স্মার্টফোন, ট্যাবলেট কিংবা অন্য গ্যাজেটের চার্জ ফুরিয়ে গেলে পাওয়ার ব্যাংকই ভরসা। কিন্তু বিমানে এই ছোট্ট যন্ত্র থেকে তৈরি হতে পারে বড় বিপদ। সম্প্রতি দিল্লি থেকে চেন্নাইগামী ইন্ডিগোর একটি বিমানে এক যাত্রীর ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার ঘটনায় বিমানটিকে হায়দরাবাদে জরুরি অবতরণ করানো হয়। এই ঘটনার পর বিমানে পাওয়ার ব্যাংক ও অতিরিক্ত ব্যাটারি বহনের নিয়ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যাত্রার আগে কোন নিয়মগুলো জানা জরুরি?
বিমানে পাওয়ার ব্যাংক কোথায় রাখবেন?
বিমানে পাওয়ার ব্যাংক বহনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেটি কোথায় রাখা হচ্ছে। বিমানের ব্যাগেজ নীতি অনুযায়ী, পাওয়ার ব্যাংক এবং অতিরিক্ত লিথিয়াম ব্যাটারি চেক-ইন করা লাগেজে রাখা যায় না। এগুলো হাতব্যাগে রাখতে হয়, যাতে প্রয়োজনে যাত্রী সহজেই সেগুলোর নাগাল পান।
এছাড়া পাওয়ার ব্যাংক বা অতিরিক্ত ব্যাটারি বিমানের মাথার ওপরের লাগেজ রাখার বন্ধ জায়গায় রাখাও নিষিদ্ধ। এর কারণ, ওই জায়গায় ব্যাটারি থেকে ধোঁয়া বা আগুন বের হলে তা দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। তাই যাত্রার সময় পাওয়ার ব্যাংক নিজের কাছে বা অনুমোদিত এমন জায়গায় রাখুন, যেখান থেকে সহজে বের করা যায়। বিমান সংস্থার নির্দিষ্ট নির্দেশনা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
কত ক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক নেওয়া যাবে?
পাওয়ার ব্যাংকের ব্যাটারির ক্ষমতা সাধারণত মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ার অথবা ওয়াট-আওয়ারে লেখা থাকে। বিমানে বহনের নিয়ম নির্ধারণে ওয়াট-আওয়ারের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। ইন্ডিগোর উল্লেখিত নীতি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে ১০০ ডয (ওয়াট-আওয়ার) পর্যন্ত ক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক ও অতিরিক্ত লিথিয়াম ব্যাটারি বহন করা যায়। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কতটি বহন করা যাবে, তা বিমান সংস্থার নিয়ম ও নিরাপত্তা পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে।
১০০ ডয (ওয়াট-আওয়ার)-এর বেশি থেকে ১৬০ ডয (ওয়াট-আওয়ার) পর্যন্ত ক্ষমতার ব্যাটারি বহনের ক্ষেত্রে বাড়তি বিধিনিষেধ রয়েছে। ইন্ডিগোর নীতিতে এই শ্রেণির ব্যাটারি বহনযোগ্য চিকিৎসার যন্ত্রের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে অনুমোদিত এবং আগাম অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। তাই বেশি ক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে নেওয়া উচিত।
বিমানের ভেতরে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করা যাবে?
পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখার অনুমতি থাকলেও বিমানের ভেতরে সেটি ব্যবহার করার নিয়ম আলাদা হতে পারে। ডিজিসিএর নির্দেশিকা এবং সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার নিয়ম মেনে চলা জরুরি। প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করে মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র চার্জ দেওয়া নিষিদ্ধ। বিমানের আসনে থাকা চার্জিং পোর্ট ব্যবহার করেও পাওয়ার ব্যাঙ্কের মাধ্যমে অন্য ডিভাইস চার্জ করা যাবে না। যাত্রার আগে নিজের বিমান সংস্থার সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করুন। বিমানের কর্মীরা নিরাপত্তার স্বার্থে যে নির্দেশ দেবেন, তা অনুসরণ করাও জরুরি।
ব্যাটারি থেকে আগুন লাগে কেন?
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে আগুন লাগার একটি কারণ হলো ‘থার্মাল রানঅ্যাওয়ে’। ব্যাটারির ভেতরে কোনো ত্রুটি, শর্ট সার্কিট, শারীরিক ক্ষতি বা অতিরিক্ত তাপের কারণে এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তখন ব্যাটারির তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং ধোঁয়া, দাহ্য গ্যাস কিংবা আগুন তৈরি হতে পারে। এ কারণে ফুলে যাওয়া, ফেটে যাওয়া, অতিরিক্ত গরম হওয়া বা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করা উচিত নয়। নিম্নমানের বা অনির্ভরযোগ্য উৎসের ব্যাটারি কেনার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকুন।
যাত্রার আগে এই সতর্কতাগুলো মেনে চলুন
পাওয়ার ব্যাংক ও অতিরিক্ত ব্যাটারি চেক-ইন লাগেজে রাখবেন না।
ব্যাটারি এমনভাবে রাখুন, যাতে তার সংযোগস্থল ধাতব বস্তু বা অন্য ব্যাটারির সংস্পর্শে এসে শর্ট সার্কিট তৈরি করতে না পারে।
মূল প্যাকেজিং বা আলাদা সুরক্ষিত পাউচ ব্যবহার করুন; প্রয়োজনে টার্মিনাল ঢেকে রাখুন।
ক্ষতিগ্রস্ত বা অস্বাভাবিক গরম হওয়া পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে নেবেন না।
যাত্রার আগে বিমান সংস্থার ওয়েবসাইটে ব্যাটারির ক্ষমতা ও বহনের সর্বশেষ নিয়ম দেখে নিন।
বিমানে পাওয়ার ব্যাংক বহন করা মানেই ঝুঁকি তৈরি করা নয়। তবে লিথিয়াম ব্যাটারির সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে সঠিকভাবে সংরক্ষণ, নির্ধারিত সীমা মেনে চলা এবং বিমানের কর্মীদের নির্দেশ অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য অসতর্কতা যাতে বড় দুর্ঘটনার কারণ না হয়, সে জন্য যাত্রার আগেই নিয়মগুলো জেনে নেওয়া ভালো।
সংবাদ শিরোনাম
বিমানে পাওয়ার ব্যাংক বিস্ফোরণ এড়াতে করণীয়
-
আইটি - আপডেট সময় ০৮:৫২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- 4
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























