ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বদলগাছীতে গ্রাম পুলিশদের মাঝে বিনামূল্যে বাইসাইকেল বিতরণ Logo মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ ৪৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে ফাহিম Logo নাচোলে মানবকণ্ঠের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo রাউজানের ডাবুয়ায় গাছ পড়ে গুরুতর আহত জাকারিয়াকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান Logo জাতীয় সংসদে শূন্য ঘোষিত মহিলা আসনে বিএনপির প্রার্থী এলিজা জামান Logo বিশ্ববাজারে ডানা মেলতে প্রস্তুত ঢাকাই মসলিন Logo রাজবাড়ীতে পেঁয়াজের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগের নানা উদ্যোগ Logo তিনি ছিলেন সাহসিকতা, নিষ্ঠা ও আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত Logo ৭ নভেম্বরের চেতনা অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করবে : রুহুল কবির রিজভী Logo বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে

ব্যাটে-বলে অসাধারণ মিরাজ

মেহেদী হাসান মিরাজ যখন ব্যাট হাতে ক্রিজে এলেন, বাংলাদেশের স্কোর ৫ উইকেটে ৩০৬। কিছুক্ষণ পর ৩০৮ রানেই নেই ৬ উইকেট। সামনে তখন অস্ট্রেলিয়ার এমন এক বোলিং আক্রমণ, যার চার সদস্যেরই টেস্ট উইকেট ৩০০ বা তার বেশি। জশ হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন। টেস্ট ইতিহাসে একই দলে এমন চার বোলারের একসঙ্গে খেলার ঘটনাও বিরলতম।
সেই আক্রমণের বিপক্ষেই মিরাজের ব্যাটে বাংলাদেশ পেরিয়েছে ৪০০। ১২৬ বলে ৬৫ রানের ইনিংসে ৬টি চার মেরেছেন তিনি। শুধু রান নয়, তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরনটাই ছিল বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি। একদিকে অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সার সামলেছেন, অন্যদিকে সুযোগ পেলেই রান নিয়ে স্ট্রাইক ধরে রেখেছেন। আট উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও হার মানেননি।
মিরাজের এই ইনিংসের গুরুত্ব বুঝতে স্কোরকার্ডের দিকে তাকানোই যথেষ্ট। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করেছে ৪২৬ রান, অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে ২২৮ রানের লিড। বিগত সাড়ে ৭ বছরে অস্ট্রিলিয়ার মাটিতে এত বড় লিড আর কেউ পায়নি। ১৩৮ ওভার ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দীর্ঘ সময় মাঠে রেখেছে বাংলাদেশ। বিগত সাড়ে ৭ বছরে অস্ট্রিলিয়ার মাটিতে যা আর কেউ করতে পারেনি।
আর এই লম্বা লড়াইয়ের শেষদিকে সবচেয়ে বড় অবদানগুলোর একটি মিরাজের। হাসান মাহমুদের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ জুটি বাংলাদেশকে আরও দূরে নিয়ে যায়। পরে তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে দলকে ৪০০ পার করান তিনি।
মিরাজের কীর্তি শুধু এই ইনিংসেই থেমে নেই। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সাত নম্বর বা তার নিচে ব্যাটিং করে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এখন তাঁর। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে তাঁর রান ২ হাজারের বেশি, উইকেটও ২০০ ছাড়িয়েছে। এই সময়ে বিশ্ব ক্রিকেটে একইসঙ্গে ২ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের এই কীর্তি আছে কেবল রবীন্দ্র জাদেজার।
ডারউইনে তাই মিরাজের ৬৫ রানকে নিছক আরেকটি ফিফটি বলা যাবে না। অস্ট্রেলিয়ার চারজন ৩০০-প্লাস উইকেটের বোলারের সামনে, চাপের মুখে, দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে খেলা এই ইনিংসটাই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিডের অন্যতম ভিত।
আর বল হাতে? দ্বিতীয় ইনিংসে স্টিভ স্মিথের মতো ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়েও ম্যাচের মোড় ঘোরানোর কাজ করেছেন সেই মিরাজই। ডারউইনে বাংলাদেশের স্বপ্নের লড়াইয়ে তাই ব্যাটে-বলে মিরাজের ছাপ স্পষ্ট।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বদলগাছীতে গ্রাম পুলিশদের মাঝে বিনামূল্যে বাইসাইকেল বিতরণ

ব্যাটে-বলে অসাধারণ মিরাজ

আপডেট সময় ০৯:৪৩:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

মেহেদী হাসান মিরাজ যখন ব্যাট হাতে ক্রিজে এলেন, বাংলাদেশের স্কোর ৫ উইকেটে ৩০৬। কিছুক্ষণ পর ৩০৮ রানেই নেই ৬ উইকেট। সামনে তখন অস্ট্রেলিয়ার এমন এক বোলিং আক্রমণ, যার চার সদস্যেরই টেস্ট উইকেট ৩০০ বা তার বেশি। জশ হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন। টেস্ট ইতিহাসে একই দলে এমন চার বোলারের একসঙ্গে খেলার ঘটনাও বিরলতম।
সেই আক্রমণের বিপক্ষেই মিরাজের ব্যাটে বাংলাদেশ পেরিয়েছে ৪০০। ১২৬ বলে ৬৫ রানের ইনিংসে ৬টি চার মেরেছেন তিনি। শুধু রান নয়, তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরনটাই ছিল বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি। একদিকে অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সার সামলেছেন, অন্যদিকে সুযোগ পেলেই রান নিয়ে স্ট্রাইক ধরে রেখেছেন। আট উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও হার মানেননি।
মিরাজের এই ইনিংসের গুরুত্ব বুঝতে স্কোরকার্ডের দিকে তাকানোই যথেষ্ট। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করেছে ৪২৬ রান, অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে ২২৮ রানের লিড। বিগত সাড়ে ৭ বছরে অস্ট্রিলিয়ার মাটিতে এত বড় লিড আর কেউ পায়নি। ১৩৮ ওভার ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দীর্ঘ সময় মাঠে রেখেছে বাংলাদেশ। বিগত সাড়ে ৭ বছরে অস্ট্রিলিয়ার মাটিতে যা আর কেউ করতে পারেনি।
আর এই লম্বা লড়াইয়ের শেষদিকে সবচেয়ে বড় অবদানগুলোর একটি মিরাজের। হাসান মাহমুদের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ জুটি বাংলাদেশকে আরও দূরে নিয়ে যায়। পরে তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে দলকে ৪০০ পার করান তিনি।
মিরাজের কীর্তি শুধু এই ইনিংসেই থেমে নেই। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সাত নম্বর বা তার নিচে ব্যাটিং করে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এখন তাঁর। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে তাঁর রান ২ হাজারের বেশি, উইকেটও ২০০ ছাড়িয়েছে। এই সময়ে বিশ্ব ক্রিকেটে একইসঙ্গে ২ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের এই কীর্তি আছে কেবল রবীন্দ্র জাদেজার।
ডারউইনে তাই মিরাজের ৬৫ রানকে নিছক আরেকটি ফিফটি বলা যাবে না। অস্ট্রেলিয়ার চারজন ৩০০-প্লাস উইকেটের বোলারের সামনে, চাপের মুখে, দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে খেলা এই ইনিংসটাই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিডের অন্যতম ভিত।
আর বল হাতে? দ্বিতীয় ইনিংসে স্টিভ স্মিথের মতো ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়েও ম্যাচের মোড় ঘোরানোর কাজ করেছেন সেই মিরাজই। ডারউইনে বাংলাদেশের স্বপ্নের লড়াইয়ে তাই ব্যাটে-বলে মিরাজের ছাপ স্পষ্ট।