খাবার বা পানি গিলতে গেলেই ব্যথা, বুক জ্বালা কিংবা গলায় খাবার আটকে থাকার মতো অনুভূতি-এ ধরনের সমস্যাকে অনেকেই সাধারণ গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। অথচ এসব উপসর্গের পেছনে থাকতে পারে ইসোফ্যাগাইটিস।
এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে খাদ্যনালির ভেতরের আবরণে প্রদাহ ও জ্বালা তৈরি হয়। খাদ্যনালি হলো গলা থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত খাবার ও পানীয় পৌঁছে দেওয়ার নালি। ইসোফ্যাগাইটিস হলে খাবার গিলতে কষ্ট বা ব্যথা হতে পারে এবং কখনো বুকেও ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
ইসোফ্যাগাইটিস কী?
ইসোফ্যাগাইটিস মূলত খাদ্যনালির প্রদাহ। বিভিন্ন কারণে খাদ্যনালির টিস্যুতে জ্বালা, ফোলাভাব বা প্রদাহ তৈরি হলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু সংক্রমণ নয়, পাকস্থলীর অ্যাসিড বারবার খাদ্যনালীতে উঠে আসা, কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ, অ্যালার্জি-সম্পর্কিত ইওসিনোফিলিক ইসোফ্যাগাইটিসসহ একাধিক কারণে এটি হতে পারে।
এর মধ্যে সংক্রামক ইসোফ্যাগাইটিস তুলনামূলকভাবে বিরল। ছত্রাক, ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে এটি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, যেমন কিছু ক্যানসার রোগী, অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত মানুষ, তাদের ঝুঁকি বেশি। কিছু ক্ষেত্রে স্টেরয়েড বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সঙ্গেও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কেন হয় এই রোগ?
ইসোফ্যাগাইটিসের সবচেয়ে পরিচিত কারণগুলোর একটি হলো গ্যাস্ট্রোইসোফ্যাজিয়াল রিফ্লাক্স বা জিইআরডি। পাকস্থলীর অ্যাসিড বারবার খাদ্যনালিতে উঠে এলে সেখানকার আবরণে দীর্ঘদিন ধরে জ্বালা ও প্রদাহ তৈরি হতে পারে।
এছাড়া কিছু ওষুধও খাদ্যনালির ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত পানি ছাড়া বড়ি খাওয়া, ওষুধ খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া বা ঘুমানোর ঠিক আগে ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে কিছু ওষুধ খাদ্যনালীর ভেতরে দীর্ঘ সময় আটকে থেকে জ্বালা তৈরি করতে পারে। কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক ও হাড়ের চিকিৎসায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট ওষুধের সঙ্গে এমন সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে।
আরেক ধরনের ইসোফ্যাগাইটিস হলো ইওসিনোফিলিক ইসোফ্যাগাইটিস। এতে খাদ্যনালির ভেতরে ইওসিনোফিল নামের এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা বেশি জমে প্রদাহ তৈরি করতে পারে। এটি অ্যালার্জি বা নির্দিষ্ট খাবারের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
ইসোফ্যাগাইটিসের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া বা গিলতে গেলে ব্যথা হওয়া। কারও কারও মনে হতে পারে খাবার খাদ্যনালিতে আটকে আছে। এর সঙ্গে বুক জ্বালা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স এবং বুকের মাঝামাঝি ব্যথাও হতে পারে।
সংক্রমণজনিত ইসোফ্যাগাইটিসে বিশেষ করে গিলতে গেলে তীব্র ব্যথা হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। কারো ক্ষেত্রে একই সঙ্গে মুখে ছত্রাকের সংক্রমণও থাকতে পারে।
ইসোফ্যাগাইটিস আর খাদ্যনালির ক্যানসার কি একই?
না, ইসোফ্যাগাইটিস ও খাদ্যনালির ক্যানসার এক রোগ নয়। ইসোফ্যাগাইটিস হলো খাদ্যনালির প্রদাহ, যার পেছনে রিফ্লাক্স, সংক্রমণ, ওষুধ বা অ্যালার্জি-সম্পর্কিত বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
চা-ফলের রস দিয়ে ওষুধ খেলে শরীরে কী ঘটে?
অন্যদিকে খাদ্যনালির ক্যানসার হলো খাদ্যনালির কোষে ক্যানসারজনিত পরিবর্তন ও অস্বাভাবিক কোষবৃদ্ধির রোগ। তবে দীর্ঘদিনের রিফ্লাক্স খাদ্যনালির টিস্যুতে পরিবর্তন ঘটিয়ে কিছু ক্ষেত্রে ব্যারেট খাদ্যনালির মতো অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে, যা খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
ফুসফুস ভালো রাখতে প্রতিদিনের যেসব অভ্যাস জরুরি
তাই খাবার গিলতে নিয়মিত কষ্ট বা ব্যথা হলে বিষয়টি শুধু গ্যাস-অ্যাসিডিটি ভেবে ফেলে রাখা ঠিক নয়। বিশেষ করে খাবার আটকে যাওয়ার অনুভূতি, ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ বা তীব্র বুকব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।প্রয়োজনে কারণ নির্ণয়ের জন্য এন্ডোস্কোপি ও অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, মেডিকেল নিউজ টুডে
সংবাদ শিরোনাম
খাবার গিললেই ব্যথা? গ্যাস্ট্রিক ভেবে যে ভুল করছেন
-
খবরপত্র ডেস্ক: - আপডেট সময় ০৮:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 12
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ


























