।
তবে এই প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। একই ধরনের আচরণ বা ঘুমের পরিবর্তন বিভিন্ন কারণে হতে পারে। ফলে এআই ভুলভাবে ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারে, আবার প্রকৃত সমস্যাও কখনো শনাক্ত করতে ব্যর্থ হতে পারে। এছাড়া ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও আচরণগত তথ্য সংগ্রহের কারণে গোপনীয়তা ও ডাটা নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু (ডব্লিউএইচও) এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারবার বলছে, এআই মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় একটি সহায়ক প্রযুক্তি হতে পারে। এটি চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে, রোগীর অবস্থা বা লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করতে এবং ঝুঁকি মূল্যায়নে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রশিক্ষিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞেরই নেওয়া উচিত। এআইয়ের উপর ভরসা করা ঠিক হবে না।
যদিও ভবিষ্যতে এআই মানসিক রোগ শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এটি কোনো ম্যাজিক টুল নয়। বরং এআই-কে দেখা উচিত চিকিৎসকদের সহকারী হিসেবে, যা প্রাথমিক ঝুঁকি চিহ্নিত করে আরও দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসার পথ তৈরি করতে পারে। সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউড অব মেন্টাল হেলথ, সায়েন্স ডাইরেক্ট