ঢাকা ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি Logo কীট সংকটে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ Logo জাংগালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু মশা নিধন সম্পর্কে র‌্যালি ও আলোচনা Logo নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন করেন দুই হাইকোটের বিচারপতি Logo মনোহরগঞ্জে ২০ মাসেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ Logo ধনবাড়ীতে পুলিশের অভিযানে ৭৮ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার Logo পাঁচবিবিতে মাওড়িতলা ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, লাইট পোস্ট দাবি Logo স্পিকারের এপিএস সবুজকে ঘিরে অপপ্রচার, প্রতিবাদ Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় উপকুলবাসী পেল ইউবিইএসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চুড়ান্ত অনুমোদন Logo মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর নাঈম হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি, ৫ জন খালাস

স্টারলিংক বনাম সাবমেরিন ক্যাবল: ইন্টারনেটের সার্বভৌমত্ব

  • আইটি ডেস্ক:
  • আপডেট সময় ০৯:২১:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 6

বর্তমান বিশ্বে মহাকাশ ভিত্তিক স্টারলিংক স্যাটেলাইট এবং সাবমেরিন ক্যাবল উভয়ই ডাটা আদান-প্রদান, তথ্যের অবাধ চলাচল, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সাবমেরিন ক্যাবল অর্থাৎ সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করে পুরো বিশ্বে প্রায় ৯৯ শতাংশ ডাটা আদান-প্রদান হয়। এই পদ্ধতিতে অত্যন্ত কম খরচে ও অতি দ্রুত গতিতে ডাটা সরবরাহ করা যায়।
সাবমেরিন ক্যাবল গুলোর ল্যান্ডিং স্টেশনগুলো (সিএলএস) দেশের নির্দিষ্ট ভূখ-ের ভেতরে অবস্থিত থাকে। এর ফলে সরকার খুব সহজ পদ্ধতিতে এই ক্যাবলের মনিটরিং ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। এই ক্যাবল ব্যবস্থার একটি ঝুঁকি হলো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য কোনো আঘাতে ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারা দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থা পুরোপুরিভাবে অচল হয়ে যেতে পারে।
অপরদিকে স্পেসএক্স এর অধীনস্থ স্টারলিংক লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট ব্যবহার করে তারবিহীন মাধ্যমে সরাসরি ব্যবহারকারীর নিকট ইন্টারনেট পৌঁছায়। যেসব এলাকায় অপটিক্যাল ফাইবার পৌঁছানো সম্ভব নয়, সেসব প্রত্যন্ত পাহাড়ি, দ্বীপ বিশিষ্ট এলাকায় এই ইন্টারনেট ব্যবস্থা গ্রহণ করে খুব সহজেই সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়। এই পদ্ধতিতে সরাসরি মহাকাশ থেকে সিগন্যাল আদান-প্রদান হওয়ার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ এর বাইরে গিয়ে ডাটা আদান-প্রদানের ঝুঁকি রয়েছে। এটি দেশের তথ্যের নিয়ন্ত্রণকে হুমকির মুখে পর্যবসিত করে। এই কারণে বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি) বর্তমানে আইআইজি এর মাধ্যমে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তা বাধ্যতামূলক করেছে।
একটি দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা, নাগরিকদের ডাটার গোপনীয়তা এবং ইন্টারনেটের উপর কর্তৃপক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাকে ইন্টারনেটের সার্বভৌমত্ব বলে। কোনো কারণে ডাটা যদি বিদেশে চলে যায় তবে সরকারের পক্ষে তা পুনরুদ্ধার করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণœ হয়। এছাড়াও বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর নির্ভর করলে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
তাইওয়ানের মতো দ্বীপ-বিশিষ্ট রাষ্ট্র সর্বদাই শত্রু দেশ কর্তৃক ক্যাবল কেটে দিয়ে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবস্থায় ডাটার মালিকানা আমেরিকা থেকে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার ফলে যেকোনো আইনি প্রয়োজনে তারা সার্ভারে প্রবেশ করে। এর ফলে গোয়েন্দা বাহিনী দেশের যে কোনো গোপন তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, যার ফলে তথ্য ঝুঁকিতে পর্যবসিত হয়। যেসব দেশে স্টারলিংক ব্যবহার করা হয় না সেসব দেশে সার্ভিস জিওফেন্স বন্ধ করে রাখা হয়। এমতাবস্থায় বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ইন্টারনেটের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে হাইব্রিড মডেল প্রণয়ন করা প্রয়োজনীয়।
প্রথমত,লোকাল আইআইজি গেটওয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে ইন্টারনেট অপারেটরদের লাইসেন্স প্রদান করতে হবে এই শর্তে যে প্রথমে ডাটা মহাশূন্য থেকে সিগন্যাল গ্রাহকের নিকট পৌঁছানোর আগে তা দেশের অভ্যন্তরে আইআইজি বা লোকাল গ্রাউন্ড স্টেশনের মধ্য দিয়ে যাবে। এর ফলে যে কোনো প্রয়োজনে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে। দ্বিতীয়ত, উচ্চগতি সম্পন্ন সাবমেরিন ক্যাবল দেশের প্রাথমিক পর্যায়ে যোগাযোগের জন্য এবং যুদ্ধ, দুর্যোগের মত জরুরি অবস্থায় ব্যাকআপ হিসেবে স্টারলিংক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ডিজিটাল ইন্টারনেটের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে এককভাবে সাবমেরিন বা স্টারলিংকের উপর ভরসা করা ঠিক হবে না। নিজস্ব দেশে সাবমেরিন কেবল স্থাপন বাড়াতে হবে এবং একই সঙ্গে মহাকাশ থেকে সরাসরি সংযোগ করতে স্যাটেলাইট সুবিধা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। তবে দেশে ইন্টারনেট ব্যবস্থা সচল থাকবে এবং তথ্য আদান-প্রদান সহজতর হবে। লেখক: আনিকা আনজুম লুবনা, ইংরেজি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

স্টারলিংক বনাম সাবমেরিন ক্যাবল: ইন্টারনেটের সার্বভৌমত্ব

আপডেট সময় ০৯:২১:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বর্তমান বিশ্বে মহাকাশ ভিত্তিক স্টারলিংক স্যাটেলাইট এবং সাবমেরিন ক্যাবল উভয়ই ডাটা আদান-প্রদান, তথ্যের অবাধ চলাচল, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সাবমেরিন ক্যাবল অর্থাৎ সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করে পুরো বিশ্বে প্রায় ৯৯ শতাংশ ডাটা আদান-প্রদান হয়। এই পদ্ধতিতে অত্যন্ত কম খরচে ও অতি দ্রুত গতিতে ডাটা সরবরাহ করা যায়।
সাবমেরিন ক্যাবল গুলোর ল্যান্ডিং স্টেশনগুলো (সিএলএস) দেশের নির্দিষ্ট ভূখ-ের ভেতরে অবস্থিত থাকে। এর ফলে সরকার খুব সহজ পদ্ধতিতে এই ক্যাবলের মনিটরিং ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। এই ক্যাবল ব্যবস্থার একটি ঝুঁকি হলো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য কোনো আঘাতে ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারা দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থা পুরোপুরিভাবে অচল হয়ে যেতে পারে।
অপরদিকে স্পেসএক্স এর অধীনস্থ স্টারলিংক লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট ব্যবহার করে তারবিহীন মাধ্যমে সরাসরি ব্যবহারকারীর নিকট ইন্টারনেট পৌঁছায়। যেসব এলাকায় অপটিক্যাল ফাইবার পৌঁছানো সম্ভব নয়, সেসব প্রত্যন্ত পাহাড়ি, দ্বীপ বিশিষ্ট এলাকায় এই ইন্টারনেট ব্যবস্থা গ্রহণ করে খুব সহজেই সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়। এই পদ্ধতিতে সরাসরি মহাকাশ থেকে সিগন্যাল আদান-প্রদান হওয়ার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ এর বাইরে গিয়ে ডাটা আদান-প্রদানের ঝুঁকি রয়েছে। এটি দেশের তথ্যের নিয়ন্ত্রণকে হুমকির মুখে পর্যবসিত করে। এই কারণে বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি) বর্তমানে আইআইজি এর মাধ্যমে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তা বাধ্যতামূলক করেছে।
একটি দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা, নাগরিকদের ডাটার গোপনীয়তা এবং ইন্টারনেটের উপর কর্তৃপক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাকে ইন্টারনেটের সার্বভৌমত্ব বলে। কোনো কারণে ডাটা যদি বিদেশে চলে যায় তবে সরকারের পক্ষে তা পুনরুদ্ধার করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণœ হয়। এছাড়াও বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর নির্ভর করলে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
তাইওয়ানের মতো দ্বীপ-বিশিষ্ট রাষ্ট্র সর্বদাই শত্রু দেশ কর্তৃক ক্যাবল কেটে দিয়ে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবস্থায় ডাটার মালিকানা আমেরিকা থেকে নিয়ন্ত্রিত হওয়ার ফলে যেকোনো আইনি প্রয়োজনে তারা সার্ভারে প্রবেশ করে। এর ফলে গোয়েন্দা বাহিনী দেশের যে কোনো গোপন তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, যার ফলে তথ্য ঝুঁকিতে পর্যবসিত হয়। যেসব দেশে স্টারলিংক ব্যবহার করা হয় না সেসব দেশে সার্ভিস জিওফেন্স বন্ধ করে রাখা হয়। এমতাবস্থায় বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ইন্টারনেটের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে হাইব্রিড মডেল প্রণয়ন করা প্রয়োজনীয়।
প্রথমত,লোকাল আইআইজি গেটওয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে ইন্টারনেট অপারেটরদের লাইসেন্স প্রদান করতে হবে এই শর্তে যে প্রথমে ডাটা মহাশূন্য থেকে সিগন্যাল গ্রাহকের নিকট পৌঁছানোর আগে তা দেশের অভ্যন্তরে আইআইজি বা লোকাল গ্রাউন্ড স্টেশনের মধ্য দিয়ে যাবে। এর ফলে যে কোনো প্রয়োজনে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে। দ্বিতীয়ত, উচ্চগতি সম্পন্ন সাবমেরিন ক্যাবল দেশের প্রাথমিক পর্যায়ে যোগাযোগের জন্য এবং যুদ্ধ, দুর্যোগের মত জরুরি অবস্থায় ব্যাকআপ হিসেবে স্টারলিংক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ডিজিটাল ইন্টারনেটের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে এককভাবে সাবমেরিন বা স্টারলিংকের উপর ভরসা করা ঠিক হবে না। নিজস্ব দেশে সাবমেরিন কেবল স্থাপন বাড়াতে হবে এবং একই সঙ্গে মহাকাশ থেকে সরাসরি সংযোগ করতে স্যাটেলাইট সুবিধা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। তবে দেশে ইন্টারনেট ব্যবস্থা সচল থাকবে এবং তথ্য আদান-প্রদান সহজতর হবে। লেখক: আনিকা আনজুম লুবনা, ইংরেজি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ